মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে ঘরের মাঠে আইএসএলের প্রথম ম্যাচে ৩ গোলে হারিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। জয় দিয়ে শুরু করায় লাল হলুদ ব্রিগেডের আত্মবিশ্বাস যে তুঙ্গে থাকবে, সেটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু শনিবার যুবভারতীতে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির মুখোমুখি হওয়ার আগে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর গলায় আশ্চর্যরকম শীতলতা। বরং বলা ভাল প্রতিপক্ষকে হাল্কাভাবে নিচ্ছেন না, এটা বেশ বুঝিয়ে দিলেন ম্যাচের আগের দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে। অস্কারের সতর্কতায় মোড়া বক্তব্য কৌশল হতেই পারে, ফুটবলারদের মধ্যে প্রথম ম্যাচ জেতার পর আত্মতুষ্টি যাতে ভর না করে।
আসলে অস্কার হলেন সেই ঘর পোড়া গরু, যিনি লাল হলুদ কোচের ভূমিকায় বারবার ট্রফি জয়ের শেষধাপে পৌঁছেও শূণ্য হাতে ফেরার বেদনা অনুভব করেছেন। সম্ভবত এই কারণে কোনও প্রতিপক্ষকেই ছোট করে দেখতে নারাজ তিনি। বলেই দিলেন, ‘ স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি নামটা নতুন হলেও, দলটা অচেনা নয়। গত মরশুমে খেলা হায়দরাবাদ এফসির ফুটবলাররাই ওই দলে আছে। আইএসএলের মঞ্চটা তাদের জানা। তাছাড়া ওদের কোচ টমাস থুসকে আমি জানি। মোহনবাগানের কিবু ভিকুনার সহকারি হিসেবে ওর কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। দলেক পজেশনাল ফুটবল খেলায়। লম্বা পাস খেলে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়ায়। সুপার কাপ ও আইএসএলের প্রথম ম্যাচে ওদের খেলা দেখেছি। সেইমতো পরিকল্পনা নেব ওদের বিরুদ্ধে জয় পেতে।’
সংক্ষিপ্ত লিগ। ম্যাচের সংখ্যা কম। তাই ঠিক কী স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছেন চ্যাম্পিয়ন হতে? সবাইকে অবাক করে দিয়ে কোচ অস্কারের জবাব, ‘ আমি এখন থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা ভাবছিইনা। ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই। আপাতত লক্ষ্য শনিবারের স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি ম্যাচ জেতা। ম্যাচ কম বলেই ভুল করা চলবে না। নইলে পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা। চ্যাম্পিয়নশিপের কথা এখন থেকে ভেবে ফুটবলারদের চাপ বাড়াতে চাই না। জানি সদস্য-সমর্থকরা সব ট্রফি চান। কিন্তু আমি বাস্তববাদী। ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি এই মুহূর্তে সে উপলব্ধি আমার আছে। প্রথম লক্ষ্য থাকবে, আইএসএলের লিগ টেবিলের ওপরের দিকে থাকার। মূলত টপ হাফে। তারপর খেতাব জয়ের কথা। ফিফা ফ্রেন্ডলির ব্রেক পর্যন্ত ফোকাস ঠিক রাখতে বলেছি ফুটবলারদের। যাতে এক নম্বরে থাকা সম্ভব হয়। তারপর নতুন ভাবনা।’
ইস্টবেঙ্গল শিবিরের জন্য স্বস্তির খবর। চোট সারিয়ে শনিবার স্কোয়াডে ফিরছেন রাকিব। কোচ অস্কার এও জানালেন, মহেশ ১৫ দিনের মধ্যে ফিট হয়ে যাবেন। বিদেশি ফুটবলার কেভিন চোটের কারণে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। তিনি আগামী সপ্তাহে স্পেন থেকে কলকাতা ফিরবেন। নতুন বিদেশি অ্যান্টন সজবার্গ দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে অনুশীলন সেরেছেন দু’দিন। অস্কারের মতে, ডেনমার্কে খেলার মাঝেই ছিলেন অ্যান্টন। তাই ফিটনেস সমস্যা নেই। তবে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের সঙ্গে বোঝাপড়া পুরোপুরি গড়ে তুলতে কিছুটা সময় দিতে হবে তাঁকে।
জিকসনকে সেন্টার ব্যাকে ব্যবহার করা নিয়ে অস্কারের বক্তব্য, ‘ জিকসন এর আগে বিভিন্ন ক্লাবে মাঝমাঠ, ডিফেন্সিভ ব্লকার, এমনকি সেন্টার ব্যাকেও খেলেছে। ও ব্যাকলাইন থেকে মাঝ বরাবর ওপরে উঠে আক্রমণের ধার বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। গত ম্যাচে সেটা করে দেখিয়েছে। ওর মুভ থেকে গোল এসেছে। তাই ওর মতো ইউলিটি ফুটবলার দলে থাকা মানে বাড়তি লাভ।’
ইস্টবেঙ্গলের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার জিকসন নিজেও লাল হলুদে এবার তাঁর নতুন ভূমিকা উপভোগ করছেন বলে জানালেন। বললেন, ‘ এটা কোনও নতুন ব্যাপার নয়। মূলত মাঝমাঠের ফুটবলার হলেও ইস্টবেঙ্গলে আসার আগে অন্য ক্লাবে দলের স্বার্থে কোচের কথায় সেন্টার ব্যাক পজিশনে খেলেছি। কোচ অস্কার যেমনভাবে ব্যবহার করবেন, সেভাবেই খেলব। মূল লক্ষ্য হল দলের জয়।’
দীর্ঘসময় কোনও খেলা ছিল না। তারপর আইএসএল শুরু হয়েছে মরশুমের একবারের শেষ দিকে। সংক্ষিপ্ত এই লিগ খেলতে কি কোনও সমস্যা বোধ হচ্ছে? জিকসনের বুদ্ধিদীপ্ত জবাব, ‘ আমরা ভাগ্যবান। আইএসএল শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দীর্ঘসময় কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকলেও, ইস্টবেঙ্গলের প্র্যাকটিস বন্ধ ছিল না। কোচ অস্কার আমাদের ফিট রাখার কাজটা চালিয়ে গেছেন নিয়মিত। কখনও হতাশা আসতে দেননি আমাদের মধ্যে। সেখানে অন্য অনেক দলের প্র্যাকটিস বন্ধ ছিল। আরও অনেক সমস্যা ছিল। তাদের তুলনায় আমরা এখানে এগিয়ে প্রস্তুতি থামেনি বলে। আশাবাদী এবার আমরা আইএসএলে বড় সাফল্য পাব সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
