Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ প্রস্তাব , আর পাল্টা প্রস্তাব। তা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসাই চলছে। কোনও সমাধানের রাস্তা এখনও পর্যন্ত মেলেনি আইএসএল শুরু নিয়ে। আসলে এআইএফএফ কমিটি ও ক্লাব জোটের ইগোর লড়াইয়ে ভারতীয় ফুটবল রসাতালে যেতে বসেছে। ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবের সঙ্গে আইএসএলের পরিচারনার দায়িত্বে থাকা এফএসডিএলের বিতর্কের জেরে দেশের একনম্বর লিগ আয়োজন ঘিরে জট তৈরি হয়েছিল। তা আরও জট পাকিয়ে যায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট সংশোধিত নতুন সংবিধান না দেওয়া পর্যন্ত আইএসএল নিয়ে আলোচনা এগোনোই সম্ভব ছিল না। সেই সংবিধান পাওয়ার পরও জট ছাড়েনি আইএসএল আয়োজনের জন্য এআইএফএফ গ্লোবাল টেন্ডার ডেকে নতুন বানিজ্যিক সহযোগী খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে।

বিড ইভালুয়েশন কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে কোনও বিডার এগিয়ে আসেনি আইএসএলে বিনিয়োগ করতে। বুঝতে অসুবিধা হয়নি এর পেছনে যাবতীয় কলকাঠি নাড়ার কাজটা করছে এফএসডিএল। মনোভাবটা পরিষ্কার নিজেদের যখন ফেডারেশন সভাপতি কল্যানের তাড়নায় সরে যেতে বাধ্য হয়েছে, তখন অন্য কাউকে আইএসএলে বিনিয়োগ করতে দিয়ে কল্যানকে নাম কিনতে দেওয়া হবে না। এতেই আইএসএল ঘিরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা এখনও ঘোচেনি। এমনকি কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য, অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার মেহতা সরাসসির হস্তক্ষেপের পরও।

আইএসএল আয়োজন ঘিরে ফেডারেশন সভাপতি কল্যান কোনঠাসা বুঝেই ক্লাবজোট নিজেরা দেশের সর্বোচ্চ লিগ করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাবের শর্ত ছিল এমনই , যাতে এআইএফএফের অস্তিত্ব বলে কিছু থাকত না। একমাত্র ইস্টবেঙ্গলই ক্লাব জোটের দেওয়া প্রস্তাবের সঙ্গে একমত পোষণ করেনি। তারা সাফ বলেছিল, সুপ্রিম কোর্ট যেমন চেয়েছে, তেমনই দেশের সর্বোচ্চ লিগ অর্থাৎ আইএসএল আয়োজনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের হাতে। ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারন সভাতেও ক্লাব জোটের প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। এটা ভালভাবে নেয়নি ক্লাব জোট। তাই এআইএফএফের তিন সদস্যের কমিটি আইএসএল আয়োজনের স্বার্থে নতুন প্রস্তাব সামনে রাখলে ক্লাবজোটের প্রতিনিধিরা নানা প্রশ্ন তোলা শুরু করেন। যার মধ্যে অন্যতম হল অপারেশনাল বাজেট। আর একটি হল, কতগুলো ম্যাচ খেললে এএফসি স্লট মিলবে?‌

অপারেশনাল বাজেটের খরচ ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকা ধরেছে এআইএফএফের কমিটি। তবে টিভি রাইটস বাবদ ১৫ কোটির কাছাকাছি এসে গেলে খরচটা কমে আসবে, বলা ভাল পুষিয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে ক্লাবগুলোকে অংশগ্রহণ ফি বাবদ যে টাকাটা দিতে হত, তার থেকে কম দিতে হবে। ওড়িশা এফসি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা টাকা দিয়ে আইএসএল খেলার জায়গায় নেই। বানিজ্যিক সহযোগী না পেলে মহমেডানও কতটা নিজেদের পকেট থেকে খেলার জায়গায় থাকবে বলা মুশকিল। শোনা যাচ্ছে, কেরালা ব্লাস্টার্সও খুব একটা আগ্রহী নয় নিজেদের গাঁটের কড়ি খরচ করে খেলার। সেক্ষেত্রে খেলতে ইচ্ছুক বাকি দলগুলোকেই অপারেশনাল বাজেটের বেশিটা বহন করতে হবে। অর্থাৎ তাদের ওপর বোঝা বাড়বে বানিজ্যিক সহযোগী না পেলে। ঠিক কতগুলো ক্লাব খেলতে আগ্রহী আইএসএলে, এটা জানতে এআইএফএফের কমিটি ক্লাবজোটকে চিঠি পাঠিয়েছে। তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে, সেই চিঠির উত্তর দিতে। সঙ্গে অপারেশনাল বাজেটের একটা খসড়াও পাঠানো হয়েছে ক্লাব জোটের কাছে। সেটা দেখে ক্লাবগুলো খেলার সম্মতি দিলে, পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে এআইএফএফের কমিটি।

তার ভিত্তিতে একটা খসড়া ফরম্যাট তৈরি করা হবে আইএসএলের। সঙ্গে খসড়া সূচীও। তাতেই বোঝা যাবে দুটো ভেনু অর্থাৎ কলকাতা ও গোয়াতে খেলা হলে কতগুলো ম্যাচ হবে লিগ কাম নকআউট পদ্ধতিতে। সঙ্গে খরচের পরিমানটাও। সেটা বুঝে নিয়ে এএফসির কাছে জানতে চাওয়া হবে কতগুলো ম্যাচ খেললে এবারের মতো এএফসি স্লট পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে এবারের জটিল পরিস্থিতিতে। এএফসি হয়ত মেনেও নেবে ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান টালমাটাল অবস্থা বুঝে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে ৫ জানুয়ারি এআইএফএফের তরফে রিপোর্ট পেশ করলে দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তা হয়ত মেনেও নেবেন। তা যদি হয়, তাহলে আইএসএল ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা হয়ত সম্ভব হবে। নইলে এবারের মতো শর্টটার্মে আইএসএল করা ভুলে যেতে হবে। লংটার্ম আইএসএল করার জন্য সকলে কবে একমত হবে, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন।

তবে এসবের মাঝে দূর থেকে জল মাপছে এফএসডিএল। তাদের ভাবখানা হল, দ্যাখ কেমন লাগে গোছের!‌ ভেতরের যা খবর, তারা ভেতরে ভেতরে আইএসএলের ফরম্যাট ও সূচীর সঙ্গে পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে তৈরি আছে। এআইএফএফ কমিটি ও ক্লাব জোটের মধ্যে সন্ধি হয়ে তাদের হাতে আইএসএল পরিচালনার ভার তুলে দিলে, তারা তা গ্রহণ করতে পিছপা হবে না। অবশ্য তাদের কিছু শর্ত থাকবে। যার অন্যতম হল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো যতই আইএসএল পরিচালনার অধিকার থাকুক এআইএফএফের হাতে, আইএসএল আয়োজনের ক্ষেত্রে বাড়তি কোনও হস্তক্ষেপ তারা সহ্য করবে না।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *