বেশিদিন আগের কথা নয়। প্রথম সেমিফাইনাল খেলতে জামশেদপুরে গিয়ে হোম টিমের সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হতে হয়েছিল মোহনবাগান সমর্থকদের। এবার সেই একই ঘটনার অভিযোগ মোহনবাগান সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এ এক অসাধারণ সমাপ্তি। সাফল্যের শিখরে থেকে শেষ হল মোহনবাগানের আইএসএল মরসুম। সম্পন্ন হল দ্বিমুকুটের স্বপ্ন। এর আগে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দল। এর আগে শিল্ডে জিতেছে। কিন্তু একই মরসুমে শিল্ড ও কাপ জেতা এই প্রথম।
ম্যাচের শেষ বাঁশির পর মাঠ থেকে গ্যালারি সর্বত্র উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙল। তার পরই ছিল পুরস্কার পর্ব। সেখানে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স এর পাশাপাশি সম্মানিত করা হল ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স দিয়ে দলকে সাফল্য এনে দেওয়া ফুটবলারদেরও।
আইএসএল শিল্ডের পরে এ বার কাপও জিতে নিল তাঁর দল। দ্বিমুকুট জিতে তারা গড়ল ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই অসাধারণ সাফল্যের পরেও একেবারেই স্বাভাবিক মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের হেড কোচ হোসে মোলিনা। বাড়তি উচ্ছ্বাস বা উত্তেজনা কোনওটাই নেই তাঁর গলায়।
হাত থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে ম্যাচকে কীভাবে নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে নিতে হয় সেটা এই মরসুমে একাধিকবার প্রমাণ করেছে মোহনবাগান। এমনকি দ্বিতীয় সেমিফাইনালেও ঘরের মাঠে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে আপুইয়ার অতিরিক্ত সময়ের গোলই ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিল মোহনবাগানকে।
তিনি কলকাতা ছেড়েছেন গত বছর। শুধু কলকাতা নয়, তিনি ভারত ছেড়েছেন একই সঙ্গে। মাসটা সেপ্টেম্বর। আভাসটা পাওয়াই গিয়েছিল, তাঁর বিদায় আসন্ন। কলকাতার ফুটবল ক্লাবগুলোর এটা একটা গর্বের ট্র্যাডিশন বটে। দল চারটে ম্যাচ যেই পর পর হারবে, কোচিকে বিদায় করে...
খেলার জগতটাই হয়তো এমন। এখান থেকেই তো এসেছে সেই বিখ্যাত শব্দ 'স্পোর্টসম্যান স্পিরিট'। মাঠের মধ্যের লড়াইয়ের বাইরে সবাই সবার বন্ধু। মাঠে যাঁরা একে অপরকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ থাকেন তারাই খেলা শেষে যেভাবে গল্প জুড়ে দেন তা দেখে...
মুখোমুখি শুভাশিস বোস আর গুরপ্রীত সিং সান্ধু। একজন মোহনবাগানের রক্ষণের ভরসা আর একজন বেঙ্গালুরুর শেষরক্ষণকে সামলে চলেছেন দীর্ঘদিন। দু’জনেই দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে এক সঙ্গে সামলে চলেছেন দেশের রক্ষণ।
এমনটা হয়তো এই বাংলাতেই সম্ভব। যেখানে ক্রিকেট, ফুটবল মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আর যদি দুই সেরা দলের মালিক একই হয় তাহলে তো কথাই নেই। যেমনটা গত কয়েক বছর কলকাতার মাটিতে দেখা যাচ্ছে। একদিকে আইএসএল-এ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট আর অন্যদিকে...
শেষ মুহূর্তের গোলে জামশেদপুর এফসি-কে ২-০-য় হারানোর পরে মাঠেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন মোহনবাগানের স্প্যানিশ কোচ হোসে মোলিনা। তবে যখন সাংবাদিকদের সামনে আসেন, তখন আর ততটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে। তবে দলের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের ভূয়ষী প্রশংসা করেন।
