অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএল ২০২৪-২৫-এ প্লে-অফ খেলে সেমিফাইনালের দরজা খুলে ফেলা বেঙ্গালুরু এফসি পাঁচ গোলের রেকর্ড করেছিল মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে। আর দ্বিতীয় প্লে-অফে প্রথমবার জিতে সেমিফাইনালে দরজা খুলে ফেলল জামমসেদপুর এফসি। পুরো টুর্নামেন্টে নর্থ-ইস্ট ও জামশেদপুর সমানে সমানে লড়াই করে প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু প্লে-অফের ম্যাচে শিলংয়ে ঘরের মাঠে হারের মুখ দেখতে হল জুয়ান পেদ্রোর ছেলেদের। একক কথায় খারাপ খেলেই হারতে হল ডুরান্ড চ্যাম্পিয়নদের। সেখানে এক ভারতীয় কোচের স্ট্র্যাটেজিতে মাত খেল বিদেশি কোচ। মাঠে উত্তেজনা না ছড়ালেও ডাগআউটে প্রভাব পড়ল ফলাফলের।
ফিলোজফার কোচ পেদ্রোকে দেখা গেল বার বার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে। কখনও মাঠের মধ্যেই নিজের দলের প্লেয়ারদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করলেন আবার কখনও তেড়ে গেলেন প্রতিপক্ষ কোচের দিকে। তবে ম্যাচে দু’জনকে একে অপরের সঙ্গে গলা মেলাতেও দেখা গেল। তবে এই ম্যাচে জামশেদপুর কোচ খালিদ জামিলের তুরুপের তাস হয়ে উঠলেন এমন একজন যে মাঠে নামলেই হলুদ কার্ড দেখার পর কোচ দ্রুত তুলে নিতে বাধ্য হন। সেই প্রণয় হালদার এদিন দলের রক্ষণকে রীতিমতো একা হাতে সামলালেন। যে ফাঁক গলে গোলের মুখ খুলতে পারল না লাদিন আজারের মতো সর্বোচ্চ স্কোরারও। ম্যাচের সেরাও তিনি।
বোঝা গেল আলাদিন থমকে গেলে থমকে যায় নর্থ-ইস্টও। পুরো মরসুমটা দাঁপিয়ে খেলেছেন তিনি কিন্তু এদিন পুরোটাই অফ কালার ছিলেন। শেষ মুহূর্তে ১০ জনের জামশেদপুরকে পেয়েও সমতায় ফিরতে তো পারেইনি নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড বরং আরও একটা গোল হজম করে বসেছে। ম্যাচ শুরুর ৩২ মিনিটেই গোলের মুখ খুলে ফেলেছিল জামশেদপুর। এক্ষেত্রে নর্থ-ইস্ট ডিফেন্ডারদেরও ভূমিকা ছিল। ফ্রি কিক থেকে উড়ে আসা বল বাগে পেয়েও ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ নর্থ-ইস্ট ডিফেন্ডার। আর সেই সুযোগ নিয়েই বল জালে জড়ান স্টিফেন এজে।
এগিয়ে গিয়ে এবার কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েন খালিদ। এক একটা সমময় এমনও দেখা গেল ১০ জনে মিলে ডিফেন্স করছে জামশেদপুরের। যার ফলে আরও কঠিন হয়ে গেল নর্থ-ইস্টের গোলের মুখ খোলা। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলেই। দ্বিতীয়ার্ধেও ব্যবধান ধরে রাখার জন্যই খেলতে থাকে জামশেদপুর। তার মধ্যেই ৮৯ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জামশেদপুরের মোবাশির। তখনও হাতে বাকি অতিরিক্ত সময়ের আট মিনিট। ফুবলে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। সমতায় ফিরতে পারত নর্থ-ইস্ট কিন্তু হয়ে গেল উল্টোটা। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে দ্বিতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করেন জাভি হার্নান্ডজ।
তার পরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়া খালিদ জামিলের অঙ্গভঙ্গি মোটেও পছন্দ হয়নি পেদ্রোর। নিজের রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে ছুটে যান জাশেদপুরের দিকে। তবে হাতাহাতি আটকে দেন দুই দলের সাপোর্ট স্টাফরা। একে অপরের উদ্দেশে কিছু বলতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে জামশেদপুর প্লেয়ারদেরও দেখা যায় প্রতিপক্ষ প্লেয়ারদের সান্তনা দিতে। সেমিফাইনালে এবার জামশেদপুরের মুখোমুখি মোহনবাগান।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
