Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: কলকাতার ইডেন গার্ডেনে রবিবার ছিল মহারণ। ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে এই ম্যাচকে বলা হচ্ছিল ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনাল। সেমিফাইনালে যেতে হলে জিততেই হবে এই ম্যাচ। সে ভারতই হোক বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দলেরই টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার আট পর্বের কিছু ভুল সমস্যায় ফেলেছে। যার ফল শেষ চারের লক্ষ্যে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই দিন যার, সেমিফাইনাল তার। আগেই হুমকি দিয়ে রেখেছেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করার। সেই ২০১৬ সাল, যখন টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে হারতে হয়েছিল ভারতকে। ১০ বছর আগের ইতিহাস নিয়ে অবশ্য ভাবতে রাজি নন ভারত অধিনায়ক। বরং মাটিতে পা রেখেই সেমিফাইনালের দরজা খুলতে চান তিনি। সে কারণে এদিন টস জিতে প্রথমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন তিনি। যদিও ২০০ রানের গন্ডি পার করতে পারেনি তবে টি২০-র মঞ্চে যখন এমন মাস্টউইন ম্যাচ হয় তখন ১৯৫ নেহাৎই কম রান নয়। এই লক্ষ্যে নেমে প্রায় একা হাতেই ভারতের নৌকাতে সুপার আট থেকে সেমিফাইনালের তীরে পৌঁছে দিলেন সঞ্জু স্যামসন, ৪ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার অধিনায়ক শাই হোপ ও রোস্টন চেস ওপেনিং জুটিতে ৬২ রান করে ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলেন। শাই হোপ ৩২ ও রোস্টন চেস ৪০ রান করে আউট হন। তিন ও চার নম্বরে নেমে শিমরণ হেটমেয়ার ২৭ ও শেরফানে রাদারফোর্ড ১৪ রানে করে ফিরে যাওয়ায় কিছুটা ধাক্কা খায় ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলায় ফেরান পরের দুই ব্যাটার রোভমান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডার। ৩৪ রানে পাওয়ার ও ৩৭ রানে হোল্ডার অপরাজিত থেকে দলের রানকে ১৯৫-এ নিয়ে যান মাত্র চার উইকেট হারিয়ে। দু’জনে অপরাজিত ৭৬ রানের জুটি গড়েন।

ভারতের হয়ে দুই উইকেট নেন যশপ্রীত বুমরাহ। একটি করে উইকেট হার্দিক পাণ্ড্যে ও বরুণ চক্রবর্থীর। যদিও অভিষেক শর্মা জোড়া ক্যাচ ফেলেন। বিশ্বকাপের শুরু থেকে সুপার আটের এর ম্যাচে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে প্রথম তাঁর ব্যাটে রান আসে। না হলে এর আগে শূন্য রানের হ্যাটট্রিক করে ফেলেছিলেন তিনি। তবে গত ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের তাঁর উপর টানা ভরসার মান রাখেন। তবে বাবার অন্তেষ্টি শেষে দলের সঙ্গে যোগ দিলেও প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি রিঙ্কু সিংয়ের। এদিনও তাঁর জায়গায় দেখা গেল সঞ্জু স্যামসনকে। আর মান রাখলেন তিনিই। কিছুটা সঙ্গ দিলেন তিলক ভার্মা।

এদিন ১৯৬ রানের লক্ষ্যে ভারতের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। গত ম্যাচে রানে ফিরলেও এদিন আবার ব্যাটে ভরসাযোগ্য রান এল না অভিষেকের। ধরে খেলাটা শিখতে হবে যুবরাজ সিংয়ের ছাত্রকে। তিন নম্বরে নেমে একি পথে হাঁটলেন ঈশান কিষাণও। দু’জনেই বড় রানের লক্ষ্যে ক্যাচ তুলে দিলেন প্রতিপক্ষ ফিল্ডারের হাতে। দু’জনেই করলেন ১০ রান করে। এর পর ভরসা দিতে পারলেন না অধিনায়ক সূর্যকুমারও। তিনি ফিরলেন ১৮ রানে। এর পর স্যামসনের সঙ্গে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের হাল ধরার চেষ্টা করলেন তিলক ভার্মা। কিন্তু তিনিও বড় রানে পৌঁছতে পারলেন না, ফিরলেন ২৭ রানে। এক কথায় একা লড়লেন ভারতের উইকেট কিপার ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন। এর পর বাকি ম্যাচে তাঁকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষে।

শেষ পর্য়ন্ত টিকে থেকে লড়াই দিলেন। শেষ ওভারে ভারতের জিততে হলে দরকার ছিল ৭ রান। স্ট্রাইকে সঞ্জু স্যামসন। উল্টোদিকে ততক্ষণে ১৭ রান করে ফিরে গিয়েছেন হার্দিক পাণ্ড্যে। এসেছেন শিভম দুবে। বল হাতে রোমারিও শেফার্ড। প্রথম বলেই তুলে মারলেন গ্যালারিতে। পরের বলেই বাউন্ডারি। খেলা শেষে সঞ্জুর নামের পাশে ৫০ বলে ৯৭ অপরাজিত সঙ্গো ১২টি বাউন্ডারি ও চারটি ওভার বাউন্ডারি। উইনিং শট হাঁকিয়েই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন, আকাশের দিকে তাকালেন যেন নিজের ভগবানকেই ধন্যবাদ জানালেন। পুরো গ্যালারি দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাল। শেষ পর্যন্ত জয় এল, সঙ্গে খুলে গেল সেমিফাইনালের দরজাও। তবে কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেই এল এই জয়। যা চিন্তায় রাখবে গৌতম গম্ভীরকে। বিশেষ করে দলের টপ অর্ডার ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংও এদিন ধাক্কা দিতে ব্যর্থ। শিভম দুবে অপরাজিত থাকলেন ৮ রানে। ১৯.২ ওভারে ভারত থামল ১৯৯-৫-এ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দুটো করে উইকেট নিলেন জেসন হোল্ডার ও শামার জোসেফ। এক উইকেট আকিল হোসেনের।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...