অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফরিদাবাদের একটি হোটেলে ১৭ বছর বয়সী এক জাতীয় স্তরের মহিলা শুটারকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে জাতীয় শুটিং কোচ অঙ্কুশ ভরদ্বাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে হরিয়ানা পুলিশ। ওই ক্রীড়াবিদের পরিবারের দায়ের করা একটি বিস্তারিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে, যার মধ্যে সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করা এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। এফআইআর অনুযায়ী, ঘটনাটি নতুন দিল্লির ডঃ কর্নি সিং শুটিং রেঞ্জে একটি জাতীয় স্তরের শুটিং প্রতিযোগিতার সময় ঘটেছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, ভরদ্বাজ তাঁর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের অজুহাতে ফরিদাবাদের একটি হোটেলের ঘরে ওই শুটারকে যৌন হেনস্থা করেন।
পুলিশ তার বিরুদ্ধে এনআইটি ফরিদাবাদের মহিলা থানায় শিশুদের যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো) এর ৬ ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(২) ধারার অধীনে একটি মামলা দায়ের করেছে।
ফরিদাবাদ পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা যশপাল যাদব বলেন, “মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে, আমরা ইতিমধ্যেই হোটেল কর্তৃপক্ষকে ঘটনার দিনের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অবিলম্বে শেয়ার করতে বলেছি, যাতে নাবালিকা মেয়েটির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়।”
অভিযুক্ত ব্যক্তি ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (এনআরএআই) কর্তৃক নিযুক্ত ১৩ জন জাতীয় পিস্তল কোচের মধ্যে একজন। অভিযোগের পর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এনআরএআই-এর মহাসচিব পবন কুমার সিং বলেন, “সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোচ অঙ্কুশকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তাকে কোনও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে না।”
এফআইআর-এ বলা হয়েছে যে, প্রথমে ওই ক্রীড়াবিদকে হোটেলের লবিতে কোচের সাঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু পরে পারফরম্যান্স মূল্যায়নের অজুহাতে তাকে ঘরে যেতে চাপ দেওয়া হয়। এতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, শুটার যদি এই ঘটনা সম্পর্কে কাউকে বলে, তবে কোচ তার ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেবে এবং তার পরিবারের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। ওই ক্রীড়াবিদ এই ঘটনার পর রীতিমতো বিধ্বস্ত অবস্থায় হোটেল থেকে বেরিয়ে আসে এবং পরে তার পরিবারকে বিষয়টি জানায়। এরপর পরিবারটি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। প্রতিবেদন অনুসারে, ওই ক্রীড়াবিদ অভিযোগ করেছে যে, অন্য একজন মহিলা শুটারও একই কোচের কাছ থেকে একই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন।
তার বাবা-মা জানান, তাদের মেয়েকে কাউন্সেলিং করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা এই মুহূর্তে তার স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। অভিভাবক হিসেবে তাঁরা চায় না অন্য কেউ একই পরিণতির শিকার হোক। অঙ্কুশ অন্যদের সাথেও এই ধরনের কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল। তারা আশা করছে, তদন্তে সেই বিষয়টিও বেরিয়ে আসবে। আপাতত তাঁরা হরিয়ানা পুলিশের উপর আস্থা রাখছেন যে তারা সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবে, কারণ তারা এফআইআর দায়ের করেছে। বলেন, ‘‘আমরা আরও আশা করি যে পঞ্জাব কর্তৃপক্ষ, যেখানে সে বসবাস করে এবং কাজ করে, এই বিষয়ে সহযোগিতা করবে। এই মুহূর্তে আমাদের এটুকুই বলার আছে। এরপর আমরা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করছি।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
