Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: এশিয়ান গেমস ২০২৩–এ বৃহস্পতিবার উশুতে ভারতকে রুপো এনে দিলেন মণিপুরের রোশিবিনা দেবী। মহিলাদের ৬০ কেজি বিভাগে রুপো পেয়েছেন তিনি। উশুর দু’টি রাউন্ডেই চিনের উ শিয়াওয়ের কাছে হারেন তিনি। রুপো পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মণিপুরের মেয়ে।

মণিপুরের এই ক্রীড়াবিদ গত কয়েক মাস ধরে নিজের রাজ্যে চলা হিংসা নিয়ে চিন্তিত। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির ফাঁকে পরিবারের সুরক্ষার কথা নিয়ে ভেবেছেন সব সময়। তাঁর পরিবার চুরাচাঁদপুর সংলগ্ন বিষ্ণুপুর জেলার কোয়াশিফাই গ্রামের মেইতেই সম্প্রদায়ের বাসিন্দা। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী কুকি জাতিগত সম্প্রদায়ের আধিপত্য রয়েছে। রোশিবিনা ফাইনালে দুই রাউন্ডে ০-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার আগে স্থানীয় হেভিওয়েট উ জিয়াওইয়ের বিরুদ্ধে লড়াই দেন। মণিপুরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত এবং অনেক বেশি আহত হয়েছেন।

“মণিপুর জ্বলছে। মণিপুরে এখনও লড়াই চলছে। আমি আমার গ্রামে যেতে পারব না। আমি এই পদকটি তাদের উৎসর্গ করতে চাই যারা আমাদের রক্ষা করছে এবং সেখানে এখনও কষ্ট পাচ্ছে,” রুপো জয়ের পর রোশিবিনা বলেন।

চিনের প্রতিযোগীর বিরুদ্ধে লড়া সহজ ছিল না রোশিবিনার। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের পা ধরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শিয়াওকে ফেলতে পারেননি তিনি। ফলে প্রথম রাউন্ডে শিয়াওকে জয়ী ঘোষণা করেন বিচারকেরা। দ্বিতীয় রাউন্ডের শুরুতেই অবশ্য শিয়াওকে ফেলে দেন রোশিবিনা। সোনা জেতার জন্য দ্বিতীয় রাউন্ড জেতা দরকার ছিল রোশিবিনার। কিন্তু রাউন্ডের শেষ দিকে শিয়াওয়ের কয়েকটা কিক তাঁকে পয়েন্ট এনে দেয়। সেই রাউন্ডেও শিয়াওকে জয়ী ঘোষণা করেন বিচারকেরা। ফলে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় রোশিবিনাকে।

মণিপুরে হিংসার জেরে মে মাস থেকে বাড়ি ফেরেননি রোশিবিনা। এমনকি অনুশীলনে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য পরিবারের লোকেদের সঙ্গে তাঁর কথা বলাও নিষেধ ছিল। পদক জিতে অবশেষে পরিবারের সঙ্গে কথা হয় রোশিবিনার। তিনি বলেন, “প্রতি রবিবার আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু প্রতিদিনই আমি ভাবি পরের সপ্তাহের শেষে আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারব তো?”

তিনি আরও বলেন, “আমি এই পদকটা আমার তিন বন্ধুর জন্য জিততে চেয়েছিলাম যারা এখানে আসতে পারেনি। আমি ও আমার বন্ধুরা একসঙ্গে প্রস্তুতি নিতাম এবং আমরা ভাল বন্ধু ছিলাম। এই ধরনের বড় ইভেন্টে নিজের পছন্দের মানুষদের সঙ্গে থাকাটা মানসিক দিক থেকে অনেক সুস্থ রাখে।‘’ এবার নেইমান ওয়াংশু, অনিলু তেগা ও মেপাং লামগুকে ভিসা দেয়নি চিন। কারণ এই তিনজন অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা। ফলে তাদের এশিয়ান গেমস খেলার জন্য ভিসা দেয়নি চিন। অনিলু ছিলের রোশিবিনার পার্টনার। এই তিন বন্ধুর জন্যই তিনি পদক জিততে চান।

প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়েছিলেন রোশিবিনা। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানের মুবসারা আখতারকে হারিয়ে পা রেখেছিলেন শেষ আটে। রোশিবিনার কোচ কুলদীপ হান্ডুও ছাত্রীর পারফর্ম্যান্সে খুশি। “গত এশিয়ান গেমসে ও ব্রোঞ্জ পেয়েছিল। এ বার আরও ভাল কিছুর লক্ষ্য নিয়েই আমরা এশিয়ান গেমসে এসেছিলাম। সোনা জিতব, আশা ছিল। কিন্তু কিছু ভুলের জন্য সেটা হয়নি। বিশ্ব মিটে এই আক্ষেপ যাতে মিটিয়ে নেওয়া যায়, সেই চেষ্টাই আমরা করব।”

খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *