Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ মঙ্গলবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা দপ্তরে মিলিত হয়েছিলেন উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে প্রধান, কনমেবল, লাতিন আমেরিকা কনফেডারেশনের সভাপতি, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে। উদ্দেশ্য ছিল ২০৩০ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন নিয়ে রূপরেখা তৈরি করা। একইসঙ্গে আলোচনা করা আদৌ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করা সম্ভব কিনা। গত মার্চ মাসে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে এমন একটি প্রস্তাব রেখেছিলেন উরুগুয়ের প্রতিনিধি।

তবে এমন প্রস্তাব এলে বা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো যতই দলের সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনায় অংশ নিন না কেন, ফিফার অনুমোদিত দেশগুলোর কখনওই দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৬৪ করাটা যুক্তিসংঙ্গত মনে হচ্ছে না বিশ্বকাপ আয়োজনের দিক থেকে। এমনিতেই আগামী বছর ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবার ৪৮ দেশ অংশ নেবে। তারপর আগের যাবতীয় নিয়ম ভেঙে ২০৩০ বিশ্বকাপ ৬টি দেশে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১৯৩০ সালে লাতিন আমেরিকায় বিশ্বকাপের সূচনা। সেটা স্মরণ করেই ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রথম তিনটি ম্যাচ খেলা হবে আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে। তারপর বিশ্বকাপের বাকি খেলাগুলি হবে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনের মাঠে। তবে তার জন্য অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা আদৌ বাড়বে কিনা, সেটা নির্ভর করছে আগামী মাসে জুরিখে ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে। তবে এই ধরনের কোনও কিছু ঘোষিত আলোচ্যসূচীতে এখনও নেই।

ফিফার এক বিশ্বস্ত সূত্র জানাচ্ছে, ইনফান্তিনো চাইলেও অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার ব্যাপারে কোনও সমর্থন পাবেন না। ইওরোপ জুড়ে ইতিমধ্যেই এই ধরনের ভাবনা নিয়ে প্রতিবাদের গুঞ্জন উঠেছে তলায় তলায়। অধিকাংশ ফিফা অনুমোদিত দেশের ফুটবল সংস্থা মনে করে, এতে একদিকে যেমন প্রতিযোগিতার মানে প্রভাব ফেলবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ কমার সম্ভাবনায়, যাতে বানিজ্যিকভাবে বড়সড় ক্ষতি হবে ফিফার ও বিশ্বকাপ ফুটবলের।

৬৪ দল হওয়া মানে ফিফার ২১১টি অনুমোদিত সদস্য দেশের ৩০ শতাংশ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। এতে কনমেবলের ১০টি দেশের সামনেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ এসে যাবে কোনও না কোনও ভাবে। এটাই পছন্দ নয় ইওরোপের সদস্য দেশের কর্তাদের। উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার সেফারিনের মতে, ‘‌ এটা একটা খুব বাজে ভাবনা। টুর্নামেন্টের মান ভীষণভাবে মার খাবে।’‌ কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মনটাগলিয়ানির প্রতিক্রিয়া, ‘‌ ফিফা ।আ খুশি ভাবে পারে, কিন্তু ব্যাপারটা অযৌক্তিক। একবারেই সমর্থনযোগ্য নয়।’‌ এই দুই ব্যক্তি আবার ফিফার সহ সভাপতি পদে রয়েছেন।

আসলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ মানে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে হবে ১২৮। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ম্যাচের সংখ্যার দ্বিগুন ও ২০২৬ বিশ্বকাপের থেকে ২৪টি বেশি। ১৯৮২তে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৬ থেকে বেড়ে হয়েছিল ২৪। ১৯৯৮ তে বেড়ে দাঁড়ায় ৩২। আগামী বছর অংশ নেবে ৪৮ দেশ। এরপর ৬৪ করলে ম্যাচের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের সময়সীমা যে অনেকটাই বেড়ে যাবে, সেটা বলাই বাহুল্য। এতদিন ধরে এত ম্যাচ আয়োজন করার যে বেশ যে সহজ কাজ নয়, এটা বুঝেই ফিফার সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এতে মত দেবেন বলে মনে হয় না।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *