কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫ জয়ের পর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। —নিজস্ব চিত্র
সুচরিতা সেন চৌধুরী: ইস্টবেঙ্গল সুপার ফোরে পৌঁছতেই ময়দানে ফিরে এল ফুটবল। ফুটবল যে ময়দানে ছিল না এমনটা নয়, তবে গত বেশ কয়েকবছর ধরে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ চলে গিয়েছে জেলার বিভিন্ন স্টেডিয়ামে। তার যেমন একটা ভালো দিক রয়েছে তেমনই খারাপ দিকও রয়েছে। জেলায় জেলায় যেমন পৌঁছে গিয়েছে ফুটবল, এর সঙ্গেই হারিয়ে গিয়েছে ময়দানি ফুটবলের উন্মাদনা। তা কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫-এর সুপার ফোরের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল মাঠে ফিরতেই ফিরল সেই উন্মাদনা। আর এর সঙ্গেই সমর্থকদের ঘরের মাঠে ট্রফি জিতে তালিকায় ৪১তম কলকাতা লিগ যুক্ত করল।
সোমবার ইস্টবেঙ্গলের সামনে লক্ষ্য ছিল এক পয়েন্ট। সেখানে প্রতিপক্ষ ইউনাইটেডের দরকার ছিল জয়। ইস্টবেঙ্গল সুপার ফোরের প্রথম দুটো ম্যাচ জিতেই খেলতে নেমেছিল। উল্টোদিকে ইউনাইটেডের সঙ্গে ছিল একটি জয় ও একটা ড্র। সেই অবস্থায় কলকাতার এক মেঘলা দুপুরে গ্যালারি ভরিয়েছিলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। সারাক্ষণ স্লোগানে, গানে ভরিয়ে রাখলেন তাঁরা। রাস্তা জুড়ে ইস্টবেঙ্গলের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতা। এ দৃশ্য কলকাতা ফুটবলের আবেগ ও উন্মাদনিরই প্রতীক। এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ইস্টবেঙ্গল। সবগুলো ঠিকঠাক হলে প্রথমার্ধেই চির গোল করে ফেলতে পারত ইস্টবেঙ্গল। সেখানে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে চ্যাম্পিয়ন দল।
ম্যাচ শুরুর পাঁচ মিনিটেই প্রথম গোলের সুযোগ চলে এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের সামনে যখন অমন সিকের বক্সের মধ্যের মাপা পাসের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন পিভি বিষ্ণু। ১০ মিনিটে আবার সেই বিষ্ণুর গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস। ১১ মিনিটে আবার সুযোগ, এবার আমন সিকে পৌঁছাতে পারলেন না। তবে মুহুর্মুহু ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণকে প্রতিরোধ করতে ম্যাচের ১২ মিনিটেই ইউনাইটেডের সব থেকে অভিজ্ঞ ফুটবলার মহম্মদ রফিককে নামিয়ে দিলে কোচ লালকমল ভৌমিক। তাতে কিছুটা সংঘবদ্ধ হল ইউনাইটেডের মাঝমাঠ। ১৫ মিনিটেই ম্যাচের প্রথম সুযোগ পেল ইউনাইটেড। দুই অর্ধে দুটো নিশ্চিত সুযোগ এল শ্রীনাথেথ থেকে। পুরো ম্যাচে নজর কাড়লেন তিনি।
২৬ মিনিটে বিষ্ণুর শট যেভাবে বাঁ দিকে দেহ ছুঁড়ে দিয়ে বাঁচালেন ইউনাইটেড গোলকিপার রৌণক ঘোষ তাতে পুরো কৃতিত্ব তাঁর। শেষ পর্যন্ত ৩৫ মিনিটে গোলের মুখ খুলল ইস্টবেঙ্গল। তন্ময়ের লং বল ধরে সায়নের শট আবারও রুখে দিয়েছিলেন রৌণক কিন্তু তার জালে রাখতে পারেননি। ছিটকে আসা বলে বক্সের লাইন থেকে ডেভিডের জোরালো শট চলে যায় গোলে। এই ব্যবধান নিয়েই দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে ইস্টবেঙ্গল।
এদিকে দিন ছোট হয়ে যাওয়ায় দ্রুত অন্ধকার নামবে এই সময় সেটাই স্বাভাবিক। তার উপর মেঘলা আকাশ। তবুও ১৫ মিনিট দেরিতে শুরু হল খেলা। একদিকের ফ্লাড লাইটের ১১টি আলো জ্বলল ঠিকই কিন্তু ম্যাচ চালানোর মতো যথেষ্ট আলো মোটেও ছিল না। একটি ফ্লাডলাইটের আলো শুধু মাঝ মাঠকেই কিছুটা আলোকিত করল। তার মধ্যেই চলল খেলা। এই না হলে কলকাতা লিগ! তবে ময়দানে কলকাতা লিগের ফেরাটা আশার।
আধা অন্ধকার মাঠেই দ্বিতীয়ার্ধের শেষে ম্যাচের আসল মুহূর্ত তৈরি হল। ৮৭ মিনিটে সমতায় ফিরল ইউনাইটেড। শ্রীনাথের সময় নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত সেন্টারে পরিবর্ত হিসেবে নামা অমিত বসাকের মাপা হেড চলে গেল ইস্টবেঙ্গল গোলে। জায়গায় ছিলেন না ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার গৌরব শ। এক মিনিটের মধ্যেই অবশ্য শ্যামল বেসরার গোলে আবার এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। জেসন টিকের শট ইউনাইটেড গোলকিপারের গায়ে লেগে ছিটকে এসেছিল বেসরার কাছে। সেই বল গোলে রাখতে ভুল করেননি তিনি। ১-০ থেকে ১-১ হয়ে ২-১ গোলে শেষ হল কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ। জিতেই চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল এফসি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
