Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: আই লিগ জিতে যারা গত মরসুমে প্রথম আইএসএলে খেলেছিল, শুক্রবার সেই পঞ্জাব এফসি মুখোমুখি হবে এ বার প্রথম আইএসএলে খেলা মহমেডান এসসি-র। গতবার যে অবস্থায় ছিল পঞ্জাব এফসি, এ বার অনেকটা সেরকমই অবস্থা মহমেডানেরও। পঞ্জাবকে দেখে অবশ্য প্রেরণা পেতে পারে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। কারণ, গতবার শুরুটা বেশ খারাপ করলেও ধীরে ধীরে যে ভাবে নিজেদের শক্তিশালী করে তোলে দল, যে ভাবে দ্বিতীয় মরসুমে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে তারা, তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে সাদা-কালো ব্রিগেডের। শুক্রবার সেই দলের বিরুদ্ধেই জয়ে ফেরার লড়াই মহমেডানের।

প্রথম আইএসএলের শুরুটা বেশ আশা জাগিয়ে করেছিল মহমেডান এসসি। একটি ম্যাচে জয় ও একটিতে ড্র তাদের তিন ম্যাচেই চার পয়েন্ট এনে দেয়। চেন্নাইয়ে গিয়ে সেখানকার দলকে হারিয়ে আসে রাশিয়ান কোচ আন্দ্রেই চেরনিশভের দল। কিন্তু তার বেশি আর এগোতে পারেনি তারা। প্রতি ম্যাচের শুরুটা আশা জাগিয়ে করলেও ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছে তারা। মনে হচ্ছে ৯০ মিনিট সমান তীব্রতায় খেলার ক্ষমতাই নেই দলটার।

শুক্রবার নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগের দিন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “গোল করতে না পারাটা খেলোয়াড়দের মনস্তাত্বিক সমস্যা হতে পারে। গোলের সুযোগ পেয়ে ওরা হয়তো ঘাবড়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতি অনুশীলনেই আমরা গোল করার প্রস্তুতি নিই, ভিডিও দেখিয়ে খেলোয়াড়দের বোঝাই কোন পরিস্থিতিতে কী ভাবে গোল করতে হবে। কিন্তু ম্যাচে গিয়ে সেই জড়তা কাটাতে পারছে না তারা”।

প্রথম তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট পাওয়ার পর গত ছ’টি ম্যাচে যে ভাবে ১৪ গোল খায় সাদা-কালো ব্রিগেড, তা একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল না। ন’জনে খেলা ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা, তাও কম অপ্রত্যাশিত ছিল না। দুর্বল ইস্টবেঙ্গলকে সামনে পেয়েও তাদের রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি সাদা-কালো বাহিনী। তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা গোল করতে না পারা।

নিজেদের সমস্যার কথা স্বীকার করে সাদা-কালো ব্রিগেডের কোচ বলেন, “এই লিগে প্রতি ম্যাচই আমাদের কাছে কঠিন। তবে কয়েকটা ম্যাচে আমরা ভাল খেলেছি। দলের ছেলেরা দারুন খেলেছে। তবে ম্যাচ জেতার মতো দক্ষতা বোধহয় আমাদের দলে নেই। কখনও কখনও আমরা দুর্ভাগ্যের কারণে সফল হতে পারিনি। প্রচুর গোলের সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারিনি। আমাদের সময় লাগবে ওই জায়গায় আসতে”।

এ পর্যন্ত ৯০টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছে মহমেডান। কিন্তু গোল করতে পেরেছে মাত্র পাঁচটি থেকে। প্রতিপক্ষের গোলের সামনে গিয়ে বারবার খেই হারিয়ে ফেলা তাদের নিয়মে পরিণত হয়েছে। এমনকী দু’টি পেনাল্টিও মিস করেছেন তাদের দুই বিদেশী ফুটবলার সিজার মানজোকি ও কার্লোস ফ্রাঙ্কা। প্রতিপক্ষের গোলের সামনে ফিনিশ করতে না পারার রোগ তাদের সব ম্যাচেই ভোগাচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে না পারলে শুক্রবারও জয়ে ফেরা কঠিন হবে মহমেডানের।

তাদের গত ম্যাচে যেমন প্রথমার্ধ গোলশূন্য রেখেছিল সাদা-কালো বাহিনী। দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র আট মিনিটের মধ্যে দু-দু’টি গোল করে জয়ের দিকে এগিয়ে যায় জামশেদপুর এফসি। ৭৯ মিনিটের মাথায় ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় তারা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দু’মিনিট আগে দলকে সান্ত্বনা গোল এনে দেন মহম্মদ ইরশাদ। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান আরও কমানোর সুযোগ তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ফ্রাঙ্কা। ফুটবলের সবচেয়ে জরুরি বিষয়ই যে দলের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা, সেই দলের সাফল্যে ফেরা মোটেই সোজা কাজ না।

এ দিক থেকে পাঞ্জাব এফসি ঠিক উল্টো প্রান্তে। তারা আটটি ম্যাচে ৮৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করে তার মধ্যে ১৪টি কাজে লাগিয়ে নিয়েছে। তাদের রক্ষণও বেশ কঠিন। এ পর্যন্ত ন’টি গোল হজম করেছে তারা। সেরা ছয়ে থাকা দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে কম গোল খেয়েছে মোহনবাগান এসজি (৮)। তার পরেই তারা। বাকি ১১টি দলই দশটির বেশি গোল খেয়েছে। সে দিক থেকে দেখলে বোঝাই যায় পাঞ্জাবের রক্ষণে ফাটল ধরানো মোটেই সোজা না। অর্থাৎ মহমেডানকে আক্রমণে তীব্রতা ও ধার অনেক বাড়াতে হবে। গত ম্যাচেও তিন গোল খাওয়া একটা দলের পক্ষে তা কতটা সম্ভব, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

প্রথম ন’টি ম্যাচের মধ্যে ছ’টিতেই হেরেছে মহমেডান এসসি। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধেও যদি হারে তারা, তা হলে হায়দরাবাদ এফসি-র নজির ছোঁবে। ২০১৯-২০-তে প্রথম দশটি ম্যাচে তারা সাতটিতেই হেরেছিল। চারটি অ্যাওয়ে ম্যাচে এ পর্যন্ত ছ’টি গোল খেয়েছে মহমেডান, দিয়েছে মাত্র দু’টি। লিগের একমাত্র জয়টি অবশ্য তারা পেয়েছে অ্যাওয়ে ম্যাচেই, চেন্নাইয়ে। চলতি লিগে মহমেডানই সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি থেকে গোলের সুযোগ মিস করেছে। ইস্টবেঙ্গল এফসি-ও একটি পেনাল্টি মিস করেছে। লিগে আর কোনও দল পেনাল্টি মিস করেনি। তাদের ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড কার্লোস ফ্রাঙ্কা প্রতিপক্ষের বক্সে এখন পর্যন্ত ৪৫ বার বলে পা লাগিয়েছেন। কিন্তু বক্সের ভিতর থেকে একটিও গোল করতে পারেননি, যা সর্বোচ্চ।

টানা চার ম্যাচে গোল অক্ষত রাখতে না পারার পর গত ম্যাচেই মুম্বই সিটি এফসি-কে ৩-০-য় হারায় পাঞ্জাব এফসি। আইএসএলে তারা কখনও পরপর দুই ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে পারেনি। পাঞ্জাব এফসি এখন পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে কোনও গোল খায়নি। জামশেদপুর এফসি সম্পর্কেও একই তথ্য দেওয়া যায়। লুকা মাজেন এ পর্যন্ত পাঞ্জাবের মোট ১৬টি গোলে অবদান রেখেছেন (১২ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট)। এই ম্যাচে তিনি গোল করলে বা করালে দলের সর্বোচ্চ গোল-অবদানের মালিক হবেন। পিছনে ফেলে দেবেন মাদি তালালকে (৬ গোল, ১০ অ্যাসিস্ট)।

ম্যাচ- পাঞ্জাব এফসি বনাম মহমেডান এসসি

ভেনু- জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম, নয়াদিল্লি

কিক অফ- ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, সন্ধ্যা ৭.৩০

(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *