Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

ভারত ২(‌আনোয়ার, সন্দেশ)‌ তাজিকিস্তান ১(‌সামিয়েভ)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ কাফা নেশনস কাপে শুরুটা দারুভাবে করল ভারত। হিসোর স্টেডিয়ামে তাদের প্রথম ম্যাচে তাজিকিস্তানকে ২-‌১ গোলে হারিয়ে। ২০০৮ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের ফাইনালে শেষবার তাজিকিস্তানকে হারিয়েছিল ভারতীয় ফুটবল দল। কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই নিজের প্রথম ম্যাচে ১৭ বছর পর তাজিকিস্তানকে হারালেন খালিদ জামিল। ইরানের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস কয়েকগুন বাড়িয়ে দেবে।

খালিদ জামিলকে মূলত সকলেই চেনেন তাঁর রক্ষণ সংগঠনের মুন্সিয়ানার কারণে। রক্ষণ জমাট রেখে আইএসএলে জামশেদপুর এফসির কোচ হিসেবে অনেক ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। সেই সুবাদে ফেডারেশনের বিচারে পরপর দু’‌বার বর্ষসেরা কোচের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। আগের কোচ মানোলো মারকোয়েজ তাঁর সময়কালে দেড়বছরে একটির বেশি ম্যাচ জেতেননি শুধু নয়, ভারতীয় ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে পৌঁছে দিয়ে রণে ভঙ্গ দিয়ে পালান। এমন একটা সময় হাল ধরার জন্য ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এমন একজন কোচ খুঁজছিলেন, যিনি আত্মবিশ্বাসটা ফেরাবেন ফুটবলারদের মধ্যে। বিদেশি নয়, দেশি কোচের ওপরই ভরসা রেখে তাঁরা খালিদ জামিলের হাতে ভারতীয় দলকে তুলে দেন। সেটা যে খুব একটা ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না, তার প্রমাণ মিলেছে তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে খালিদের কোচিংয়ে শুরু থেকে ফুটবলারদের ইতিবাচক খেলার মানসিকতা দেখে।

ভারতের কোচ খালিদ তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে ৪-‌৪-‌১-‌১ ছকে দল সাজিয়েছিলেন রক্ষণে ও আক্রমণের ভারসাম্য বজায় রেখে। খালিদের রক্ষণ জমাট করার কাজটা সহজ হয়ে যায় দীর্ঘদিন পর আনোয়ার ও সন্দেশ স্টপারে একসঙ্গে খেলার কারণে। এঁরা দু’‌জনে নিঃসন্দেহে ভারতের দুই সেরা সেন্টার ব্যাক। রাইট ব্যাকে অভিজ্ঞ রাহুল বেকেকে রেখে খালিদ লেফট ব্যাকে নবীন উভেসকে খেলানোর সাহস দেখান। আসলে জামশেদপুরের কোচ থাকার সুবাদে উভেসের দক্ষতা তাঁর জানা। তবে দলের শেপ ও শৃঙ্খলা রাখতে গিয়ে আক্রমণে শানানোর ব্যাপারে কোনও কার্পণ্য করেননি খালিদ।

৪-‌৪-‌২ ছকে ভরসা রাখা তাজিকিস্তান কোচ গেলা শেকলাদজে সম্ভবত ভারতীয় দলের এতটা আক্রমণাত্মক খেলা প্রত্যাশা করেননি। তাই শুরুতে একটা আলগা ভাব থেকে গিয়েছিল তাঁর দলের রক্ষণে। সেটাই কাজে লাগান ভারতীয় ফুটবলররা। ৫ মিনিটে তাজিকিস্তান রক্ষণের ভুল কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় ভারত। বাঁপ্রান্তের সাইডলাইন থেকে লম্বা থ্রো নিয়েছিলেন মহম্মদ উভেস। তাজিকিস্তান বক্সের মাঝে সেই বল পড়ার সময় গোলকিপার হাসানভের আংশিক ক্লিয়ারেন্স শূণ্যে উঠে যায়। সেই বলে লাফিয়ে উঠে গোল লক্ষ্য করে হেড নেন আনোয়ার আলি। বল গোললাইনে ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন তাজিকিস্তানের নাজারভ। বল তাঁর সতীর্থর পিঠে লেগে গোলে ঢুকে যায়।

প্রশংসা করতে হবে ভারতীয় দলের কোচ খালিদ জামিল ও তাঁর ফুটবলারদের মানসিকতার। এক গোল দিয়ে সন্তুষ্ট থেকে নিজেদের খোলসে গুটিয়ে নেননি। বরং আক্রমণের ঝাঁজ বজায় রেখে তাজিকিস্তানকে চাপে রাখেন। তার ফল মেলে। ১৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় ভারত। ডানপ্রান্ত থেকে আনোয়ারের ভাসানো বলে বক্সের মাঝে রাহুল বেকে জোরালো হেড দিলে, তা গোলকিপার হাসানভের হাত থেকে বেরিয়ে এলে সামনে বাজপাখির মতো ওত পেতে থাকা সন্দেশ ঝিঙ্গান তা গোলের ভেতর ঠেলে দেন।

তবে দু’‌গোল হজমের পরও তাজিকিস্তান ঘরের মাঠে লড়াই ছাড়েনি। বরং হিসোর স্টেডিয়ামের ২০ হাজার দর্শকের বিপুল সমর্থন নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানাতে শুরু করে। ১৬ মিনিটে ফ্রিকিক ও কর্নার থেকে গোল করার চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে গোলকিপার গুরপ্রীতের তৎপরতায় সফল হয়নি। ২৩ মিনিটে চমৎকার একটি মুভ তুলে এনে গোল করে ব্যবধান কমিয়েও ফেলে। ভারতের বক্সের বাইরে পায়ের স্কিলে সুরেশকে ডজ পাশানবে ঘুরে গিয়ে সামনে ববয়েভকে বল বাড়ান। ববয়েভ সেই বল আলতো লবে সামনে রাখলে, নিজের শরীর দিয়ে সন্দেশকে আড়াল করে টোকা মেরে গোলকিপার গুরপ্রীতের পাশ দিয়ে জালের ভেতর জড়িয়ে দেন সামিয়েভ।

গোল পেয়ে দ্বিগুন উৎসাহে সমতা ফেরাতে ঝাঁপিয়েছিল তাজিকিস্তান। গোলকিপার গুরপ্রীত ও রক্ষণের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধে ২-‌১ গোলে এগিয়ে থেকেই সাজঘরে ফেরে ভারত। বিরতির পর তাজিকিস্তানের কোচ গেলা শেকিলাদজে তাঁর ফুটবলারদের অলআউট আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছিলেন নিশ্চয়ই। তাতেই তাজিকিস্তান সাগরের ঢেউয়ের মতো আক্রমণের পর আক্রমণ তুলে আনে। গোল লক্ষ্য করে প্রথম ১৫ মিনিটে তাজিকিস্তান অন্তত ৫টি শট নিয়েছিল, যা গুরপ্রীত ফর্মের শিখরে উঠে তা না রুখলে ভারত লিড খুইয়ে পিছিয়ে পড়তে পারত।

আগের কোচ মানোলো মারকোয়েজ ভারতীয় দল থেকে গুরুপ্রীতকে বাদ দিয়েছিল সেসময় ফর্মে থাকা বিশাল কাইথকে সুযোগ দিতে। মোহনবাগান কোনও ফুটবলারকে না ছাড়ায় এবার আর বিশালের দলে থাকার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাতেই গত নভেম্বরের পর গুরপ্রীতকে জাতীয় দলে ফেরান কোচ খালিদ। তাঁর আস্থার মর্যাদা দিলেন গুরপ্রীত অন্তত হাফডজন সেভ করে। শুধু তাই নয়, ৭২ মিনিটে রুস্তম সোইরভের নেওয়া পেনাল্টি সেভ করে দিলেন গুরপ্রীত দুরন্তভাবে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে। বক্সের মাঝে সোইরভকে বিক্রমপ্রতাপ ফাউল করায় পেনাল্টি পেয়েছিল তাজিকিস্তান। গুরপ্রীতের এই পারফরমেন্সের জন্য ম্যাচের সেরা বলতে কোনও বাধা নেই।

দলের ওপর চাপ বাড়ছে দেখে চিঙ্গলেসানাকে নামিয়ে রক্ষণে লোক বাড়িয়ে দেন কোচ খালিদ। তার মাঝেই ৮৫ মিনিটে মহেশের নেওয়া শট তাজিকিস্তান গোলকিপার না রুখলে, ভারত তৃতীয় গোলটা পেয়ে যেত।

ভারত:‌ গুরপ্রীত, বেকে, আনোয়ার, সন্দেশ, উভেস, সুরেশ(‌নিখিল)‌, জিকসন(‌দানিশ)‌, ছাংতে(‌মহেশ)‌, আশিক(‌রোশন)‌, ইরফান(‌চিঙ্গলেসানা)‌, বিক্রমপ্রতাপ(‌বরিস)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *