সুচরিতা সেন চৌধুরী: আইএসএল ২০২৩-২৪-এর প্রথম ডার্বি এখন অতীত। দুই দল পয়েন্ট ভাগভাগি করে নিয়েছে ২-২ ম্যাচ শেষে। আইএসএল ডার্বির ইতিহাসে এই প্রথম পয়েন্ট পেল ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে, এই প্রথম জয় পেল না মোহনবাগান। ম্যাচের ফল যাই হোক, আর তার পিছনে যাই ইতিহাস থাাকুক না কেন একটা বিষয়ে দুই কোচই দাঁড়িয়ে একই জায়গায়। আর সেটা হল রেফারিং। এক কথায় হাবাস হোক বা কুয়াদ্রাত, এমনকি শুভাশিস বোসও আঙুল তুলে গেলেন রেফারির দিকে। হাবাস যখন প্রশ্ন তুললেন ইস্টবেঙ্গলের পাওয়া পেনাল্টি নিয়ে তখন কুয়াদ্রাতের প্রশ্ন মোহনবাগানের শেষ গোল নিয়ে।
তবে পুরো ম্যাচে দুই দল দাঁপিয়ে খেলল। শেষ পর্যন্ত একে অপরকে মত দেওয়ার চেষ্টা করে গেলেন ফুটবলাররা। রেফারির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ফুটবলের মান নিয়ে কোনও বিতর্ক থাকার কথা নয়। দুই কোচই খুশি তাঁদের ফুটবলারদের নিয়ে। ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত বলছিলেন, “আমি খুশি ছেলেদের খেলা নিয়ে। ওরা সবাই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে। মহেশ দারুণভাবে অপারেট করেছে। অনেক গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছে, সুযোগ নষ্ট হয়েছে। জেতা ম্যাচ ছিল।” তবে রেফারি নিয়ে সরাসরি প্রশ্নে উত্তর না দিলেও পরে তিনি স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, তিনি মোটেও সন্তুষ্ট নন।
দিমিত্রির যে গোলে মোহনবাগান ৮৭ মিনিটে সমতায় ফিরল সেটা কোনওভাবেই মানতে পারছিলেন না কুয়াদ্রাত। মাঠের মধ্যেই তাঁরে প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়। তিনি বলিলেন, “ওটা ফাউল ছিল।” তার পরও গোল দেওয়াটা হজম হচ্ছে না তাঁর। যে কারণে সাংবাদিক সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে মুখ না খুললেও, মিক্স জোন দিয়ে বেরনোর সময় ‘হার্ড লাক’এর জবাবে হাসতে হাসতে বলে গেলেন, “হার্ড রেফারিং”। সুপার কাপে রেফারিং নিয়ে প্রবল সমালোচনা করে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তার পর থেকে তিনি আর রেফারি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে এদিন অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে আটকাতে পারলেন না।
এদিন ম্যাচের ফল নিয়ে অবশ্য অখুশি তিনি। বলছিলেন, “আমরা নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেছি, ৩-১ হতে পারত ফল। ওরাও খুব ভাল খেলেছে।” হাবাস বলছেন, “আমা দল যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুশি।” এদিকে উত্তেজনার এই ম্যাচে চোট সারিয়ে প্রথম নেমেও বেশিক্ষণ মাঠে থাকতে পারেননি আনোয়ার আলি। যদিও কোচ হাবাস বলছিলেন, “অনুশীলনে তো ওকে দেখে একদম ফিটই মনে হযেছিল তাই নামিয়েছি।” তিনি এও মেনে নিলেন, প্রথমেই আনোয়ারের বেরিয়ে যাওয়া দলের উপর প্রভাব ফেলেছে।
একইভাবে দারুণ ছন্দে থাকা ইস্টবেঙ্গলের মহেশের চোটও ভাবাচ্ছে কোচ কুয়াদ্রাতকে। এই ম্যাচ বেশ কিছু চোট হয়েছ দুই দলেরই। এবার থেকেই আবার শুরু টানা আইএসএল ম্যাচ। তার মধ্যে দলের গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ারদের চোটে চিন্তার ভাজ কোচেদের কপালে। তবে দলের জুনিয়রদের তৈরি করে রিজার্ভ বেঞ্চ যে শক্তিশালী করতে চাইছে এদিন কুয়াদ্রাতের দল সাজানোতেই পরিষ্কার। যদিও তাঁর হাতে আর কোনও বিকল্পও ছিল না। তিনি ভরসা রাখতে চান ভারতীয়দের উপর। অন্যদিকে হুগো বুমৌসকে ছেটে ফেললেন নতুন করে ভাবতে হবে হাবাসকে। তাঁর হাতেও বেশ কিছু শক্তিশালী ভারতীয় প্লেয়ার রয়েছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
