সুচরিতা সেন চৌধুরী, ভুবনেশ্বর: অনেকদিন পর তিন পয়েন্ট পেয়েছে দল, আপাতত সেটাই দলের জন্য অক্সিজেন। নতুন বছরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই জয়ের মুখ দেখেছে কার্লেস কুয়াদ্রাতের দল। আইএসএল- এ যেটা বেশ কয়েকটি ম্যাচ থেকে অধরাই ছিল। তাই হয়তো ইস্টবেঙ্গল কোচ মনে করিয়ে দিলেন, পর পর হারের পর সংবাদ মাধ্যমে কীভাবে তাদের সমালোচনা করা হয়েছিল। তার পর তাঁরা পর পর ম্যাচ ড্র করেছে। দল ক্রমশ ছন্দ ফিরে পাচ্ছে। জাতীয় দলের প্লেয়াররা চলে এলেই অনেকটা বদলে যাবে।
এদিন ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের অবস্থা দেখে অন্তত তেমনটাই মনে হল। সেই কথা মেনেও নিলেন কোচ কার্লেস। জানেন রক্ষণের ভুলে গোল হজম করত হয়েছে। পুরো ম্যাচে রীতিমতো টেনশন দিয়েছে লাল-হলুদ রক্ষণ। হিজাজি, নিশু কুমারদের দুর্বলতা ধরে ফেলেই প্রতিপক্ষ পর পর আক্রমণ শানিয়েছে। দুর্বল হায়দরাবাদের বিরুদ্ধেও দুই গোল হজম করতে হয়েছে। কোচ বলছেন, “ব্রেক থেকে ফিরে দল নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে। রক্ষণ ভাল ছিল না আমি জানি, জাতীয় দলের ফুটবলাররা ফিরে এলেই দলের রক্ষণের অনেকটাই সমস্যা মিটে যাবে। তবে আমি খুশি তিন পয়েন্ট পেয়ে, আমাদের এই তিন পয়েন্ট দরকার ছিল।”
তিনি মেনে নিলেন, দু’বার এগিয়ে গিয়ে দুটো গোল হজম করাটা দলের দুর্বলতা। তিনি বলেন, “দুই গোল হজম করে মানসিকভাবে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত আমরা তিন পয়েন্ট পেয়েছি। এই ম্যাচে বিষ্ণুর মতো বেশ কয়েকজন জুনিয়র প্লেয়ার খেলেছে, এটা তাদের জন্য সুযোগ।” তবে দলের দুই বিদেশি গোল পাওয়ায় খুশি তিনি।
কার্লেস বলছিলেন, “ক্লেটন দুটো গোল পেয়েছে, ক্রেসপো গোল পেয়েছে, এটা দলের জন্য ভাল। অনেক গোল মিসও হয়েছে, তার পরও আমরা তিন পয়েন্ট পেয়েছি সেটা ভাগ্যের। অনেক নতুন মুখকে এদিন সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তারাও নিজেদের উপস্থিতিতে দলের জয়ে আত্মিবশ্বাস পাবে। গোল নষ্ট ম্যাচের অংশ, ওটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।”
এদিন একদল ভারতীয় ফুটবলারের বিরুদ্ধে তারকা খচিত ইস্টবেঙ্গল দলের জিততে রীতিমতো বেগ পেতে হল। শুধু ভারতীয়দের নিয়ে তৈরি দলের লড়াই আকর্ষিত করেছে। যা দেখে তিনি প্রতিপক্ষ দলের কোচ থাংবোই সিংতোর প্রশংসা না করে পারলাম না। বলছিলেন, “আমি যখন প্রথম ভারতে কোচিং করাতে আসি সেটা ২০১৬ সাল, তখন তিনি লাজং এফসিতে। সেই থেকে আমার সঙ্গে তার পরিচয়। ও খুব ভাল কোচ। ওরা সুযোগ তৈরি করেছে, গোল করেছে। এই কোচের অধিনে দল ভাল করবে।”
হায়দরাবাদ এফসির কোচ থাংবোই সিংতো হারলেও ছেলেদের লড়াইয়ে খুশি। বলছিলেন, “ছ’ফুটের উপর উচ্চতার বিদেশিরা খেলছিল সব। আর আমমার দলের গড় উচ্চতা পাঁচ ফুট ছয়। তার মধ্যেই ওরা যে লড়াই দিল তাতে আমি খুশি। ইস্টবেঙ্গল পাঁচ, ছয় জন বিদেশি নিয়ে খেলেছে আর আমার দল পুরো ভারতীয়দের নিয়ে, সেখানে ওরা চেষ্টা করেছে। আইএসএল-এর দ্বিতীয় পর্বের আগে সুপার কাপটা কাজে দেবে।”
ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র নিয়মিত বাঙালি শৌভিক চক্রবর্তী খুশি দলের জয়ে। তিনি বলছিলেন, “একটা জয় মানেই দলের জন্য ভাল। আমরা যেবাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি আরও ভাল হবে। হায়দরাবাদ এফসি ভাল দল, ভাল খেলেছে তবে আমরা যদি শুরুতে গোলগুলো পেয়ে যেতাম তাহলে ম্যাচ অনযরকম হতে পারত।”
সামনে এখন শ্রীনিধি ও মোহনবাগান। এই দুই হার্ডেল টপকে যেতে পারলেই সেমিফাইনাল। যে ডুরান্ড কাপ অধরা থেকে গিয়েচে এই মরসুমে সেই হতাশা কি কাটবে সুপার কাপে? তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
