Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএল ২০২৩-২৪-এ প্রথম হারের মুখ দেখল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তবে এই ম্যাচের সব লাইম লাইট কেড়ে নিলেন রেফারি। কয়েকগুচ্ছ কার্ডের মধ্যেই ২-১-এ ম্যাচ জিতে আইএসএল-এ মোহনবাগানের বিরুদ্ধে অপরাজিত তকমা ধরে রাখল মুম্বই।

বুধবার মুম্বই ফুটবল এরিনায় গতবারের নক আউট চ্যাম্পিয়নদের ২-১-এ হারাল গতবারের লিগশিল্ড জয়ীরা। প্রথমার্ধে জেসন কামিংসের গোলে এগিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সেই ব্যবধান ধরে রাখতে পারল না মোহনবাগান। ৪৪ মিনিটে সমতা আনেন গ্রেগ স্টুয়ার্ট এবং ৭৩ মিনিটে বিপিন সিংয়ের দেওয়া গোলে আটবারের মুখোমুখিতে ছ’নম্বর জয়টি পেল সাগরপাড়ের দল।

চলতি লিগে এই প্রথম হারের মুখ দেখল মোহনবাগান এসজি। এর আগে টানা সাতটি ম্যাচে অপরাজিত (৬টি জয় ও ১টি ড্র) থাকার পরে আট নম্বর ম্যাচে হারল তারা। এই হারের ফলে লিগ টেবলে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরেই রয়ে গেল মোহনবাগান এসজি এবং সমানসংখ্যক পয়েন্ট অর্জন করে চার নম্বরে উঠে এল মুম্বই সিটি এফসি। 

মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এদিন শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও পরে ক্রমশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যেমন নিজেদের হাতে নিয়ে আসে, তেমনই প্রথমার্ধের শেষ দিকে ফের আধিপত্য বিস্তার করে সমতা আনে মুম্বই এবং দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে। সারা ম্যাচে যেখানে তিনটি শট গোলে রাখেন গ্রেগ স্টুয়ার্টরা, সেখানে জেসন কামিংসরা দুটি শট গোলে রাখতে পারে। দু’পক্ষেরই রক্ষণ এ দিন সঙ্ঘবদ্ধ ছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষ দিকে নিজেদের গোলের সামনে সবুজ-মেরুন শিবিরের বাঁধন কিছুটা আলগা হতেই সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেয় মুম্বই সিটি এফসি।     

এ পর্যন্ত পড়ে একে আর পাঁচটি ম্যাচের মতো স্বাভাবিক একটি ম্যাচ মনে হতেই পারে। কিন্তু এ দিন এই ম্যাচের ফলের সঙ্গে ম্যাচের মেজাজের বিন্দুমাত্র মিল পাওয়া যায়নি। রেফারি রাহুল গুপ্তা এ দিন কড়া হাতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সাতটি হলুদ কার্ড ও সাতটি লাল কার্ড দেখান। এতগুলি লাল কার্ড ও হলুদ কার্ড একসঙ্গে কখনও দেখানো হয়নি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের গত ন’টি মরশুমে এবং এই মরশুমে তো বটেই। 

এ দিন মুম্বই সিটি এফসি-র চারজন ও মোহনবাগান এসজি-র তিনজন ফুটবলার লাল কার্ড দেখেন। হোম টিমের আকাশ মিশ্র, গ্রেগ স্টুয়ার্ট, বিক্রম প্রতাপ সিং ও অধিনায়ক রাহুল ভেকে লাল কার্ড দেখার সঙ্গে মোহনবাগানের আশিস রাই, লিস্টন কোলাসো ও হেক্টর ইউস্তেকেও এই কার্ড দেখানো হয়। 

এর আগে একাধিক ম্যাচে আটটি এমনকী ন’টি হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে। এ বছর ৮ অক্টোবর কেরালা ব্লাস্টার্স ও মুম্বই সিটি এফসি-র মধ্যে ম্যাচে ন’টি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এ ছাড়াও এই মরশুমেই আরও চারটি ম্যাচে আটটি করে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু আইএসএলের ইতিহাসে কখনও সাতটি লাল কার্ড একসঙ্গে দেখানো হয়নি। যা হল বুধবার রাতে। এ দিন শেষ পর্যন্ত দুই দলেরই ন’জন করে ফুটবলার মাঠে রয়ে যান। ম্যাচের পরেও যার রেশ থাকে এবং নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করে দুই দলের আরও তিন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। 

শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বলে হয়তো এ দিন চার ব্যাকে দল সাজান মোহনবাগান কোচ হুয়ান ফেরান্দো। আশিস রাই, হেক্টর ইউস্তে, ব্রেন্ডান হ্যামিল ও শুভাশিস বোস রক্ষণে শুরু করেন। হুগো বুমৌসকে এ দিন শুরু থেকে নামানো হয় আরমান্দো সাদিকুর জায়গায় এবং কিয়ান নাসিরির জায়গায় নামেন মনবীর সিং। 

শুরু থেকেই এ দিন আক্রমণাত্মক ছিল দুই দলই। বল পজেশনে এগিয়ে ছিল মুম্বই সিটি এফসি। তাদের আক্রমণও ছিল বেশি। এতটাই বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ে তারা যে ১৩ মিনিটের মাথায় অতিরিক্ত আগ্রাসন সামলাতে না পেরে  মনবীরের পিঠে হাঁটু দিয়ে জোরালো আঘাত করেন আকাশ মিশ্র এবং সে জন্য তাঁকে লাল কার্ড দেখান রেফারি রাহুল গুপ্তা। 

লেফট ব্যাক আকাশের জায়গায় সঙ্গে সঙ্গে ভ্যান নিফকে নিয়ে আসা হয়। পরে ১৯ মিনিটের মাথায় লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতেকে তুলে নিয়ে তাঁর জায়গায় ভালপুইয়াকে নামিয়ে তাঁকে লেফট ব্যাকে পাঠানো হয় এবং নিফকে মাঝমাঠে ফিরিয়ে আনেন কোচ পিটার ক্রাতকি। 

আকাশ লাল কার্ড দেখার পর থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মোহনবাগানের কাছে। শুরুর দিকে বল পজেশনে এগিয়ে ছিল মুম্বই। ক্রমশ তাতে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। যার জেরে ২৫ মিনিটের মাথায় গোল পেয়ে যায় মোহনবাগান। মাঝমাঠ পেরিয়ে শুভাশিসের ফরোয়ার্ড থ্রু থেকে বল পেয়ে বাঁদিক দিয়ে উঠে বক্সে লো ক্রস দেন লিস্টন কোলাসো। গোলের সামনে কামিংসের পায়ে পড়ার আগে গোলমুখী রস্টন গ্রিফিথ তা ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। এই সুযোগই কাজে লাগিয়ে গোলে বল ঠেলে দেন তাঁর পাশে থাকা কামিংস (১-০)। 

৩০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারত মোহনবাগান। কোলাসোর ফ্রি কিক থেকে হেডে গোল করেন শুভাশিস। কিন্তু অফ সাইড ছিলেন তিনি। ফলে গোল বাতিল হয়ে যায়। ৩৫ মিনিটের পর থেকে নিজেদের মধ্যে পাস খেলে নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে শুরু করে মুম্বই। এই সময় মোহনবাগানের রক্ষণ সঙ্ঘবদ্ধও ছিল। কিন্তু ক্রমশ রক্ষণাত্মক হয়ে ওঠাই কাল হয় কলকাতার দলের। তাদের ক্রমশ কোণঠাসা করতে শুরু করে হোম টিম। যার জেরে তারা ৪৪ মিনিটের মাথায় সমতাও পেয়ে যায়। 

বাঁ দিক থেকে বিপিন সিংয়ের ভাসানো ক্রসে হেড করে দুর্দান্ত গোল করেন গ্রেগ স্টুয়ার্ট (১-১)। ওই সময়ে মোহনবাগানের চার ফুটবলার স্টুয়ার্টের আশেপাশে ছিলেন এবং তাঁকে সামনে থেকে বাধা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হন শুভাশিস। 

গোল পাওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে আক্রমণের ঝড় তোলে মুম্বই। তাদের গোলের পরের মিনিটেই আপুইয়ার শট বাঁ দিকের পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। বক্সের বাইরে থেকে ভ্যান নিফের বাঁ পায়ের জোরালো এক শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রস্টন গ্রিফিথের গোলমুখী হেডও আটকে দেন গোলকিপার বিশাল। প্রথমার্ধের শেষে দুই দলেরই একটি করে শট গোলে ছিল। বল পজেশন ৫০-৫০।  

বিরতির পরে আক্রমণাত্মক শুরু করে দশ জনে খেলা মুম্বই সিটি এফসি। ৫১ মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডারদের ধোঁকা দিয়ে বক্সের মধ্যে ক্রস পাঠান বিপিন। যা ঠিকমতো হেড করতে পারলে অবধারিত গোল পেতেন পেরেইরা দিয়াজ। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। 

কিন্তু এর পরের দশ মিনিটে যা যা ঘটে, তা পুরো ম্যাচের মেজাজই পাল্টে দেয়। ৫৫ মিনিটের মাথায় পেরেইরা দিয়াজকে মারাত্মক ভাবে সাইড ট্যাকল করার জন্য লাল কার্ড দেখেন আশিস রাই এবং এর তিন মিনিট পরে সবুজ-মেরুন শিবিরকে রীতিমতো চমকে দিয়ে রেফারির সঙ্গে তর্ক করার অপরাধে লাল কার্ড দেখেন লিস্টন কোলাসো। অর্থাৎ তখন ম্যাচটা দাঁড়ায় মুম্বইয়ের দশজন বনাম মোহনবাগানের ন’জন। 

আক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে ৬১ মিনিটে দিমিত্রিয়স পেট্রাটস ও কিয়ান নাসিরি নামেন যথাক্রমে বুমৌস ও কামিংসের জায়গায়। আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার উদ্দেশ্যে ৬৭ মিনিটে দীপক টাঙরির জায়গায় নামেন আরমান্দো সাদিকু। 

অন্যদিকে ৬৮ মিনিটের মাথায় ভালপুইয়ার বদলে বিক্রম প্রতাপ সিংকে নামান মুম্বইয়ের কোচ ক্রাতকি। অর্থাৎ আক্রমণে তীব্রতা বাড়াতে চান তিনিও। তার ফল পান পাঁচ মিনিটের মধ্যেই। ৭৩ মিনিটে গোল দলকে এগিয়ে দেন বিপিন সিং। নিজেই কর্নার স্পট থেকে স্টুয়ার্টকে ছোট পাস দিয়ে বক্সের মাথায় পৌঁছে যান বিপিন। সেখানে তাঁকে বল ফিরিয়ে দেন স্টুয়ার্ট। বিপিনের ভলি অনিরুদ্ধ থাপার পায়ে লেগে উঁচুতে উঠে গিয়ে ডিপ করে ঢুকে যায় গোলে (১-২)।   

সমতা আনার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন পেট্রাটস, কিয়ানরা। ৮০ মিনিটের মাথায় বক্সে ঢুকে গোলে কোণাকুনি শট নেন পেট্রাটস, যা এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে গোলের বাইরে চলে যায়। স্টপেজ টাইমে পেট্রাটসের পাস থেকে গোলে শট নেন কিয়ান, যা না আটকালে দলকে দুই পয়েন্ট খোয়াতে বাধ্য করতেন গোলকিপার ফুর্বা লাচেনপা।

লাল কার্ডের সংখ্যা অবশ্য তখনও থেমে যায়নি। ৮৮ মিনিটে গ্রেগ স্টুয়ার্টকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখান রেফারি। অর্থাৎ ম্যাচ দাঁড়ায় নয় বনাম নয়ে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেও নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করে লাল কার্ড দেখেন বিক্রম প্রতাপ সিং, রাহুল ভেকে ও হেক্টর ইউস্তে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে সাতটি লাল কার্ড ও সাতটি হলুদ কার্ড দেখানো হয় এই ম্যাচে।   

মোহনবাগান এসজি দল: বিশাল কয়েথ (গোল), ব্রেন্ডান হ্যামিল, হেক্টর ইউস্তে, শুভাশিস বোস (রবি রানা-৮২), আশিস রাই, অনিরুদ্ধ থাপা, দীপক টাঙরি (আরমান্দো সাদিকু-৬৬), হুগো বুমৌস (কিয়ান নাসিরি-৬০), লিস্টন কোলাসো, জেসন কামিংস (দিমিত্রিয়স পেট্রাটস-৬০), মনবীর সিং (সুমিত রাঠি-৮২)। 

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *