অলস্পোর্ট ডেস্ক: এআইএফএফ ও ক্লাব জোটের মধ্যে শুক্রবারের আলোচনা অনেকটাই আশার আলো জাগিয়েছে আইএসএল শুরু নিয়ে। ক্লাবজোট আইএসএল পরিচালনার অধিকার সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে নেওয়ার যে প্রস্তাব এআইএফএফকে দিয়েছিল, তা না মানায় একটা জট পাকিয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা, সেটা মানতে গেলে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে সংবিধানে বদল আনতে হত আবার। সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি পিএস নরসিমা ও জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া সংশোধিত নতুন সংবিধানে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ রয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ লিগ অর্থাৎ আইএসএল পরিচালনার ভার থাকবে এআইএফএফের হাতে। স্বাভাবিকভাবেই সেটা না মেনে ক্লাবজোটের হাতে আইএসএল পরিচালনার ভার চলে গেলে, সেটা হবে আদালত অবমাননার শামিল। তাই শেষপর্যন্ত যেন সাপও মরে, আবার লাঠিও না ভাঙে, সেই তত্ত্ব মাথায় রেখে ক্লাব জোটের সামনে এআইএফএফের কমিটি একটি প্রস্তাব রেখেছে।
যা অনেকটাই গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে ক্লাব জোটের প্রতিনিধিদের। এতে লিগ পরিচালানার দায়িত্ব সম্পূর্ণ থাকবে এআইএফএফের হাতে। ফাইনান্সিয়াল রাইটস ও টিভি সম্প্রচার স্বত্ত্বের অধিকার থাকবে ক্লাব জোটের কাছে। ক্লাব জোটই বানিজ্যিক সহযোগী ঠিক করবে। যারা চলতি মরশুমে শর্টটার্ম ও পরের মরশুম থেকে ২০ বছরের লংটার্ম পদ্ধতিতে আইএসএল চালানোর জন্য আর্থিক বিনিয়োগ করবে। এআইএফএফের কমিটির সঙ্গে ক্লাব জোট আলোচনা চালানোর পাশাপাশি তলায় তলায় এফএসডিএলের সঙ্গে কথা চালিয়ে গেছে। রবিবার এআইএফএফ ও ক্লাব জোটের যৌথ কমিটি প্রস্তাব মেনে আইএসএল শুরুর জন্য একমত হলে, সবার আগে বানিজ্যিক সহযোগী ঠিক করার পথে হাঁটবে।
শুক্রবার এআইএফএফের তিন সদস্যের কমিটির সঙ্গে ক্লাব জোটের প্রতিনিধিরা বলে গিয়েছিলেন, শনিবার বাকি ক্লাব প্রতিনিধি ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলে চুড়ান্ত মত জানাবেন। ক্লাব জোটের সেই আলোচনা শনিবার হয়েছে। তাতে বিষয়টা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। ফেডারেশনের প্রস্তাবিত মডেলের অংশগ্রহণের ফি, শেয়ার ও লভ্যাংশের পরিমান তাদের অখুশি করেনি। আশা করা যায়, রবিবারের আলোচনায় ছবিটা আরও পরিষ্কার হবে।
সব কিছু দেখে শুনে মনে হচ্ছে, এবারের ভাঙা মরশুমের আর্থিক জোগান এফএসডিএলই করবে। তার সঙ্গে প্রস্তাবের শর্ত অনুযায়ী ক্লাবের অংশগ্রহণ ফি বাবদ ১ বা ২ কোটির জোগান থাকবে। তার থেকেও বড় কথা, এটা মাথায় রাখতে হবে এআইএফএফ আইএসএলের জন্য নতুন বিডার চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। তার অন্যতম কারণ এফএসডিএলের সঙ্গে কেউ টক্কর দিতে চায়নি বলে। আর বাকি সম্ভাব্য বিডাররা এটাও বুঝেছিল, এফএসডিএল যেখানে এআইএফএফ পরিচালনার সমিতির সঙ্গে কাজ করতে পারেনি, সেখানে তাদের পক্ষে নতুনভাবে সংযুক্তিকরণ করে আইএসএলের মতো বড়মাপের টুর্নামেন্ট করা সম্ভব নয়। বরং এফএসডিএলের যা স্ট্রেংথ ও পরিকাঠামো আছে, তাতে তাদের পক্ষেই এখন বর্তমান ডামাডোল পরিস্থিতিতে থমকে থাকা আইএসএল চালু করা সম্ভব।
ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে, আইএসএলের সঙ্গে জড়িত ফুটবলার, কর্মী, ও অন্যান্য মানুষের রুটি রোজগারের প্রশ্নে আশা করা যায় ক্লাব জোট ও এআইএফএফ সংঘাত ও ইগো ছেড়ে মিলিতভাবে টুর্নামেন্ট দ্রুত শুরুর উদ্যোগ নেবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
