Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতের দ্রুততম মহিলা স্প্রিন্টার দ্যুতি চাঁদ তাঁর জীবন অনেক ওঠাপড়া দেখেছেন, সে কেরিয়ার হোক বা ব্যক্তিজীবন। কিন্তু হঠাৎ একটা খবর ভেঙে দিয়েছিল তাঁকে। ২০২১ সালের নভেম্বরের ঘটনা। ডাক্তার যখন জানান তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগ। আর তার ফলে তাঁকে খেলা ছেড়ে দিতে হবে। টোকিও অলিম্পিকে মহিলাদের ১০০ মিটার এবং ২০০ মিটার দৌঁড়ের প্রাথমিক রাউন্ড অতিক্রম করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই এই খবর পান তিনি। ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গা ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (KIMS) এর অধ্যাপক স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুদীপ সতপথী তাঁকে জানান দ্যুতির শরীরে লেভেল ওয়ান ক্যান্সার রয়েছে।

এমআরআই রিপোর্টের পর ডাক্তারের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন পর দ্যুতি ভেঙে পড়েছিলেন। “আমি খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, নার্ভাস লাগছিল, ভেবেছিলাম আমার জীবনে কী ঘটতে চলেছে।” এক সময়ে ভারতীয় হকি দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ডাক্তার সতপথী।

দ্যুতি জানান ২০২১-এ তাঁর কুঁচকির চোটের সঙ্গেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তিনি৷ “টোকিও অলিম্পিকের (২০২১) আগে জাতীয় আন্তঃরাষ্ট্রীয় চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময়, আমি কুঁচকির আশপাশে খুব ব্যথা অনুভব করি৷ আমি বেশ কয়েকজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করি কিন্তু তাতে ব্যথার উপশম হয়নি। আমি অলিম্পিকে গিয়েছিলাম (জুলাই-আগস্ট, ২০২১) এবং সেখানে ভাল ফল করতে পারিনি,” তিনি বলেছিলেন।

দ্যুতি যোগ করেন, “অলিম্পিক থেকে ফেরার পর, ব্যথা বাড়তে থাকে। আমি ২০২১-এর নভেম্বরে একটি আলট্রাসাউন্ড করাই। সেখানে কিছুই আসেনি। তারপর আমি একটি এমআরআই স্ক্যান করিয়েছিলাম এবং ডাক্তার (সুদীপ সতপথী) আমাকে বলেছিলেন যে লেভেলওয়ান1 টেস্টিকুলার ক্যান্সারের আক্রমণ শুরু হয়েছে। তিনি বলেছিলেন যে আমাকে খেলা ছেড়ে দিতে হবে অন্যথায় এটি আরও খারাপ হবে।”

“আমার টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, তাই সেখান থেকেই হতে পারে। কুঁচকির ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়ছিল। সবাই বলছিল এটা কুঁচকির ব্যথা কিন্তু ডাক্তার বলেছে যদি এই সমস্যা চলতে থাকে তাহলে ক্যান্সারের আক্রমণ হতে পারে।” ২০১৫-তে দ্যুতি কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (CAS)-এ হাইপারঅ্যান্ড্রোজেনিজম বা মহিলাদের মধ্যে টেস্টোস্টেরনের উচ্চ মাত্রার উপর বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স পরিচালনাকারী সংস্থার নীতির বিরুদ্ধে একটি মামলা জিতেছিলেন।

এর আগে তাঁকে ২০১৪ কমনওয়েলথ গেমসের ভারতীয় দল থেকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেওয়া হয়েছিল কারণ হাইপারঅ্যান্ড্রোজেনিজম তাঁকে মহিলা ক্রীড়াবিদ হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে অযোগ্য করে তুলেছিল। ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার জন্য চার বছরের নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন দ্যুতি। ২০১৯-এ সমকামী সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেওয়া প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট তিনি।

দ্যুতি বলেন, “সেই সময়ে, ডাক্তার (সতপথী) বলেছিলেন এটি লেভেল ওয়ান ক্যান্সারের আক্রমণ। সেই সময় অনেক ব্যথা ছিল। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরে ব্যথা কমে যায়। আমি অন্য কোনও মেডিকেল পরীক্ষা করিনি কারণ আমি সুস্থ বোধ করছিলাম, খুব বেশি ব্যথা ছিল না। তারপর, আমি এই নমুনাটি নাডাকে দিয়েছিলাম এবং ডোপ পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছিল।”

তিনি জানান, তিনি মাত্র ১৫-২০ দিন কুঁচকির ব্যথার ওষুধ খেয়েছিলেন। ব্যথা কমে যাওয়ায় তিনি তা বন্ধ করে দেন। “আমি আমার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেছি যিনি আমাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অন্যথায় এটি বাড়তে থাকবে এবং একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠবে। তাই আমি প্রশিক্ষণ কিছুটা বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য ওষুধ খেয়েছিলাম।’’

“আমি ব্যথার কারণে কমনওয়েলথ গেমসে তেমন কিছু করতে পারিনি। বেশি পরিশ্রম করলেই ব্যথা আরও বেড়ে যায়,” বলেন দ্যুতি। আশ্চর্যজনকভাবে, ২০২১ নভেম্বরের এমআরআইয়ের পরে দ্যুতি আর পরীক্ষা করাননি। “এই ডোপ পজিটিভ রেজাল্টের পর (এই বছরের জানুয়ারিতে), আমি ডাক্তারি পরীক্ষা (ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য) করার অবস্থায় ছিলাম না। আমি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম। আমি একজন বিশেষজ্ঞের কাছে (চিকিৎসা) রিপোর্ট পাঠিয়েছিলাম যিনি আমাকে বলেছিলেন যে এটি আরও দুই-তিনজন ক্রীড়াবিদের সঙ্গেও ঘটেছে। তবে স্টেজ ওয়ান খুব ভয়ের কিছু না।”

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *