অলস্পোর্ট ডেস্ক: ম্যাচের শুরুটা করে দিয়েছিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। কিন্তু প্রথমার্ধ শেষেই ম্যাচের দখল নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল মোহনবাগান। শনিবাসরীয় সন্ধেয় সল্টলেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ম্যাচ শুরুর পাঁচ মিনিটেই গোল করে মোহনবাগানকে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের অস্ট্রেলিয়ান ফরোয়ার্ড টমি জুরিচ। পুরো প্রথমার্ধটাই ১-০ গোলে ব্যবধান উপভোগ করার পর ১-২ গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করতে হয় নর্থইস্টকে। হাবাস আসার পর থেকে জয়ের সরণিতেই রয়েছে মোহনবাগান। গোয়ায় গিয়ে হারিয়ে এসেছে এফসি গোয়াকে। লিগ পর্বে প্রথমবার হারের মুখ দেখতে হয়েছে গোয়াকে। এক ম্যাচে ছয় গোল হল। প্রথমার্ধে তিন ও দ্বিতীয়ার্ধে তিন।
এদিন মাচের পাঁচ মিনিটে নর্থইস্টকে পেনাল্টি পাইয়ে দিয়েছিলেন বাগান ডিফেন্ডার দীপেন্দু বিশ্বাস। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে হাতে লাগিয়ে ফেলেন তিনি। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি টমি জুরিচ। শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে উত্তরপূর্ব ভারতের এই দল মোহনবাগানের ঘাঁড়ে চেপে বসে রীতিমতো। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময় ততক্ষণে দেখানো হয়ে গিয়েছে। আর সেটাকেই নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর সময় বেছে নিল মোহনবাগান। ৪৫+১ মিনিটে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরালেন লিস্টন কোলাসো। কাউকোর অসাধারণ মাপা পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকেই লিস্টনের জোড়াল শট চলে যায় গোলে। সমতায় ফেরে মোহনবাগান।
গোল পেয়ে যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় মোহনবাগান। মুহূর্তের মধ্যেই দ্বিতীয় গোল। এবার কারিগর কামিংস। দিমিত্রির ফ্রি কিক মনভীরের মাথা ছুঁয়ে পেয়ে গিয়েছিলেন জনি কাউকো। আবারও আর একটা মাপা ক্রস হেডে ঠিক গোলকিপারের সামনে। ফাঁকা গোলে বল রাখতে ভুল করেননি কামিংস। এই গোলের সঙ্গেই প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজিয়ে দেন রেফারি। ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ খেলতে নামে যেন অন্য মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে পর পর তিনটি পরিবর্তন করে ফেলেন হাবাস। এক সঙ্গে দীপেন্দু ও অভিষেক তুলে নামিয় দেন আনোয়ার ও আশিসকে। কিছু পরেই জনি কাউকোকে তুলে নামান দীপক টাংরিকে। ততক্ষণে ৪-২ গোলে এগিয়ে গিয়েছে মোহনবাগান।
তবে জনি কাউকো উঠে যেতেই মাঝ মাঠ থেকে মোহনবাগানের খেলাটা চোখে পরার মতই থমকে গেল। পর পর বাগান আক্রমণে যে ঝড় উঠেছিল সেটাও থেমে গেল। এর পরও পরিবর্তন করলেন হাবাস। কামিসকে তুলে সাদিকু, আর সাহালকে তুলে হামতেকে নামিয়ে দিলেন। আর সব মিলে কিছু ভাল পরিবর্তনের পাশাপাশি মাঝমাঠটা ঘেটে গেল। যদিও তখন এগিয়ে মোহনবাগান। তাই হয়তো রক্ষণে জোড় দিতে চাইলেন কোচ। আর গোল হল না। যে গতিতে মোহনবাগান চারগোল করেছিল তাতে মনেই হচ্ছিল আরও গোল হবে। যেভাবে মোহনবাগান রক্ষণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন আনোয়ার তেমনই মাঝ মরসুমে বাগান মাঝমাঠের দায়িত্ব যে দারুণভাবে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন কাউকো তা পর পর দুই ম্যাচেই প্রমান করে দিলেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই যদিও ২-২ করে দিয়েছিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ফ্রিকিক থেকে গোল করে যান তাদের অন্যতম ফরোয়ার্ড প্রথম গোলের মালিক টনি জুরিচ। এই গোলের পিছনে মোহনবাগান রক্ষণের বড় ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রথমে ইউয়েস্তে ও পরে দীপেন্দুকে মাত করেই গোল। গোল হজম করে আবার আক্রমণে ফেরে মোহনবাগান। ৫৩ মিনিটে কামিংসের পাস থেকে দিমিত্রির অসাধারণ ফিনিশ আটকাতে পারেননি প্রতিপক্ষ গোলকিপার। ৫৭ মিনিটে শেষ গোলটি করে যান। সাহাল আব্দুল সামাদ। এবার নিখুঁত গোলের বলটি বাড়িয়েছিলেন সেই কাউকো। তাঁর তিন অ্যাসিস্টেই বাজিমাত মোহনবাগানের। ম্যাচ শেষে ফেন্সিং টপকে মাঠে ঢুকে পড়ল ফ্যান। প্লেয়াররা সেলফিও তুললেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের নজরে এল বিষয়টি এবং তাঁকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হল।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, শুভাশিস বোস, দীপেন্দু বিশ্বাস (আনোয়ার আলি), হেক্টর ইউয়েস্তে, লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং, সাহাল আব্দুল সামদ (লালরিনিয়ানা হামতে), অভিষেক সূর্যবংশী (আশিস রাই), জনি কাউকো (দীপক টাংরি), জেসন কামিংস (আর্মানদো সাদিকু), দিমিত্রি পেত্রাতোস।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
