ছবি: ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬
অলস্পোর্ট ডেস্ক: তারকা ফুটবলাররা মোক্ষম সময়ে জ্বলে ওঠেন। সেটা আবার প্রমাণ করলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেনগা গোল করে কঙ্গোকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। ইংল্যান্ড গোল শোধে মরিয়া হয়ে আক্রমণের ঢেউ তুললেও একের পর এক অনবদ্য সেভ করে কঙ্গোর লিড ধরে রেখেছিলেন গোলকিপার এপাসি ৭৪ মিনিট পর্যন্ত। বিশেষ করে জুড বেলিংহামের একাধিক গোলের প্রচেষ্টা একা কুম্ভর মতো রুখে দিয়ে ইংল্যান্ড সমর্থকদের হতাশা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছিলেন। শেষপর্যন্ত অবশ্য তাঁকে হার মানালেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন। ৭৫ মিনিটে সতীর্থের বাড়ানো ক্রশে হেডে গোল করে সমতা ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন তিনি। এখানেই থেমে থাকেননি কেন। ৮৬ মিনিটে বক্সের মাঝে বল পেয়ে কেন চকিতে হাফ টার্নে ভিড়ের মাঝেই গোলার মতো শট নিলে, তা গোলকিপার মপাসিকে দাঁড় করিয়ে রেখে জালের ভেতর আছড়ে পড়ে। চাপের মুখে হ্যারি কেনের এই গোলটা শুধু অনবদ্যই নয়, এই বিশ্বকাপের সেরা বললেও ভুল হবে না। এই গোলেই কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় মেক্সিকো সিটিতে মেক্সিকোর মুখোমুখি ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপে কেনের গোলসংখ্যা এখন ১৩। তিনি ছাপিয়ে গেলেন কিংবদন্তী পেলেকে গোলসংখ্যায়। চলতি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ৫ গোল করার সুবাদে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে কেন রয়েছেন মেসি ও এমবাপের থেকে এক গোল পিছনে। তবে এসব নিয়ে একবারেই ভাবছেন না কেন। তাঁর মাথায় এখন চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো। ৫ জুলাই মেক্সিকো সিটিতে প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। এটাই ভাবাচ্ছে হ্যারি কেনকে। কঙ্গো ম্যাচের জয় ভুলে ওই ম্যাচেই ফোকাস করেছেন তিনি।
আজটেকা স্টেডিয়ামের মাঠে যেখানে ইংল্যান্ড মোকবিলা করবে মেক্সিকোর, সেই জায়গাটা মেক্সিকো সিটির দক্ষিণে কয়োকান অঞ্চলে। সবচেয়ে বড় কথা, ২২০০ মিটার অর্থাৎ ৭২০০ ফুট উচ্চতায় স্টেডিয়াম অবস্থিত। এটা প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের জন্য খুব চাপের। বাতাসে অক্সিজেনের ভাব অনেক কম। মেক্সিকোর ফুটবলাররা ওই পাতলা অক্সিজেনেই খেলে অভ্যস্ত, কিন্তু প্রতিপক্ষ ফুটবলাররা কিছুক্ষণের মধ্যেই বেদম হয়ে পড়ে। পেশিতে টান ধরে। পা ভারি হয়ে যায়। ফলে সমস্যায় পড়েন তাঁরা। ৮৭ হাজার দর্শকাসন বিশিষ্ট ওই স্টেডিয়ামের মাঠে মেক্সিকো এখনও পর্যন্ত কোনও বিশ্বকাপের ম্যাচ হারেনি। তাই বলাই বাহুল্য মানসিক অ্যাডভান্টেজ নিয়েই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ওই মাঠে।
হ্যারি কেন নিজের চিন্তা গোপন করেননি মেক্সিকো ম্যাচ নিয়ে। বলেই দিলেন, ‘ এটা ভালই বুঝি আমরা ওই উচ্চতার সঙ্গে এত তাড়াতাড়ি মানাতে পারব না। সেখানে মেক্সিকোর এটা বিরাট সুবিধা। আমরা জানতাম এই সমস্যা নিয়েই আমাদের খেলতে হবে। বিশ্বকাপে এগোনোর ক্ষেত্রে এই বাধা টপকাতে মানসিক দৃড়তা নিয়েই মাঠে নামতে হবে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে।’
কঙ্গোর বিরুদ্ধে জয় নিয়ে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের প্রতিক্রিয়া, সকলেই ইংল্যান্ডের জয় দেখতে চাইছিলেন। ওটাই বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল ম্যাচে। শুরুতে গোল হজম করে সেটা বেড়ে যায়। তবে বিশ্বাস ছিল ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে ফুটবলাররা। নিজেদের লড়াকু চরিত্রটা তুলেও ধরে প্রথমার্ধের জলপানের বিরতির পর থেকে। তবে গোলটা আসছিল না কঙ্গোর গোলকিপার এমপাসির হার না মানা মনোভাবের জন্য। এমন কিছু সেভ করেন এমপাসি, যা অবিশ্বাস্য। তবে হাল ছাড়েননি ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। শেষপর্যন্ত অধিনায়কোচিত ভূমিকায় হ্যারি কেন জোড়া গোল করে জয় এনে দিয়েছেন। এটাই মেক্সিকো ম্যাচের আগে বাড়তি মোটিভেশন জোগাচ্ছে দলকে। সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ, সমস্যাও আছে। তবে বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্যে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে তো তৈরি থাকতেই হবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
