Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
এএফসি কাপ গ্রুপ

অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএল ২০২৩-২৪-এ বুধবারের ম্যাচে নামার আগেই তিনি বলেছিলেন, দলে আরও উন্নতি, সংশোধন প্রয়োজন। এ দিন অনেক চেষ্টার পর বেঙ্গালুরুর এফসি-র শক্তিশালী রক্ষণের প্রচীরে চিড় ধরিয়ে ১-০ গোলে জয়ের পর মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ হুয়ান ফেরান্দো সাংবাদিকদের বলেন, “অবশ্যই আমাদের দলের উন্নতি প্রয়োজন। এই রকম পরিস্থিতিতে আরও ভাল ভাবে জায়গা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন ছিল। ম্যাচ যখন গোলশূন্য ছিল তখনকার চেয়ে এক গোল হয়ে যাওয়ার পর আমরা ভাল খেলেছি। আসলে ভুলগুলো ঠিকমতো শোধরানোর সময় পাচ্ছি না। কারণ, খুব কম সময়ে আমাদের অনেক ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। তিন দিন পরেই আবার এএফসি কাপের ম্যাচ। ম্যাচ কেন্দ্রিক অনুশীলনই করতে হচ্ছে আমাদের। ভুল সংশোধনের কাজগুলো করা যাচ্ছে না ঠিকমতো”।  

বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিপক্ষের গোল এরিয়ায় মোহনবাগান অ্যাটাকাররা বারবার ব্যর্থ হয়। এই দুর্বলতা অবশ্যই চিন্তায় রাখবে ফেরান্দোকে। এ দিন সারা ম্যাচে গোলের উদ্দেশ্যে ১১টি শট মারে তারা। কিন্তু তার মধ্যে দশটি শটই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দলের অর্ধেকই আক্রমণাত্মক ফুটবলারে ভরা। তা সত্ত্বেও ৬৭ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের একটিও শট গোলে রাখতে না পারাটা অবশ্যই দুশ্চিন্তার বিষয়। শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিনিটের মাথায় হুগো বুমৌসের গোলে কষ্টার্জিত জয় পায় সবুজ-মেরুন শিবির। 

খেলোয়াড়দের ক্লান্তিকেও এই পারফরম্যান্সের জন্য দায়ী করলেন ফেরান্দো। তিনি বলেন, “শুরু থেকেই আমাদের অনেক ফুটবলারই সামনে উঠে খেলছিল। মনবীর, লিস্টন, জেসন, সহাল। কিন্তু ৬০-৬৫ মিনিটের খেলার পরে যখন ফুটবলাররা ক্লান্ত হতে শুরু করে, তখন ওদের পক্ষে জায়গা তৈরি করা কঠিন হয়ে ওঠে। তাও আমরা পরিবর্ত খেলোয়াড়দের নামিয়ে দলের ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু সতীর্থদের ক্লান্তি কাটিয়ে ছন্দে ফেরা কঠিন ছিল। তবে দলের ছেলেদের হার না মানার মানসিকতা দেখে আমি খুশি। ক্লান্তি ঘিরে ধনা সত্ত্বেও ওরা কিন্তু হাল ছাড়েনি। এটা খুবই জরুরী”। 

তিন দিন পরেই এএফসি কাপের ম্যাচে মলদ্বীপের মাজিয়ার এসআরসি-র বিরুদ্ধে নামবে তারা। তার চার দিন পরেই ফের চেন্নাইনের বিরুদ্ধে আইএসএলের পরের ম্যাচ। এই ম্যাচগুলিতে তাঁদের লক্ষ্য নিয়ে ফেরান্দো বলেন, “আমরা ম্যাচের শেষ দিকে অনেকগুলো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি। ওই সময় ওঠানামায় কিছুটা হলেও উন্নতি দেখা যায়। পরের ম্যাচে আমাদের লক্ষ্য থাকবে আরও বেশি জায়গা তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করে আরও বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করা”। 

ম্যাচের সেরা তারকা হুগো বুমৌস বলেন, “বেঙ্গালুরু শক্তিশালী দল। তবে খুবই রক্ষণাত্মক। আমরা বল পজেশনে অনেক এগিয়ে ছিলাম। নিয়ন্ত্রণও করেছি বেশি। আমরাই বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছি আজ। তাই জয়টা আমাদেরই প্রাপ্য ছিল। তবে পরবর্তীকালে আমাদের সামনের দিকে আরও ভাল মুভ তৈরি করতে হবে। আক্রমণে আরও ধারালো হতে হবে”। 

তিনিও ক্লান্তিকে এই দুর্বলতার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন। বলেন, “আমরা এই ক’দিনে ১১টা ম্যাচ খেলেছি। তার মধ্যে দশটাই জিতেছি। ম্যাচগুলো এত কম সময়ে হচ্ছে যে, বিশ্রামের ও তরতাজা হওয়ার যথেষ্ট সময় পাচ্ছি না। আবার তিন দিন পরেই আমাদের মাজিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ। সেই ম্যাচেও আমাদের জিততেই হবে। ফলে সবার পক্ষে পুরো ৯০ মিনিট সমান ছন্দে খেলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আমি বলব আমরা আজ ভালই খেলেছি”। 

এর পরে কোনও ম্যাচে এরকম কঠোর রক্ষণ থাকলে কী করবেন, জানতে চাইলে বুমৌস বলেন, “আমাদের জায়গা তৈরির ক্ষেত্রে আরও উন্নতি করতে হবে। সহাল, দিমি, জেসন ও আমাকে আরও তৎপর হতে হবে। উইং দিয়ে আরও আক্রমণ বাড়াতে হবে। আরও গতি বাড়াতে হবে। বিপক্ষের খেলোয়াড়দের আরও তাড়াতাড়ি ক্লান্ত করে তুলতে হবে। আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছে। গোলের সামনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আরও নিখুঁত হতে হবে”।         

(লেখা ও ছবি আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *