অলস্পোর্টস ডেস্ক: ভারতীয় ফুটবলে সোনার ডিমপাড়া হাঁস এখন মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল। সেটা বুঝেছিল বলেই মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে তাদের টুর্নামেন্টে খেলানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল এফএসডিএল। কারণ তারা দেখেছিল, ভারতের বাকি কর্পোরেট দলগুলোকে খেলিয়েও মাঠে বেশি সংখ্যায় দর্শক টানা যাচ্ছে না। এমনকি দলগুলতো বিশ্বমানের ফুটবলারদের এনেও। সেখানে আইএসএল চলাকালীন আইলিগের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান ম্যাচে মাঠে উপচে পড়ছে ভিড়। তাই মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের জন্য আইএসএল তাদের দরজা খুলে দেয় নিয়মকানুনের কড়াকড়ি ছেড়ে দিয়ে।
আইএসএল কেন, ডুরান্ড কাপের সংগঠকরাও তো মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে তাদের মরে যাওয়া টুর্নামেন্টকে জীবিত করে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করলেন। দিল্লিতে থেকে কলকাতায় ডুরান্ড কাপ আয়োজন নিয়ে এসে গ্রুপ পর্বে ডার্বি নিশ্চিত করতে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে এক গ্রুপে রাখতে এতটুকু দ্বিধা করেননি। আর সেটা একবার নয়, বারবার। এতে কারও বুঝতে বাকি ছিল না, সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে সামনে রেখে ডুরান্ড কমিটি তাদের টুর্নামেন্টকে যেমন নতুন জীবন দেওয়ার পথ বেছেছেন, তেমন আর্থিক লাভের মুখ দেখাটাও। ডুরান্ডে তো এক মরসুমের টুর্নামেন্টে দু’বার দু‘প্রধানের দেখাও হয়েছে এর মাঝে।
আইএসএল, ডুরান্ড যদি মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে সামনে রেখে নিজেদের ব্যবসা বাড়ায়। তাহলে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনই বা তা করবে না কেন? আসন্ন সুপার কাপের যে সূচী বের করেছে এআইএফএফ, তাতে এক গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানকে তারা রেখেছে এক গ্রুপে। অর্থাৎ গোয়ার মাঠে মেগা ডার্বি নিশ্চিত। খেলা হবে ৩১ অক্টোবর। আর এবার যেহেতু এটা ফেডারেশনের সিজন ওপেনার টুর্নামেন্ট, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু প্লেঅফ স্লট পাওয়ার বিষয় জড়িয়ে আছে, তাই গত মরশুমের মতো মোহনবাগান যুব দল খেলানোর পথে হাঁটবে না। আর বিশেষ করে ইতিমধ্যেই যেখানে চলতি মরশুমে কলকাতা ফুটবল লিগ ও ডুরান্ড কাপ কোয়ার্টারফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের জ্বালা গায়ে লেগে আছে তাদের।
সেই জ্বালা আরও বাড়তে পারে মোহনবাগানের আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে সম্ভাব্য ডার্বিতে হারলে। আইএফএও তো এমনভাবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানকে দুটো গ্রুপে রাখার পরিকল্পনা করছে, যাতে ফাইনালে ডার্বিতে দু’দল মুখোমুখি হয়। ৬ দলকে নিয়ে শিল্ড শুরু হবে ৮ অক্টোবর। প্রতি গ্রুপে থাকবে ৩টি করে দল। একটি গ্রুপে মোহনবাগানের সঙ্গে অন্য দই দল, আর অন্য গ্রুপে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে বাকি দুই। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ছাড়া নামধারী এফসি, গোকুলাম এফসির অংশগ্রহণের সম্মতি মিলেছে। ইউনাইটেড স্পোর্টসকেও পেয়ে যাবে আইএফএ। ৬ নম্বর হিসেবে বেঙ্গালুরু এফসি ও জামশেদপুর এফসি খেলতে আগ্রহী। যার শর্ত আইএফএফের উপযুক্ত মনে হবে, তাকেই নেবে আইএফএ।
তাছাড়া তিন দলের দুটি গ্রুপের যেহেতু কোনও সেমিফাইনাল থাকছে না, গ্রুপের শীর্ষে থাকা দুটি দল সরাসরি ফাইনাল খেলবে, তাই ফাইনালের আগে ডার্বির কোনও সম্ভাবনা নেই। যেটা ১৮ অক্টোবর হওয়ার সম্ভাবনা তাই ডার্বি নিশ্চিত হবে তখনই , যখন মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দুটি গ্রুপ থেকে শীর্ষে থেকে ফাইনালে যাবে। আশা করা যায়, কোনওরকম না ঘটলে, ফাইনালে উঠবে দুই প্রধান, ডার্বি হবে, আইএফএর মুখে হাসি ফুটবে, সুপার কাপের ডার্বিতে দু’দল মুখোমুখি হওয়ার আগে। আইএফএর তহবিলে কিছু অর্থ আসবে স্পনসরহীন শিল্ডের বিপুল খরচ মিটিয়ে। দু’দলের একজন ফাইনালে গেলে, সেই লাভ হবে না, যা ডার্বিতে হওয়া সম্ভব।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
