অলস্পোর্ট ডেস্ক: অবশেষে ভারতীয় ফুটবল ঘিরে অচলাবস্থা কাটার ইঙ্গিত মিলেছে এআইএফএফের তিন সদস্যের কমিটি ও ক্লাবজোটের প্রতিনিধিদের মধ্যে। বুধবারের আলোচনায় সশরীরে অংশ নেন দিল্লি, মুম্বই ও চেন্নাইন এফসির প্রতিনিধিরা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও নর্থ ইস্টের দুই প্রতিনিধি। এআইএফএফের কমিটির তিন সদস্য আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত, গোয়ার ফুটবল সংস্থার সভাপতি কায়তানো ফার্নান্ডেজ, কেরল ফুটবল সংস্থার সভাপতি নাভাস মিরানের দেওয়া প্রস্তাব এআইএফএফের কাছে জমা পড়লে, যেটা আইএসএল চালু করতে উপযোগী এমন দুটি প্রস্তাব নিয়েই ক্লাবজোটের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন অনির্বানরা।
আলোচনায় ইতিবাচক মনোভাবটাই বেশি ধরা পড়েছে। যদিও ক্লাব জোটের তরফে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের প্রতিনিধি লংটার্ম সমাধানের পথ খোঁজার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাঁকে যখন বোঝানো হয়, আপাতত আইএসএল চালু করতে আশু প্রয়োজন শর্টটার্ম সমাধানের, এবং ক্লাবজোটের অন্যান্য প্রতিনিধিরা তাতে সায় দেন, তখন বাগান প্রতিনিধি আর কথা বাড়াননি। ঠিক হয়, কমিটির দেওয়া দুটি প্রস্তাব নিয়ে ক্লাবজোটের ৫ প্রতিনিধি বাকি ক্লাবের সঙ্গে কথা বলবে। তারপর ২৬ ডিসেম্বর তারা এব্যাপারে নিজেদের মত জানাবে। সকলের গলাতেই একটা সুর, আইএসএল দ্রুত শুরু করতে যেটা ভাল মনে হবে, তাতে সায় দিতে কোনও বাধা নেই কোনওপক্ষেরই। বরং প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, সহযোগী হিসেবে মিলিতভাবে সহমত পোষণ করে আইএসএল আয়োজনের পথে হাঁটা এইমুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি ফুটবলার, ক্লাব ও ফুটবলের সঙ্গে জড়িত অসংখ্যা মানুষের কথা মাথায় রেখে।
এতে আশা করা যায়, ২৬ ডিসেম্বর ক্লাব জোট ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই এআইএফএফের কমিটির প্রস্তাবে সায় দেবে। আর তাহলেই ২৯ ডিসেম্বর এআইএফএফ ও ক্লাব জোট মিলিতভাবে আইএসএল শুরুর তারিখ, সম্ভাব্য ভেনু, সূচী ঘোষণা করতে পারবে। আশা করা যায়, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক এইধরনের মিলিত উদ্যোগে খুশি হবে। এবং সুপ্রিম কোর্টর বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ তা সাগ্রহে মেনে নেবে।
মূলত দুটি প্রস্তাব ক্লাব জোটের সামনে রাখা হয়েছিল এআইএফএফের কমিটির কাছ থেকে। একটা প্রস্তাব হল, দুটি ভেনু মূলত কলকাতা ও গোয়ায় আইএসএলের সব দলকে ভাগ করে খেলানোর ব্যবস্থা করা। এই দুটি ভেনুতে রাউন্ড রবিন ফরম্যাটে লিগ খেলার শেষে প্রথম ৬য়ে থাকা সুপার সিক্সে থাকা দলগুলির মধ্যে আরও একটি ছোট আকারের লিগ করে শেষপর্যন্ত সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্যায়ের নকআউট খেলা রাখার ভাবনা। আর একটি প্রস্তাব হল, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে আইএসএল করা। তবে সেক্ষেত্রে দু’দফার লিগ আয়োজনের সম্ভব নয় সময়ের অভাবে। বরং এক দফার হোম অ্যান্ড ও অ্যাওয়ে পদ্ধতি খেলার ব্যবস্থা হবে। এক্ষেত্রেও একদফার লিগ শেষে প্রথম ৬য়ে থাকা দলগুলিকে নিয়ে সুপার সিক্সের আরও একটি রাউন্ড রবিন লিগ হবে এএফসি লাইনসেন্সিং শর্তপূরণে ম্যাচের সংখ্যা বাড়াতে, বলা ভাল এএফসি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ খোলা রাখতে। সেই লিগের শেষে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্যায় থাকবে, যাতে এএফসির ম্যাচের শর্তপূরণ করতে পারে ফাইনালে খেলা দু’দলই।
আইসএল করতে গেলে যে আর্থিক সংস্থান জরুরি, সেটা কীভাবে আসবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এআইএফএফের কমিটি আপাতত নিজেরা স্পনসর খোঁজার পাশাপাশি ক্লাবগুলোর কাছে অ্যাপিয়ারেন্স ফি বাবদ এক কোটি টাকা করে নেওয়ার প্রস্তাব রেখেছে সামনে। সেক্ষেত্রে অন্তত এবারের আইএসএল আয়োজনের খরচ জোগাড় হয়ে যাবে। এখন ক্লাবগুলো এই প্রস্তাব মেনে নিলে ভাল। কারণ এখন সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার পাচ্ছে মাঠে বল গড়ানো।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
