ওয়াসিম আক্রম
অলস্পোর্ট ডেস্ক: পরপর ৭ ম্যাচে ভারতের কাছে হারে পকিস্তানের কিংবদন্তী ক্রিকেটার ওয়াসিম আক্রমের যখন মন খারাপ, হতাশাগ্রস্ত, তখন পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আগা এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্যায়ে পর সুপার ফোরেও ভারতের কাছে লজ্জাজনক হারে সাফাই দিতে ব্যস্ত। বলা ভাল হারের অজুহাত দিতে। নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা ধরনের যুক্তি।
মে মাসে লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তিনটি টি২০ ম্যাচ খেলেছিল পাকিস্তান। সলমন আলি আগার দল তিনটি ম্যাচেই ২০০র ওপর রান তুলেছিল। কিন্তু তারপর থেকে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা সেই ফর্ম দেখাতে পারেননি। সলমনের মতে, ‘ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আমরা যে পিচে খেলেছিলাম, সেটা ২০০ রান তোলার মতোই ছিল। তারপর আমরা বাংলাদেশ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আমেরিকায়, শারজায় ক্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছি। এখন দুবাইয়ে যে পিচে খেলছি, তার সঙ্গে আগের পিচের পার্থক্য অনেক। দুবাইয়ের পিচ ২০০রান তোলার উপযোগী নয়। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। ভাল পিচ দিলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে ব্যাটিং দেখা গিয়েছিল, তা এখানেও দেখা যেত। ’
সলমনের এই ছেঁদো যুক্তি মানতে নারাজ পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার ওয়াসিম আক্রম। তাঁর মতে, ভারতীয় ব্যাটাররা যেভাবে পাকিস্তান বোলারদের শুরু থেকে চালিয়ে রান তুলেছে, তাতে এসব যুক্তি খাটে না। শুরুতে অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিল জুটি, আর পরে এসে তিলক বর্মা পাকিস্তান বোলারদের পিটিয়ে ছাতু করেছে। সেখানে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কোনওসময়ই নিজেদের ফর্ম তুলে ধরতে পারেনি। পিচকে দায়ি করা অর্থহীন। আসল হল ম্যাচ টেম্পারেমেন্ট ও নিজেদের সঠিক ভাবে প্রয়োগের অভাব।’
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ন্যাচারাল হিটার মহম্মদ হ্যারিসের আগে হুসেন তালাতকে ব্যাট করতে পাঠানো নিয়ে সলমনের ব্যাখ্যা, ‘ উইকেট এমন ছিল যে ব্যাট করতে নেমেই সট নেওয়া বেশ কঠিন ছিল। মাঝে দু’জন সেট ব্যাটার আউট হয়ে যাওয়াতে আরও বেশি করে ছন্দপতন ঘটে। মনে করি তালাতকে আগে পাঠানো কোনও ভুল ছিল না। তালাত স্পিনটা ভাল খেলে। তাছাড়া সেসময় রাইট ও লেফট ব্যাটিং কম্বিনেশনটা বজায় রাখতে চেয়েছিলাম বড় রান তোলার স্বার্থে।’
পাকিস্তানের স্ট্রাইক বোলার শাহিন শাহ আফ্রিদি ও স্পিনার আবরার আহমেদের অফ ফর্মের পরেও পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক সলমন। কেন ফাহিম আশরাফকে দেরিতে ব্যবহার করলেন। ফাহিম বল করতে এসে শুভমানকে আউট করেন। তখন ম্যাচ তো হাতছাড়া হয়ে গেছে। সলমনে বক্তব্য, ‘ এক একটা দিন অফডে যায় সব ক্রিকেটারই। ওদের অতীতটা মাথায় রাখুন। ফাহিমকে পরে আনাটা পরিকল্পনার মধ্যেই ছিল। ওকে ১০ ওভার পরে ব্যবহার করা হবে। কারণ ওর অফকাটার ও লেংথ বল সেসময় প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ঝামলায় ফেলবে বলে। ও বল করতে আসার পর সেটা হয়েওছিল। আসলে ম্যাচ হারলে, অনেক কিছু ক্লিক না করলে, লোকে তো অনেক খুঁত খুজবেই। এটা তেমনই।’
পাকিস্তান অধিনায়ক এখন ভারতের বিরুদ্ধে হার ঝেড়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ফোকাস করতে চান জিতে ফাইনালের ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
