Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

ইস্টবেঙ্গল ৪(‌ এডমুন্ড, এজেজারি-২, একটি ‌পেনাল্টি, মিগুয়েল)            ‌স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি ১(‌আগস্টিন)‌

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ এ যেন এক অন্য ইস্টবেঙ্গল। শুরু থেকেই এমন ভাবে প্রথম ২ ম্যাচ আধিপত্যের সঙ্গে জিতে আইএসএল অভিযান এর আগে কখনও শুরু করেনি লাল হলুদ ব্রিগেড। প্রথম ম্যাচে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে ৩-‌০ গোলে হারানোর পর ঘরে যুবভারতীর মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে ৪-‌১ গোলে জয়। একটি পেনাল্টি সহ ইউসেফ এজেজারির ২ গোল। ২ ম্যাচে ৪ গোল করে নিজের জাত চেনাচ্ছেন তিনি। আর দুই গোলদাতা এডমুন্ড লালরিনডিকা ও মিগুয়েল ফেরিরা। এই পারফরমেন্সের পর লাল হলুদ সমর্থকরা আইএসএল ঘিরে বড় রকম স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

তার জন্য কৃতিত্ব অবশ্যই প্রাপ্য ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর। তিনি ইস্টবেঙ্গল দলটাকে তেলখাওয়া মেশিনের মতো মসৃণভাবে চালনা করেছেন চলতি আইএসএলের দুটো ম্যাচেই। গত মরশুমে আইএসএলের প্রথম তিন ম্যাচে হারের পর কুয়াদ্রাতের জায়গায় কোচের দায়িত্বে এসেছিলেন অস্কার। তবে তাঁরও শুরুটা ভাল হয়নি। পরপর ২ ম্যাচ হেরেছিলেন তিনি। তারপর থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানো শুরু ইস্টবেঙ্গলের অস্কারের হাত ধরে। তবে ক্ষতিটা শুরুতেই এতটা হয়ে গিয়েছিল আইএসএলে আশানুরূপ ফল হয়নি। এমনকি চলতি মরশুমেও বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ভাল খেলার ঝলক দেখা গেলেও, বা শেষ ধাপে পৌঁছলেও ইস্টবেঙ্গল সিনিয়র দলের কোনও ট্রফি নেই অস্কার জমানাতেও।

কিন্তু এবার আইএসএলের প্রথম ২ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের ঝকঝকে পারফরমেন্স দেখে বলতে দ্বিধা নেই, দলটা ভাল গুছিয়েছেন কোচ অস্কার ঠিক জায়গায় ঠিক ফুটবলারকে ব্যবহার করে। মিগুয়েল ফেরিরার মতো স্কিমার তো দলে ছিলেনই। মিডফিল্ড মার্শালের ভূমিকায় মিগুয়েল দিল্লির বিরুদ্ধেও অনবদ্য। যখনই আক্রমণে উঠেছেন, তখনই দিল্লি রক্ষণে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। নিজে গোল করে ও করিয়ে সমর্থকদের মন জয় করলেন মিগুয়েল।

আর একজনের কথা বিশেষভাবে বলতে হবে। তিনি ইউসেফ এজেজারি। স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকার যে গোলের মধ্যে ছিলেন, তা তাঁর জীবনপঞ্জী থেকেই প্রমাণ মিলেছিল। ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়ে লাল হলুদ জার্সি গায়ে ২ ম্যাচে ৪ গোল করে এজেজারি বোঝালেন, তিনি গোলের বুটটা পুরোন ক্লাবে ফেলে আসেননি, বরং সঙ্গে নিয়োই এসেছেন। গোলমেশিন এজেজারিকে ম্যাচের সেরা বাছলেন সে কারণেই সংগঠকরা।

সবাইকে অবাক করে ৪ মিনিটে গোল করে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে এগিয়ে দেন আগস্টিন লালরোচনা। মহম্মদ আইমেনের বাড়ানো পাস ধরে ডানপ্রান্তে গতি বাড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল বক্সে ঢুকে পড়ে আগস্টিন পায়ের ঝটকায় ডিফেন্ডার জয় গুপ্তাকে টলিয়ে দিয়ে সামনে দাঁড়ানো আনোয়ারের পাশ দিয়ে কোনাকুনি শটে বল জালের ভেতর পাঠান।

তবে দিল্লি সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি লাল হলুদের ঝাঁজোলো আক্রমণের সামনে। তাতেই ৮মিনিটে গোল শোধ করে ইস্টবেঙ্গল। এডমুন্ড লালরিনডিকার বিশ্বমানের গোলে। ডানদিক থেকে বিপিনের ফ্রিকিক বক্সে পড়ার মুখে হেড করেছিলেন রাফায়েল রিবেরো বল বাইরে পাঠাতে। তাঁর হেড করা আলগা বল উঁচু হয়ে বক্সের বাইরে মাটিতে পড়ার সুযোগ দেননি সল ক্রেসপোর বদলি হিসেবে খেলা এডমুন্ড। ২০ গজ দূর থেকে ডানপায়ের চোখধাঁধানো ভলিতে বল দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন। শটে এত জোর ছিল যে দিল্লির গোলকিপার বলে হাত ঠেকিয়েও গোলে যাওয়া আটকাতে পারেননি।

সমতা ফেরানোর পর ইস্টবেঙ্গল আরও তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে উঠ ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয় গোল করে লাল হলুদ শিবিরে উল্লাস এনে দেন ইউসেফ এজেজারি। বক্সের ভেতর বল নিয়ে ঢুকে পড়লে, তাঁকে পেছন থেকে ট্রিপ করেন ক্লারেন্স ফার্নান্ডেজ। রেফারি ক্রিস্টাল জন পেনাল্টি দিতে দ্বিধা করেননি ইস্টবেঙ্গলের অনুকূলে।

২৭ মিনিটে মিগুয়েলের তোলা বল বক্সের মাঝে ফাঁকায় পেয়ে গিয়েছিলেন এজেজারি। সামনে শুধু অসহায় গোলকিপার। এজেজারির হেড করা বল চলে যায় সোজা গোলকিপার বিশাল যাদবের হাতে।

৪০ মিনিটে ইউসেফ এজেজারির দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলের পর লাল হলুদ সমর্থকরা বুঝেই যান জয় তাঁদের হাতের মুঠোয়। মিগুয়েল ফেরিরার বাড়ানো থ্রু বক্সের মাঝে নিয়ন্ত্রণে এনে গড়ানো শটে গোলকিপার বিশাল যাদবকে হার মানান এজেজারি।

এরপরও মোহনবাগানে কিবু ভিকুনার সহকারি হিসেবে আইলিগ কাজ করা দিল্লির কোচ টমাস খুস আগাগোড়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলানোর দর্শন থেকে সরে আসেননি। গোলের একটা হাফ চান্স চলে এসেছিল দিল্লির সামনে। ৪৪ মিনিটে মনোজ মহম্মদের জোরালো শট রুখে দিল্লির গোলের প্রচেষ্টা বিফল করেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভুসুখন গিল।

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের চাপ অব্যাহত রাখলেও গোলের সংখ্যা বাড়াতে পারেনি দীর্ঘদিন পর ম্যাচে ফেরা নন্দকুমার সহজ সুযোগ নষ্ট করায়। বরং ৩ গোল পেয়ে যাওয়ার সন্তুষ্টিতে নিজেদের অর্ধে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা একটু বেশি সময় কাটানোর ফলে পাল্টা আক্রমণ হানার সুযোগ পেয়েছিল দিল্লি। রাফায়েল রিবেরো ইস্টবেঙ্গল বক্সে ভেসে আসা বলে দু’‌বার ফাঁকায় হেড করার সুযোগ পেয়েও তা গোলে রাখতে পারেননি।

উল্টে ৯৪ মিনিটে দিল্লি মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে তা টেনে নিয়ে বক্সে পৌঁছে বাঁ পায়ের জোরালো শটে জালের ভেতর পাঠান মিগুয়েল।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, লালচুংনুঙ্গা(‌মার্তন্ড)‌, জিকসন, আনোয়ার, জয়, নন্দকুমার(‌বিষ্ণু)‌, রশিদ, মিগুয়েল, বিপিন(‌রাকিপ)‌, এডমুন্ড(‌শৌভিক)‌, এজেজারি(‌ডেভিড)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *