Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: এতদিন ছিল কুয়াদ্রাত বনাম ফেরান্দো। মাঝ মরসুমে তা বদলে হয়ে গেল কুয়াদ্রাত বনাম হাবাস । আর সেই লড়াই শুরু হতে চলেছে কলকাতা ডার্বি দিয়ে আইএসএল-এর মঞ্চে। যেখানে জয়ে ফিরতে মুখিয়ে রয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেখানেই সুপার কাপ জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। অন্যদিকে, দুই কোচের দিক দিয়ে দেখতে গেলে, প্রথম ম্যাচ জয় দিয়ে শুরু করতে চাইবেন হাবাস আর কুয়াদ্রাত চাইবে দলের চ্যাম্পিয়নশিপ মোমেন্টাম ধরে রাখতে। এক কথায় বলাই যায় এই ডার্বির লড়াই অন্য উচ্চতায় পৌঁছবে দুই কোচের মগজাস্ত্রের আস্ফালনে।

নতুন কোচের হাতে পড়ে কতটা বদলালো মোহনবাগান দল তা প্রমাণের মোক্ষম জায়গা অবশ্যই ডার্বি। যদিও এই কোচ কলকাতায় নতুন নন। মোহনবাগান যখন এটিকে ছিল তখন তাঁর হাত ধরে ট্রফি জিতেছে ক্লাব। তাই কলকাতার দল, ময়দানের আবেগ সম্পর্কে ভাল মতোই অবগত হাবাস। হুয়ান ফেরান্দো পরবর্তী সময়ে আর কলকাতায় খেলতে নামেনি মোহনবাগান। সুপার কাপ খেলেছে সহকারি কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডার কোচিংয়ে ভুবনেশ্বরে। যদিও বিদেশে বসে সেই সময় নিজের এক্সপার্ট সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন হাবাস আর সেই মতো কাজও করেছেন ক্লিফোর্ড। তবে এবার একদম হাতে নাতে প্রমান পাওয়ার সময়। যদিও খুব বেশি দিন পাননি তিনি। সেভাবে দেখতে গেলে ১৫ দিনই পেয়েছেন এই দলের সঙ্গে। সুপার কাপের ডার্বির আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

ডার্বির আগের দিন যুবভারতীর অনুশীলন মাঠে দল নিয়ে নেমেছিলেন হাবাস। সেখানে দেখা গেল দলের গুমোটভাব কেটে গিয়ে অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে দল। অনুশীলনেও দেখা গেল বেশ কিছু নতুনত্ব। এক কথায় টিম বন্ডিংয়ের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন হাবাস। কারণ হুয়া‌ন ফেরান্দোর শেষ সময়ে দলের অন্দরের কিছু সমস্যা সামনে চলে এসেছিল। তার প্রভাবও পড়ছিল খেলায়। যার ফলে বিদায় নিতে হল ফেরান্দোকে। সঙ্গে সুপার কাপের ডার্বিতে হেরে ছিটকে যাওয়া,  সব কিছু এখন অতীত। মোহনবাগানের পাখির চোখ এখন শুধুই আইএসএল। যার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে প্রথম পর্বের না হওয়া ডার্বি দিয়ে।

চোটের জন্য দেশে ফিরে যাওয়া জনি কাউকো দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন একদিন আগেই। প্রথম দিন দলের অনুশীলনে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর দ্বিতীয় দিনই নেমে পড়লেন অনুশীলনে। দলের সঙ্গে পুওর অনুশীলন করলেন। তবে তাঁর এখনই খেলতে নেমে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে মোহনবাগানের জন্য সব থেকে ভাল খবর আনোয়ার আলির ফিট হয়ে ফেরা। যে আনোয়ার আলি ছিটকে যাওয়ার প্রভাব রীতিমতো প্রকট হয়ে উঠেছিল এই দলে। এবার তিনি ফিরছেন না নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দলের সঙ্গে বেশ কয়েকদিন ধরেই পুরো অনুশীলন করছেন তিনি। ধরে নেওয়াই যায় ডার্বিতে প্রথম থেকেই পাওয়া যাবে তাঁকে। এর মধ্যেই অবশ্য থাই মাসলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা গেল আশিস রাইকে।

অন্যদিকে ফুরফুরে মেজাজে ইস্টবেঙ্গলও। অনুশীলনের শুরু থেকেই হাসি ঠাট্টায় মাতালেন কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। মাঠের কয়েক পাক শেষে লক্ষ্যে শট। তাতে কেউ সফল, কারও বা অল্পের জন্য মিস। মাঝ মাঠের দায়িত্বে এই ডার্বিতে থাকতে পারছেন না শৌভিক। যদিও এদিন দলের সঙ্গেই অনুশীলন করলেন তিনি। আবার মাঝ পথেই মাঠ ছাড়লেন হিজাজি মেহের। তবে ইস্টবেঙ্গল দল এখন রীতিমতো টগবগ করে ফুটছে। শুধু দুই বিদেশি দল ছাড়ায় ডার্বির আগে বড় চিন্তা দলের মাঝমাঠ নিয়ে।

সুপার কাপে পরিবর্ত হিসেবে নেমে রীতিমতো নজর কেড়েছেন মাঝমাঠের সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অবস্থায় নিশ্চিত করেই প্রায় বলা যায় শৌভিকের পরিবর্তে প্রথম দলে জায়গা করে নিতে চলেছেন সায়ন। কারণ সুপার কাপের ফাইনালে নন্ধা কুমারের জায়গায় পিভি বিষ্ণুকে নামিয়েও ১০ মিনিট পরে তুলে নিয়ে সায়নকে নামিয়েছিলেন কোচ। সেই অবস্থায় ডার্বিতে প্রথমে বিষ্ণুকে নামানোর সম্ভাবনা কম। এই ম্যাচে প্রথম দলে নিশ্চিত করে ঢুকবেন নাওরেম মহেশ সিং। সুপার কাপ ফাইনালে তাঁর অনবদ্য পাস থেকেই দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন নন্ধা কুমার।

সেদিক থেকে দেখতে গেলে ফর্মেশনেও পরিবর্তন আনতে পারেন কোচ। তবে দলের রক্ষণ এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি ভরসা দিচ্ছে দলকে আর সেটা অবশ্যই হিজাজির জন্য। পাশাপাশি সেটপিসে হেডে গোল করাটা রীতিমতো উপভোগ করেন এই ডিফেন্ডার। যেমন মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস বোস বলছিলেন, ইস্টবেঙ্গলের কাউন্টার অ্যাটাকে খেলার কথা যা তাঁরা আটকাতে চাইবেন। আর সেখানেই কতটা স্ট্র্যাটেজি বদলাবেন কোচ কার্লেস সেটাই দেখার। দেখার দুই জুজুধান কোচের মগজাস্ত্রের লড়াই।

গ্রাফিক্স: সৌভিক

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *