Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: এক গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-১-এ নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে হারাল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। নর্থইস্টের ঘরের মাঠে তাদের ওপর রীতিমতো আধিপত্য বিস্তার করে হারাল সবুজ-মেরুন বাহিনী। ম্যাচের শেষ দিকে যে কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল তারা, তা কাজে লাগাতে পারলে আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত তারা। কয়েকদিন আগে নর্থইস্টকে পাঁচ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এ দিন মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা যদি সুযোগগুলি ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারতেন, তা হলে সেই ব্যবধানকেও ছাপিয়ে যেত পারতেন হয়তো। 

সারা ম্যাচে এ দিন ২৩বার গোলের চেষ্টা করে কলকাতার দল। সেখানে ৬টির বেশি সুযোগ তৈরি করে নিতে পারেনি নর্থইস্ট। প্রতিপক্ষের বক্সে মোহনবাগান যেখানে ৩৬বার বল ছুঁয়েছে, সেখানে নর্থইস্ট মাত্র তিনবার বল ছুঁতে পেরেছে। এতটাই ফারাক ছিল দুই দলের আক্রমণের তীব্রতায়। এ দিন সাতটি শট গোলে রাখে মোহনবাগান। নর্থইস্ট ইউনাইটেড তিনটির বেশি শট গোলে রাখতে পারেনি। বিরতির পরেই কিয়ান নাসিরিকে জোরালো আঘাত করে ম্যাচের দ্বিতীয় হলুদ তথা লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে যান নর্থইস্টের ডিফেন্ডার তোনদোনবা সিং। ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় দশ জনে খেলায় আরও দুর্বল হয়ে পড়ে নর্থইস্টের রক্ষণ। শেষ দিকে প্রায় হাল ছেড়ে দেয় তারা। 

জয় ছাড়াও সবুজ-মেরুন সমর্থকদের স্বস্তি দেওয়ার আরও একাধিক কারণ ছিল এই ম্যাচে। কামিংসের গোলে ফেরা, পেট্রাটস, বুমৌস ও মনবীরের মাঠে ফেরা। তার ওপর আবার বোনাস দলের বঙ্গ অধিনায়ক শুভাশিস বোসের গোল। সব মিলিয়ে দিনটা মনে রাখার মতো ছিল মোহনবাগানের। চার মিনিটের মাথায় ফাল্গুনী সিংয়ের গোলে নর্থইস্ট এগিয়ে যাওয়ার পরে যে চাপটা এসেছিল, তা প্রথম গোল করে কাটিয়ে দেন দীপক টাঙরি। ১৪ মিনিটে গোল শোধের পর কামিংস ব্যবধান বাড়ান ২৮ মিনিটে এবং ৭১ মিনিটের মাথায় শুভাশিসের গোলে জয় সুনিশ্চিত করে মোহনবাগান এসজি। এই জয়ের ফলে সাত ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে লিগ তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এলে তারা। নর্থইস্ট রয়ে গেল সাতে।     

এ দিন দিমিত্রিয়স পেট্রাটস, হুগো বুমৌস ও মনবীর সিংকে মোহনবাগানের রিজার্ভ বেঞ্চে দেখা যায়। প্রথম এগারোয় সহাল আব্দুল সামাদের জায়গায় দীপক টাঙরি শুরু করেন। পরে অবশ্য মাঠে নামেন তিন তারকাই। অন্যদিকে, গনি নিগম ও রোমেন ফিলিপোতোকে বাইরে রেখে প্রথম এগারো নামায় নর্থইস্ট, যে সিদ্ধান্ত খুব একটা ইতিবাচক ফল দেয়নি তাদের। 

যদিও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে হোম টিম নর্থইস্ট ইউনাইটেড এবং চতুর্থ মিনিটে গোলও দিয়ে দেয় তারা। কিন্তু তার পরে ক্রমশ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে আসে সবুজ-মেরুন বাহিনী এবং ২-১-এ এগিয়েও যায়।    

চতুর্থ মিনিটের মাথায় মিডফিল্ডার কোনসাম ফাল্গুনী সিং যে গোলটি করেন, তা অনবদ্য। বক্সের সামনে ব্রেন্ডান হ্যামিল ও অনিরুদ্ধ থাপার মাঝখানে জায়গা তৈরি করে কাট ইন করে সোজা গোলে শট নেন তিনি। বল বাঁক খেয়ে ডানদিকের ওপরের কোণ দিয়ে গোলে ঢুকে যায় (১-০)। 

কিন্তু এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর নর্থইস্ট যে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, তার খেসারত তাদের দিতে হয় মিনিট দশেকের মধ্যেই। ১৪ মিনিটের মাথায় প্রায় পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো গোল পেয়ে যান দীপক টাঙরি। কোলাসোর দূরপাল্লার ফ্রি কিক নর্থইস্টের গোলকিপার মিরশাদ মিচু দখলে না নিয়ে পাঞ্চ করে বার করে দেন, যা দীপক টাঙরির কাঁধে লেগে গোলে ঢুকে যায় (১-১)। 

রক্ষণাত্মক হয়ে ওঠা নর্থইস্ট মাঝে মাঝে প্রতি আক্রমণে উঠলেও প্রতিপক্ষের দুর্ভেদ্য রক্ষণের দেওয়ালে চিড় ধরাতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে সেটপিসই হয়ে উঠতে পারত তাদের একমাত্র অস্ত্র, যে সুযোগও তারা একাধিকবার পায়। ২১ মিনিটের মাথায় বক্সের সামনে হ্যামিল ফাউল করেন নেস্টরকে। যার ফলে পাওয়া নেস্টরের ফ্রি কিক দীপকের মাথায় লেগে বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। 

তবে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় বাগান। ২৫ মিনিটে ডান উইং থেকে নেওয়া কিয়ানের ফ্রি কিক কামিংস হেড করলেও তা সোজা গোলকিপারের হাতে জমা করে দেন। এ বার সুযোগ হাতছাড়া করলেও ২৮ মিনিটে পাওয়া সুযোগ নষ্ট করেননি তিনি। বক্সের বাইরে থেকে অনিরুদ্ধ থাপার ক্রস গোলের বাঁদিক থেকে হেড করে ডানদিকে পাঠান সাদিকু। যেখানে পৌঁছে ছোট্ট টোকায় জালে বল জড়িয়ে দেন অস্ট্রেলীয় বিশ্বকাপার (১-২)। ৭ অক্টোবর চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে ম্যাচে শেষ গোল করেছিলেন কামিংস। লিগের তৃতীয় গোলটি পেলেন দু’মাসেরও বেশি সময় পরে।  

মাঝে মাঝে নর্থইস্ট কাউন্টার অ্যাটাকে উঠলেও তা বারবার প্রতিহত করে সবুজ-মেরুন রক্ষণ। তবে তখন আধিপত্য ছিল মোহনবাগানেরই। ৩৬ মিনিটের মাথায় বক্সের ডানদিক থেকে থাপার লো ক্রস গোলের সামনে ঠিকমতো পা লাগাতে পারলে গোল পেতেন সাদিকু। কিন্তু দীনেশ সিংয়ের চাপে তা পারেননি তিনি। দীনেশের পায়ে লেগে নিজগোল হয়ে যাওয়ার উপক্রমও হয়ে যায়। তবে রেফারি কর্নারের সিদ্ধান্ত না জানিয়ে গোলকিক দেন। 

আরও গোলের সুযোগ পায় কলকাতার দল। ৪৪ মিনিটে বক্সের সামনে ডানদিক থেকে নেওয়া কোলাসোর ডাইরেক্ট ফ্রি কিক পাঞ্চ করে বার করে দেন গোলকিপার মিচু। পরের মিনিটেই বক্সের ডানদিক থেকে কিয়ানের ফ্রি কিকে ফের ঠিকমতো পায়ে লাগাতে পারেননি সাদিকু। পারলে হয়তো গোল পেতেন।  

পিছিয়ে যাওয়ার পরে নর্থইস্ট ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস ক্রমশ কমতে শুরু করে। প্রচুর ভুল পাস ও ডেলিভারি দেয় তারা। ফলে একটানা বেশিক্ষণ বল পায়ে ধরে রাখতে পারছিলেন না তারা। প্রথমার্ধে মোহনবাগানের বল পজেশন ছিল ৫৭ শতাংশ। তারা যেখানে পাঁচটি শট গোলে রাখে, সেখানে নর্থইস্টের গোলমুখী শট ছিল দুটি। তবে নর্থইস্ট যেখানে চারটি কর্নার পায়, সেখানে বাগান একটিও পায়নি।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পরও ছন্দে ফিরতে পারেনি নর্থইস্ট। বরং শরীরি ফুটবলের দিকে বেশি জোর দেয় তারা। ৫৪ মিনিটের মাথায় কিয়ানকে ফের মারাত্মক ভাবে আঘাত করার জন্য দ্বিতীয় হলুদ তথা লাল কার্ড দেখেন তোনদোনবা সিং। কিয়ানকে এ দিন টার্গেট করেন নর্থইস্টের ফুটবলাররা। ৫৮ মিনিটের মাথায় পরিবর্ত ডিফেন্ডার সামতে মাঠে নেমেই আবার কিয়ানের পায়ে পিছন থেকে আঘাত করে হলুদ কার্ড দেখেন। সে জন্যই ৬২ মিনিটে কিয়ানকে তুলে নেয় মোহনবাগান ও তাঁর জায়গায় মনবীর সিংকে নামায়। একই সঙ্গে হুগো বুমৌসও মাঠে নামেন কামিংসের জায়গায়। এ দিন শততম ম্যাচ খেলেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার। 

অন্যদিকে, গোল শোধ করার উদ্দেশ্যে ৫২ মিনিটের মাথায় ইয়াসির হামিদের জায়গায় রোমেন ফিলিপোতোকে নামায় নর্থইস্ট। কিন্তু তাতে বিশেষ কোনও লাভ হয়নি। ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাগান। ৬১ মিনিটের মাথায় কোলাসো ও সাদিকু নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে বারের ওপর দিয়ে শট নেন কোলাসো। 

মাঠে নামার পর থেকেই বুমৌসের তৎপরতা দেখা যায়। ৬৫ মিনিটে তাঁর থ্রু থেকে বল পেয়ে একাই বক্সে ঢুকে পড়েন। কিন্তু এগিয়ে এসে তাঁর পা থেকে বল কেড়ে নেন মিচু। মনবীর এ দিন আরও সুযোগ পান। ৬৯ মিনিটের মাথায় বক্সের সামনে থেকে তাঁর শট বারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। 

তবে কাজের কাজটা করে ফেলেন অধিনায়ক শুভাশিস বোস। ৭১ মিনিটের মাথায় দলের তৃতীয় গোলটি করে ফেলেন তিনি। কোলাসোর সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে বক্সে ঢুকে প্রথম পোস্টের দিকে কোণাকুনি শটে গোল করেন শুভাশিস (১-৩)। গোলকিপার মিচু গোলের লাইনে থেকেও আটকাতে পারেননি। আইএসএলে শুভাশিস শেষ গোলও করেছিলেন নর্থইস্টের বিরুদ্ধেই, ১০ নভেম্বর ২০২২-এ। আইএসএলে এটি চতুর্থ গোল তাঁর, নর্থইস্টের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়।   

এ দিন শুভাশিসের গোলের আগেই দিমিত্রিয়স পেট্রাটস মাঠে নামেন সাদিকুর জায়গায়। একাধিক গোলের সুযোগও পেয়ে যান তিনি। ৮০ মিনিটের মাথায় বক্সের মাথা থেকে তিনি স্কোয়ার পাস দেন শুভাশিসকে। গোলে শটও নেন শুভাশিস। কিন্তু ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল বাইরে চলে যায়। ৮৮ মিনিটে মনবীরের ক্রস থেকে পেট্রাটস যে শট নেন, তা চলে যায় বারের ওপর দিয়ে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে বক্সের মধ্যে মনবীরের শট সোজা মিচুর হাতে জমা হয়ে যায়। 

বাড়তি আট মিনিটের মধ্যেও একাধিক সুযোগ পেয়ে যায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। কিন্তু মনবীর ও পেট্রাটস একাধিক সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেননি। পারলে হয়তো আরও বড় ব্যবধানে জিতত মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। 

মোহনবাগান এসজি দল: বিশাল কয়েথ (গোল), ব্রেন্ডান হ্যামিল, হেক্টর ইউস্তে, শুভাশিস বোস, আশিস রাই, অনিরুদ্ধ থাপা, দীপক টাঙরি (লালরিনলিয়ানা হ্নামতে-৮২), লিস্টন কোলাসো (সুহেল ভাট-৮২), জেসন কামিংস (হুগো বুমৌস-৬২), কিয়ান নাসিরি (মনবীর সিং-৬২), আরমান্দো সাদিকু (দিমিত্রিয়স পেট্রাটস- ৭০)। 

(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *