অলস্পোর্ট ডেস্ক: মরশুমের শুরুতে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে জিততে পারেনি ইস্টবেঙ্গল এফসি । এ বার মরশুমের মাঝামাঝি সুপার কাপের ফাইনাল থেকে একধাপ দূরে তারা। বুধবার জামশেদপুর এফসি-কে হারাতে পারলে মরশুমের দ্বিতীয় ফাইনালে উঠবে লাল-হলুদ বাহিনী। খাতায় কলমে তারা কিছুটা হলেও এগিয়ে। কিন্তু সেমিফাইনালের লড়াইটা সোজা হবে না।
ইস্পাতনগরীর দল জামশেদপুর এফসি-র পক্ষেও একই কথা প্রযোজ্য। দুই দলই গ্রুপ পর্বে শুধু যে অপরাজিত থেকেছে তা-ই নয়। এখন পর্যন্ত কোনও ম্যাচে হারেনি। এই তিন ম্যাচে সাত গোল দিয়ে তিন গোল খেয়েছে ইস্পাতনগরীর দল। অন্য দিকে, আট গোল দিয়ে চার গোল খেয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
গত ৪ নভেম্বর ইন্ডিয়ান সুপার লিগে কেরালা ব্লাস্টার্সের কাছে হারের পর থেকে টানা আটটি ম্যাচে হারেনি কলকাতার দল। এর মধ্যে চারটিতে ড্র ও চারটিতে জয় পেয়েছে তারা। আইএসএলে চেন্নাইন এফসি, পাঞ্জাব এফসি, মুম্বই সিটি এফসি ও ওডিশা এফসি-র বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করে তারা। সেই লিগেই নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৫-০-য় হারানোর পাশাপাশি চলতি সুপার কাপেও তিনটি ম্যাচে জিতেছে। এমন ধারাবাহিকতা বহুদিন পর দেখতে পাচ্ছেন লাল-হলুদ সমর্থকেরা।
চলতি সুপার কাপে নর্থইস্ট, কেরালা ব্লাস্টার্স, ও শিলং লাজং এফসি-কে হারানোর আগে আইএসএলে পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে হারে জামশেদপুর, একটিতে ড্র করে ও অপরটিতে জেতে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের মতো অতটা ধারাবাহিক নয় তারা। কোচ হিসেবে খালিদ জামিল দায়িত্ব নেওয়ার পর সুপার কাপে এসে যে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে জামশেদপুর, তা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।
ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক সাফল্যের তালিকায় রয়েছে কলকাতা ডার্বি, যা তাদের আত্মবিশ্বাস এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। চার দিন আগেই মোহনবাগান এসজি-র বিরুদ্ধে তাদের ৩-১ জয়ের প্রভাব যে যথেষ্ট পড়বে বুধবারের সেমিফাইনালে এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
কার্যত তা মেনেও নিয়েছেন লাল-হলুদ শিবিরের স্প্যানিশ কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত। তিনি বলেন, “মোহনবাগান দেশের অন্যতম সেরা দল। গ্রুপে ওরাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দী ছিল। তাই ওদের হারানোটা আমাদের কাছে বড় ব্যাপার। ড্রেসিং রুমে এখন দারুন মেজাজে রয়েছে ছেলেরা। আমাদের পরিকল্পনাও তৈরি। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও খুবই ভাল হচ্ছে”।
ডুারান্ডের পরে ফের ফাইনালে ওঠার সুযোগটাকে যে ভরপুর কাজে লাগাতে চান তাঁর দলের খেলোয়াড়রা, তা জানিয়ে কুয়াদ্রাত বলেন, “দলের ছেলেরা ডুরান্ড কাপের পর আবার ফাইনালে উঠতে চায়। তাই ওরা সেমিফাইনাল জেতার ব্যাপারে মরিয়া। ভাল খেলছে। ভাল প্রস্তুতি নিচ্ছে, পরিশ্রম করছে। এই ম্যাচটা জেতা খুবই জরুরি। সেমিফাইনাল সব সময়ই বড় ম্যাচ ও কঠিন ম্যাচ। এই ম্যাচে আমাদের সেরাটা দিতেই হবে”।
গত আট ম্যাচে অপরাজিত থাকা প্রসঙ্গে কুয়াদ্রাত বলেন, “ধারাবাহিকতা আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা গত কয়েক বছরে ইস্টবেঙ্গলের ছিল না। আমাদের মুম্বই সিটি এফসি, বেঙ্গালুরু এফসি-র মতো দলের বিরুদ্ধে ভাল ফল রয়েছে। গত কয়েকটি ম্যাচে আমরা বেশি গোল খাইনি। এটা খুবই জরুরি। কারণ, বেশি গোল খেলে জেতা কঠিন হয়ে যায়। দলের ছেলেদের সেটা বোঝানোর পর থেকে আমাদের গোল খাওয়া অনেক কমেছে। এই টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচে দু’গোল খেয়েছি আমরা। তার আগে আইএসএলের তিনটি ম্যাচে কোনও গোল খাইনি। এগুলো খুব ভাল ইঙ্গিত”।
কার্ড সমস্যার জন্য এই ম্যাচে দলের স্প্যানিশ আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বোরহা হেরেরাকে পাবে না ইস্টবেঙ্গল। দলের আক্রমণের ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট কার্যকরী ভূমিকা পালন করেন। বুধবার বোরহাকে পাবেন না জেনে লাল-হলুদ কোচের প্রতিক্রিয়া, “বেরহাকে ছাড়াই আমাদের খেলতে হবে। এটা আমাদের পক্ষে ভাল খবর নয়। যেখানে ছ’জন বিদেশিকে নিয়ে খেলতে পারছিলাম, সেখানে একজন কম নিয়ে খেলতে হবে আমাদের। তবে এটা রেফারির ভুলে হয়েছে। তার ভুলের খেসারত আমাদের এ ভাবে দিতে হচ্ছে। এটা ঠিক নয়”।
ইস্টবেঙ্গলেরই প্রাক্তনী খালিদ জামিল কোচ হিসেবে যোগ দেওয়ার পর থেকে জামশেদপুর এফসি ধারাবাহিকতা ফিরে পেয়েছে। তারা এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল খেলছে ও ম্যাচও জিতছে। সেই জামশেদপুরের বিরুদ্ধেই সেমিফাইনালে লড়াইটা যে সহজ হবে না, তা মেনে নিয়ে সাংবাদিকদের কুয়াদ্রাত বলেন, “এখন আগের চেয়ে ভাল খেলছে। ধারাবাহিক ভাবে ম্যাচ জিতছে। শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। যার ফলে ওদের হারাতে গেলে আমাদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। তবে শেষ তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য করেই জিতেছি আমরা। এই ম্যাচেও সেটাই করার চেষ্টা করব। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে হবে আমাদের”।
ইস্টবেঙ্গলের ব্রাজিলীয় তারকা ফরোয়ার্ড ক্লেটন সিলভা যেমন গোলের মধ্যে রয়েছেন, প্রথম ও তৃতীয় ম্যাচে দুটি করে গোল করেন, তেমনই জামশেদপুরের ড্যানিয়েল চিমা চুকুউ, যিনি ভারতে এসে প্রথম লাল-হলুদ শিবিরেই খেলেছিলেন, তিনিও ভাল ফর্মে রয়েছেন। এ পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন তিনি। ফলে দুই দলের পেনাল্টি এরিয়ায় এই দুই তারকাকে কড়া পাহাড়ায় রাখতে পারে তাদের প্রতিপক্ষ।
হাভিয়ে সিভেরিও গত ম্যাচে শুরুর দিকে তেমন ভাল খেলতে না পারলেও আধ ঘণ্টা পর থেকে তৎপর ভূমিকা পালন করেন। এই ম্যাচে তিনি অবশ্যই নামবেন। তবে বোরহা না থাকায় বিষ্ণু পুথিয়াকেও শুরু থেকে নামাতে পারে ইস্টবেঙ্গল। দলের বাদবাকি অংশে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, জামশেদপুরের আক্রমণে চিমার সঙ্গে স্টিভ আম্বরিকে জুটি বাঁধতে দেখা যেতে পারে। মাঝমাঠ থেকে তাঁদের সাহায্য করার জন্য থাকবেন অ্যালেন স্টেভানোভিচ ও জেরেমি মানজোরো। এলসিনহো, প্রতীক চৌধুরি, রে তাচিকাওয়া-সহ সম্ভবত চার ব্যাকে খেলবে জামশেদপুর। সেক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গলের ফরোয়ার্ডদের গোলের দরজা খুলতে অনেক পরিশ্রম করতে হতে পারে।
ম্যাচ: সেমিফাইনাল- ইস্টবেঙ্গল এফসি বনাম জামশেদপুর এফসি (সন্ধ্যা ৭.৩০)
টুর্নামেন্ট: কলিঙ্গ সুপার কাপ, ২০২৩-২৪
ভেনু: কলিঙ্গ স্টেডিয়াম, ভুবনেশ্বর
অনলাইন স্ট্রিমিং: জিও সিনেমা
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
