অলস্পোর্ট ডেস্ক: দ্বিতীয় বিদেশিও চূড়ান্ত করে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। জানা যাচ্ছে জার্মানির এই সেন্টার ফরোয়ার্ড ফেলিসিয়ো ব্রাউন ফোর্বসকে পছন্দ করেছেন স্বয়ং কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। সুপার কাপ থেকে ফিরে ইস্টবেঙ্গল কোচ চলে গিয়েছিলেন ব্যাঙ্ককে। সঙ্গে ছিলেন সহকারি কোচ দিমাস দেলগাদোও। দুই কোচ ব্যাঙ্কক বিমান বন্দরে ধরা পড়ে যান এক ইস্টবেঙ্গল ফ্যানের ক্যামেরায়। তাঁদের সঙ্গে ছবিও তোলেন সেই ফ্যান। আর সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই শুরু হয় জল্পনা। তার মধ্যেই চলে এল নতুন প্লেয়ারের খবরও। যে কারণে মনে করা হচ্ছে ফুটবলারের খোঁজেই ভিনদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন কুয়াদ্রাত।
ইস্টবেঙ্গল প্রধান কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত ফেলিসিওর বিশাল অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন, “ফেলিসিও একজন শক্তিশালী স্ট্রাইকার যার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে ইউরোপের শীর্ষ লিগ এবং এশিয়ান ফুটবলে, চাইনিজ সুপার লিগে ২০টিরও বেশি গোল করেছে। তিনি কয়েক সপ্তাহ আগে চিনে তার মরসুম শেষ করেছেন, তাই আমাদের যেখানে তাকে প্রয়োজন সেখানে তিনি দলকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত থাকবেন।’’
বৃহস্পতিবারই জেভিয়ার সিভেরিও-র লোনে জামশেদপুর এফসিতে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ক্লাব। তার আগের দিন বুধবার ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে এফসি গোয়ায় যোগ দিয়েছিলেন বোরহা হেরেরা। তার বদলি সেদিনই ঘোষণা করে দিয়েছিল ক্লাব। মেসির সঙ্গে খেলা ভিক্টর ভাজকুয়েজ যোগ দিচ্ছেন ইস্টবেঙ্গলে। এবার চলে এল আরও এক বিদেশির নামও। এখন শুধু ভিসা পাওয়ার অপেক্ষা। তার পরই শহরে চলে আসবেন নতুন দুই বিদেশি। তবে ডার্বির আগে কেউ শহরে এসে পৌঁছতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে না।
ব্রাউনের জন্ম জার্মানিতে হলেও অনূর্ধ্ব-১৯ ও ২০ পর্যায়ের পর থেকেই তিনি খেলেন কোস্টা রিকা জাতীয় দলে। চিনের ক্লাব কিংদাও হাইনিউ থেকেই ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিচ্ছেন তিনি। তবে তিনি কতটা ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোলমেশিন হয়ে উঠতে পারবেন বা যে ভূমিকায় সিভেরিওকে দেখতে চেয়েছিলেন কোচ সেটা তিনি হয়ে উঠতে পারবেন কিনা তা সময়ই বলবে। কিন্তু কোচের পছন্দ যে প্রাথমিকভাবে দলে ফুল ফোটাতে পারে তা দেখিয়ে দিয়েছেন হিজাজি মেহের। মরসুমের মাঝ পথেই তাঁকে দলে নিয়েছিলেন কুয়াদ্রাত।
ইস্টবেঙ্গল পরিবারে ফেলিসিওকে স্বাগত জানিয়ে, ইমামি গ্রুপের বিভাস বর্ধন আগরওয়াল বলেছেন, “ফেলিসিও জার্মানি, রাশিয়া, পোল্যান্ড এবং চিন জুড়ে লিগ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং কোস্টারিকান জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। আমরা তাকে ইমামি ইস্টবেঙ্গলে স্বাগত জানাই এবং বিশ্বাস করি যে তিনি আমাদের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।”

১২ বছর পর কোনও সর্ব ভারতীয় টুর্নামেন্ট জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। কার্লেস কুয়াদ্রাতের হাত ধরে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে দল। এই অবস্থায় সুপার কাপ জয় প্রত্যাশা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে ভক্তদের। সেই দৌঁড় ধরে রাখতে হলে চাই আরও ভাল প্লেয়ার। সেই লক্ষ্যেই দুই বিদেশির পরিবর্ত নিজেই বেছে নিয়েছেন কোচ বলে মনে করা হচ্ছে। মাঝ মরসুমে দুই নতুন বিদেশির সংযোজন হলেও কবে থেকে তাঁরা দলের হয়ে খেলতে পারবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে আইএসএল-এর প্রথম ডার্বি খেলতে নামার আগে বোরহা ও সিভেরিও-র পরিবর্ত নিশ্চিত করেই ঠান্ডা মাথায় বাজিমাত করতে চাইছেন কোচ।
বার্লিনে জন্মগ্রহণকারী, ফেলিসিও ২০১১ সালে জার্মান ক্লাব কার্ল জেইস জেনার হয়ে তার পেশাদার ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি রাশিয়ায় খেলেছেন, ক্রাইলিয়া সোভেটভ এবং এফসি রোস্তভের মতো শীর্ষ রাশিয়ান ক্লাবগুলির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
উহান ইয়াংজি রিভার এফসি এবং কিংদাও হাইনিউ এফসি-এর হয়ে খেলতে চাইনিজ সুপার লিগে যাওয়ার আগে এই ফরোয়ার্ড পোল্যান্ডে কোরোনা কিলস, রাকোউ চেস্টোচোয়া এবং উইসলা ক্রাকোয়ের সঙ্গে খেলেছেন। চাইনিজ সুপার লিগের গত দুই মরসুমে অনেক গোল করে ভারতে আসছেন এই সেন্টার ফরোয়ার্ড।
ভারতীয় ফুটবলে যাত্রা শুরু করতে পেরে উচ্ছ্বসিত ফেলিসিও বলেছেন, “ইস্টবেঙ্গলের মতো আইকনিক ক্লাবের হয়ে ভারতে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত। আমার নতুন দল সম্প্রতি সুপার কাপ জিতেছে, তাই আমি তাদের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই। আমি আশা করি বিশাল ফ্যানবেসকে খুশি করতে এবং আইএসএল-এর দ্বিতীয় পর্বে আমার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারব। জয় ইস্টবেঙ্গল!”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
