যুবভারতীর পথে দুই বন্ধু, তবে ফুটবলের শত্রু। —নিজস্ব চিত্র
সুচরিতা সেন চৌধুরী: টুর্নামেন্ট যাই হোক না কেন ম্যাচটা কিন্তু ডার্বি। তাই টুর্নামেন্ট জুড়ে দুই দল যাই ফুটবল খেলুক না কেন এই ম্যাচে সেই সব মোটেও প্রভাব ফেলে না। বরং দুই দল এবং দুই দলের লক্ষ্য লক্ষ্য সমর্থক নিজেদের উজার করে দেয় সেই ৯০ মিনিট বা তার পরও। ডুরান্ড কাপ ২০২৫-এর কোয়ার্টাক ফাইনাল যে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান হতে চলেছে তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। ডুরান্ড কমিটি চেয়েছিল এই ম্যাচ থেকেই টুর্নামেন্টের আসল প্রাপ্তিটা তুলে নিতে। কারণ কোনও দল যদি কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে ছিটকে যায় তাহলে যে আর ডার্বিটাই হবে না। এই পরিস্থিতিতে ডুরান্ড কমিটি ঘোষণা করে দিল একটি কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। ব্যস… ওই টুকুই। তার পর কলকাতা ঢেকে গেল ডার্বি আবহে। আর রবিবার সেই দিন চলেও এল, আরও একটা ডার্বি। যুবভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনের গ্যালারি ভড়ালেন দুই দলের সমর্থকরা।
অনলাইন টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। মাঝে একটা সময় এত লোক সেই টিকিট কাটতে ঢুকেছিল যে ওয়েব সাইটই হ্যাং করে গিয়েছিল। তার পরদিন শুরু হল অফলাইন টিকিট বিক্রি। সমর্থকরা আগের দিন রাত থেকে ক্লাব তাঁবুর বাইরে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করেছিল শুধু টিকিট পাওয়ার জন্য। এটাই আসলে বড় ম্যাচের আবেগ, এটাই আসলে ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান। এই সবের শেষে সেই দিন এসেই গেল। ডুরান্ড কাপের ডার্বি। যা গত বছর আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সেদিন অন্য আবেগ দেখেছিল বাংলার ফুটবলপ্রেমী মহল। সেদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নেমেছিল ইস্ট, মোহনের সমর্থকরা।
আর এদিন বিধাননগর স্টেশনে যে ট্রেন থেকে আমি নামলাম সেটা থেকেই নামল প্রচুর সমর্থক। স্লোগান, হুঙ্কারে তখন গম গম করছিল স্টেশন চত্তর। আজ বিধাননগর স্টেশন থেকে বাইপাস হয়ে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনই হোক বা হাওড়া, গড়িয়া শিয়ালদহ হয়ে স্টেডিয়াম চত্তর— চলে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান সমর্থকদের দখলে। ম্যাচ শুরুর প্রায় ৪০ মিনিট আগেই ভরে গিয়েছিল স্টেডিয়ামের মিডল টায়ার। দুই দল ওয়ার্ম আপ করতে নামতেই যেন প্রথম শব্দব্রহ্ম শোনা গেল স্টেডিয়াম জুড়ে। মোহনবাগান গ্যালারি থেকে ঝুলছিল ব্যানার, যেখানে লেখা, ‘‘মাঝি ধরল হাল, নৌকা তুলল পাল/বল ছিড়ল জাল, নিভল ভাঙা মশাল’’।
মোহনবাগান গ্যালারি থেকে নামল চারটি টিফো। ইস্টবেঙ্গল অবশ্য ম্যাচের শুরুতে কোনও টিফো নামালো না। তবে অনেকদিন পর আবার ডার্বির উত্তেজনা শহর জুড়ে। বিধাননগর স্টেশনে দেখা হয়ে গেল দু’জনের সঙ্গে। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দুই দলের জার্সিতে দুই সমর্থক। একই পাড়া থেকে এসেছেন। বাকিদের আসার অপেক্ষায়। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘‘বাড়ি থেকে স্টেডিয়ামের গেট পর্যন্তই এক সঙ্গে, তার পর আমরা কেউ কাউকে চিনি না। আবার ফেরার পথে দেখা হবে।’’
করুণাময়ী থেকে অটোতে স্টেডিয়ামের পথে যেতে যেতে প্রায় একই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলাম। একই বাইকে দুই প্রতিপক্ষ। বাইক চালাচ্ছেন ইস্টবেঙ্গল, পিছনে বসে মোহনবাগান, মাথার উপর ধরা মোহনবাগানের পতাকা উড়ছে। এমন যৌথতার দৃশ্য এদিন স্টেডিয়ামের পথে বার বার দেখা গেল। গত বছর ডুরান্ড ডার্বির বিকেল যে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানকে দেখেছিল এদিন যেন প্রতি পদক্ষেপে সেই দৃশ্যেরই পুনর্জন্ম হল। ‘‘মাঠের মধ্যে আমরা চিরশত্রু, বাকিটা আমরা সবাই ফুটবলপ্রেমী, আমরা বাংলাপ্রেমী’’, বলছিলেন বাড়ি থেকে এক সঙ্গে বেরিয়ে আসা দুই মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল সমর্থক বন্ধু।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
