Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: প্রথমার্ধের শুরুটা কিন্তু করে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলই। কিন্তু গোলের সামনে গিয়ে বার বার খেই হারাল বোরহা, ক্লেটনরা। যে কারণে একটা সময়ের পর থেকে চেপে বসল পাঞ্জাব এফসি। পর পর আক্রমণে প্রথমার্ধেই বেশ বেগ দিল তখনও পর্যন্ত একটিও ম্যাচ না জেতা আইএসএল-এর নবাগত দল। আর তাদের পর পর আক্রমণের সামনে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে কিছুটা ছন্নছাড়া দেখাল। পাঞ্জাব দলে তেমন স্কোরার থাকলে এদিন প্রথম গোলটা পেয়েই যেতে পারত তারা। তবে আক্রমণ চলল। যার ফল ৩৬ মিনিটে পাঞ্জাব এফসি আর গোলের মাঝখানে ক্রসবার অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ালে এগিয়ে যেতে পারত অ্যাওয়ে টিম।

একই সমস্যা দেখা গেল ইস্টবেঙ্গল শিবিরেও। বার বার গোলের সামনে পৌঁছে গিয়েও গোলের মুখ খুলতে পারল না। প্রথমার্ধে তাও চেষ্টা দেখা গেল, দ্বিতীয়ার্ধটা হারিয়ে গেল। পাঞ্জাব রক্ষণের সামনে দেওয়াল হয়ে বার বার দাঁড়ালেন তাদের ডিফেন্ডার দিমিত্রিয়স। দুই স্টপারই নজর কাড়লেন। সঙ্গে তাদের ম্যান মার্কিংয়ে আটকে থাকল ইস্টবেঙ্গল আক্রমণ। দ্বিতীয়ার্ধে যেন ড্র করতেই খেলছিল পাঞ্জাব। আট ম্যাচে চারটি ড্র ও চারটি হার নিয়ে চার পয়েন্ট টেবিলে রেখে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নেমেছিল এই দল। এক পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা ছাড়ল পাঞ্জাব।

ইস্টবেঙ্গল চার ম্যাচ পরে জয়ের মুখ দেখেছিল ঘরের মাঠে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচে ৫-০ গোলে জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। সেই জয়ের ধারা ধরে রাখার কথাও ছিল টেবিলের ১১ নম্বরে থাকা দলের বিরুদ্ধে। সেই আশাতেই অনেকদিন পর গ্যালারি ভরিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। কিন্ত আরও একবার হতাশ হওয়ার পালা ছিল তাদের। এতদিনের হতাশা কাটার পাঁচ দিনের মধ্যেই সেই পুরনো ইস্টবেঙ্গল আবার ফিরে এল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। নিশু কুমারের জায়গায় রাকিপ, বোরহা হেরেরার জায়গায় পারদো লুকাস ও নন্ধা কুমারের জায়গায় পিভি বিষ্ণুকে নামিয়ে খেলার হাল ধরার চেষ্টা করলেন কোচ। ৮০ মিনিটে আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়াতে ক্রেসপোকে তুলে সিভেরিওকেও নামালেন কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে। পাঁচদিন আগে দেখা ইস্টবঙ্গলের সঙ্গে এই লাল-হলুদ ব্রিগেডকে মেলানো গেল না। যেন টাইম মেশিনে করে ফিরে গেল তারও আগে। আইএসএল মরসুমের শুরুতে।

পাঞ্জাব এদিন প্রথম থেকেই ম্যান মার্কিংয়ে জোড় দিয়েছিল। ১০-এর গায়ে লেগে থাকল ১০ জন। ইস্টবেঙ্গল আক্রমণে উঠলেই পুরো দল নিচে নেমে গিয়ে ডিফেন্স করছিল। যার ফলে বক্সের মধ্যে বার বার বল পেয়েও গোল এল না। একবারই পিভি বিষ্ণু বাঁ দিক দিয়ে উঠে দারুণ জায়গা তৈরি করে ফেলেছিলেন কিন্তু তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বাইরে পাঠালেন। ম্যাচে ফিরতে কোনওদিন না খেলা প্লেয়ারকেও নামিয়ে দিলেন কুয়াদ্রাত।মহেশকে তুলে অমনকে নামালেন শেষের দিকে। কিন্তু তখন তাঁর থেকে কিছু আশা করাটা অন্যায় হত। প্রত্যাশাকে ছাঁপিয়ে যেতে পারেননি কেউই।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন গিল, নিশু কুমার (মহম্মদ রাকিপ), মন্দার রাও দেশাই, লাল চুংনুঙ্গা, হিজাজি মেহের, সৌভিক চক্রবর্তী, সল ক্রেসপো (সিভেরিও টোরো), বোরহা হেরেরা (পারদো লুকাস), নাওরেম মহেশ সিং (অমন সিকে), নন্ধা কুমার (পিভি বিষ্ণু), ক্লেটন সিলভা।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *