মুনাল চট্টোপাধ্যায়: এতটা সিরিয়াস মেজাজে হোসে মোলিনাকে এর আগে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। নিজের জন্মদিন নিয়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখানো পছন্দও করলেন না। বরং অনুশীলনে নামতে দেরি হচ্ছে বুঝে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট টিম ম্যানেজমেন্টের তরফে আনা কেক দ্রুত কেটে অধিনায়ক শুভাশিসের মুখে তুলে দিয়েই মাঠের দিকে পা বাড়ালেন দলের চিফ কোচ মোলিনা। প্রচারমাধ্যমের ‘ওয়ান্স মোর’ আবেদনে সাড়া দেননি তিনি, শনিবার ডায়মন্ড হারবার ম্যাচের গুরুত্ব মাথায় রেখে।
কথায় ও কাজে মোলিনা যে রীতিমতো পেশাদার, সেটা বারবার বুঝিয়ে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের মুখোমুখি হওয়ার আগের দিনের সাংবাদিক সম্মেলনে। গ্রুপ শীর্ষে থেকে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টারফাইনালে ওঠার অনিশ্চয়তা না রাখতে, গোলপার্থক্যে এগিয়ে থাকা ডায়মন্ডের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে গ্রুপের শেষ ম্যাচে জিততেই হবে বাগান ব্রিগেডকে। সেটা কোনও বাড়তি চাপ বলে মনে করছেন না মোলিনা। এমনকি সবুজ মেরুন শিবির যখন একাধিক চোট আঘাত ও কার্ড সমস্যায় জর্জরিত, তখনও মোলিনার মুখে একটাই কথা, পরিস্থিতি যেমনই হোক, মোহনবাগানের মতো বড় দলকে মাঠে নামতে হয় জিততে। সেই লক্ষ্য নিয়েই ডায়মন্ড হারবারের মোকবিলা করবে শনিবার।
পরপর দুটো কার্ড দেখায় নেই ডিফেন্ডার দীপেন্দু বিশ্বাস। চোট আলবার্তো রডড্রিগেজ, মনবীর, কিয়ান, সুহেলের। তাঁরা নেই ডায়মন্ড ম্যাচে। তার জন্য হাতপা ছড়িয়ে কাঁদতে বসছেন না মোলিনা। বলেইদিলেন, ‘ থাকলে ভাল হত। কিন্তু নেই বলে হাহুতাশ করছি না। কোনও অজুহাত খাড়া করতে চাইছি না ডায়মন্ড হারবার ম্যাচের অগে। ওদের বাদ দিয়ে দল সাজানোর পরিকল্পনা ভেবে রেখেছি।’ এঁদের বিকল্প কারা হবেন, সেটা ভেঙে না বললেও, রক্ষণ সংগঠন জমাট করতে কৌশলে বদল আনার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন মোলিনা। ৪-৪-২য়ের চেনা ছক ছেড়ে ৩-৫-২ ছকে হাঁটার আভাসটা উঠে এল বাগান হেডস্যারের বক্তব্যে।
প্রতিপক্ষ ডায়মন্ড হারবার দলের কোচের ভূমিকায় কিবু ভিকুনার থাকাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন মোলিনা। বলেন, ‘ কিবুর কথা জানি। উনি তো মোহনবাগান লেজেন্ড। দলকে আইলিগ চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। তাই ওঁর কোচিংয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’
এর মাঝে সবুজ মেরুন শিবিরে স্বস্তি আপুইয়াকে নিয়ে। ডুরান্ডের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটির তরফে মোহনবাগান এসজিকে দেওয়া চিঠিতে আপুইয়ার ১ ম্যাচের নির্বাসনের কথা বলা হয়েছে। এতে ডায়মন্ড ম্যাচে আপুইয়ার খেলতে বাধা নেই। মোলিনার পরিকল্পনায় তিনি থাকছেন। তবে এত দেরিতে টুর্নামেন্ট কমিটি আপুইয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানানোয় বিরক্ত মোলিনা। বলেন, ভারতীয় ফুটবলের এটাই সমস্যা। একটা সিদ্ধান্ত জানাতে ৯দিন লাগিয়ে দিল কমিটি।
সদ্য কলকাতায় পা রাখা জেমি ম্যাকলারেন ও জেসন কামিংসের ফিটনেস সমস্যা থাকলেও, তাঁদের ডায়মন্ড ম্যাচে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বুঝে ব্যবহার করবেন, এমনটাই জানালেন মোলিনা। তবে বৃহস্পতিবার মাঝরাতে কলকাতায় নেমে সবুজ মেরুন ভক্তদের মাথায় চেপে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া দিমিত্রি পেত্রাতোস শুক্রবার বিকেলে মোহনবাগান মাঠের অনুশীলনে থাকলেও, ডায়মন্ড ম্যাচে তিনি মোলিনার পরিকল্পনায় নেই। সাফ জানালেন, মাত্র একটা অনুশীলন শেসনে দিমিকে খেলানোর কোনও প্রশ্ন ওঠে না। সবচেয়ে বড় কথা, ডায়মন্ড হারবার ম্যাচ জেতা জরুরি, কিন্তু চোট বাড়ানোর ঝুঁকি নিয়ে নয়।
এত চোট কেন দলে মরশুমে শুরুতে, এই প্রশ্নে বিরক্তির সুরে মোলিনার প্রতিক্রিয়া, ‘ ভারতীয় ফুটবলের পরিকল্পনার অভাবের ফল এটা। খেলার সময়ের মেয়াদটা ছোট। আর অফসিজন, অর্থাৎ ফুটবলারদের বিশ্রামের সময়টা বিরাট লম্বা। প্রায় ৩ মাস। এর ফলে ফুটবলারদের যতই নিজেদের ফিট রাখার জন্য রুটিন করে দেওয়া হোক, তারা কতটা সেটা পুরোটা মানবে, বা মেনেছে, বলা মুশকিল। আমরা তো পুলিশম্যান নই, যে ফুটবলারদের ওপর সবসময় নজর রাখব। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। আইএসএল কবে শুরু হবে, সেটাই তো জানা যায়নি। সুতরাং প্রিসিজন নিয়ে পরিকল্পনা করাই সম্ভব হচ্ছিল না।’
ফুটবলাররা অবশ্য অনুশীলনে ছিলেন ফুরফুরে মেজাজেই। ডায়মন্ড ম্যাচ জেতার বাড়তি চাপ তাদের ছুঁয়েছে বলে মনে হয়নি। ডুরান্ডে গত ২ ম্যাচে ২টি করে গোল করেছেন লিস্টন কোলাসো। ডায়মন্ড ম্যাচে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন? লিস্টনের উত্তর, ‘ গোল করতে ভালই লাগে। কিন্তু তার থেকেও বেশি জরুরি দলের জয়। তাই ব্যক্তিগত লক্ষ্যপূরণের থেকে দলের সাফল্যে বেশি জোর দিচ্ছি। ডায়মন্ড ভাল খেলছে। তাই সেরা দিয়ে ম্যাচ জিতে শেষ আটে যাওয়া নিশ্চিত করতে চাই।’ মাস্ট উইন সিচুয়েশনটাই ভাল খেলার বাড়তি মোটিভেশন বলে উল্লেখ করলেন লিস্টন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
