মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের মারফত আইএসএল ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেডারেশন কর্তা ও আইএসএল ক্লাব প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের জুম মিটিংয়ের পরও আইএসএল ঘিরে অচলাবস্থা কেটেছে এমনটা বলা যাবে না। ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে কোনও সমাধানসূত্র বাতলানো হয়নি। বরং আইএসএল ক্লাবগুলোর কাছেই ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে প্রস্তাব পেশ করার কথা বলা হয়েছে কীভাবে আইএসএল করা যায়, তা নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের চুড়ান্ত রায় দানের আগে সেই প্রস্তাব বিচারপতিদের সামনে রাখার জন্য।
এআইএফএফের সঙ্গে আইএসএল ক্লাবগুলোর মধ্যে ৩ ডিসেম্বর একটি মিটিং হয়। সেখানে দুটি ক্লাব ছাড়া বাকিরা নিজেরা লিগ চালানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। একইসঙ্গে জনিয়েছিল লিগ পরিচালনা ও বানিজ্যিক স্বত্ত্বের অধিকার তাদের হাতে রাখতে দিতে হবে। শুক্রবারের মধ্যে সেটাই প্রস্তাব আকারে ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে পেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে আইএসএল ক্লাব প্রতিনিধিরা। একমাত্র এখনও নিজেরা ক্লাব পরিচালনায় একমত নয় ইস্টবেঙ্গল।
আইএসএল শুরুর স্বার্থে ২০২৫-২৬ মরশুমটা একটা শর্টটার্ম অর্থাৎ চটজলদি সাময়িক সমধানের পথ খুঁজে বের করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা ভেবে রাখার কথাও বলা হবে নয়া প্রস্তাবে আইএসএলের স্থায়িত্ব বজায় রাখতে। আর এটা জরুরি যারা টাকা ঢালবে, তাদের ভরসা জোগাতে। এছাড়া ক্লাবগুলোর হাতেই বানিজ্যিক স্বত্ত্বের অধিকার থাকতে হবে ফেডারেশনের নয়। আর লভ্যাংশের পরিমানটাও হবে কম। আপাতত আইএসএল যাতে থমকে না যায়, তাই ক্লাবের দ্বারা পরিচালিত অন্তর্বর্তীকালীন লিগ চালু করলেও, আগের মতো এআইএফএফ ও রিলায়েন্সের মাঝে যে ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি ছিল লিগ চালাতে, সেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
এছাড়া আইএসএল ক্লাবগুলি নতুন করে ফুটবলারদের স্যালারি ক্যাপ, পরিচালনার খরচে বদল চায়। তারপরই নতুন করে আইএসএল ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে মে মাস পর্যন্ত। এতে লিগের ফরম্যাট বদল অবশ্যম্ভাবী, বলতে গেলে টুর্নামেন্ট হবে ছোট আকারে। আর একারণেই প্রোমোশন ও অবনমন থাকবে না। একইসঙ্গে নতুন কোনও ক্লাবের অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে অধিকাংশ ক্লাবের মতের ওপর। আইনগত, পরিকাঠামোগত, লাইসেন্স সংক্রান্ত শর্তবলী, ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে সহায়তা নেওয়া হবে এআইএফএফর থেকে। দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ স্থির করতে এআইএফএফ কর্তা ও আইএসএল ক্লাব সিইওদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করার কথাও প্রস্তাবে বলা হবে।
প্রস্তাব আকারে এগুলো পেশ করা হলেও এআইএফএফ নিজে কতটা এটা মানবে বলা কঠিন। কারণ এর আগে ক্লাবগুলো মিলিতভাবে নিজেরা আইএসএল করার কথা বললে, ফেডারেশনের তরফে বলা হয়েছে, ২০ ডিসেম্বর এআইএফএফের বার্ষিক সাধারন সভা এনিয়ে আলোচনার আগে কোনও সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। সবটাই নির্ভর করবে ফেডারেশের সদস্যরা কী বলেন তারওপর। ইতিমধ্যেই ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির দুই সদস্য চিঠি দিয়ে ক্লাবের দ্বারা লিগ পরিচালনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এখন দেখার ক্রীড়ামন্ত্রক ও সুপ্রিম কোর্ট এব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেয় ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটাতে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
