সুচরিতা সেন চৌধুরী: ইস্টবেঙ্গলের সামনের লক্ষ্য ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। সুপার সিক্সে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই নিজের ইস্টবেঙ্গল যাত্রা শুরু করেছিলেন অস্কার ব্রুজোঁ। তিনি যখন দলের হাল ধরেছিলেন তখনও আইএসএল ২০২৪-২৫ মরসুমের একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ডার্বির দিন সকালে শহরে পৌঁছেই বেঞ্চে বসতে হয়েছিল তাঁকে। স্বাভাবিকভাবেই জয় আসেনি। তার পর অস্কারের হাত ধরে জয়ের মুখ দেখেছে দল। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে ১৮ ম্যাচে পাঁচটি জয়, তিনটি ড্র ও ১০টি হার নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট এখন ১৮। হাতে রয়েছে ছ’টি ম্যাচ। প্লে-অফের দরজা খুলতে হলে সেই ছয় ম্যাচ জিততেই হবে ইস্টবেঙ্গলকে, তার পর তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের দিকে। সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দলকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন অস্কার ব্রুজোঁ। বা বলা যায়, ভাঙতে দিতে চাইছেন না দলের আত্মবিশ্বাস। তাই হয়ত বলছেন, “সুপার সিক্স কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।”
তিনি সুপার সিক্স থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর বার বারই আঙুল তুলেছেন প্রথম ছয় ম্যাচে হারের দিকে। যার চারটিই খেলেছিল কুয়াদ্রাতের সময়ে। তাঁর বক্তব্য, “সুপার সিক্স স্বপ্ন। তবে শুরুতেই ছয় ম্যাচে হার পরিস্থিতিকে কঠিন করে দিয়েছে।তবুও বলব আমাদের হাতে ছয় ম্যাচ আছে। আর তার জন্য দলকে লড়াইয়ে রাখতে হবে।” একই কথা বলছিলেন ফুটবলার প্রভাত লাকড়া। চোট সারিয়ে ফিরছেন। বলছিলেন, ‘’আমি পুরো ১০০ শতাংশ ঠিক। পরে ম্যাচে খেলার জন্য তৈরি। চোট-আঘাত প্লেয়ারদের জীবনের অংশ। আমরা সুপার সিক্সের জন্য লড়াই করছি, একটা একটা করে ম্যাচ ধরেই এগোচ্ছি।”
চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে নামার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে একই মেজাজে ইস্টবেঙ্গল কোচ। বার বার সুপার সিক্সের প্রশ্নে একটু খুব্ধ হন ঠিকই আবার দলের মোটিভেশনের স্বার্থে তা নিয়ে কথাও বলেন মন খুলে। শুক্রবার প্রভাত লাকড়াকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন তিনি। চোট সারিয়ে ফিরছেন প্রভাত। অনেক নেইয়ের মধ্যে তাঁর ফেরা যে দলের জন্য সুখবর সেটা জানিয়ে দিলেন কোচ। বলছিলেন, “দলের গুরুত্বপূর্ণণ প্লেয়াররা এক সঙ্গে চোটআঘাতের জন্য বাইরে চলে গিয়েছিল। তার মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে ফিরছেন। যেমন প্রভাত, রাকিপ, সাউল রয়েছে। সাউল গত সপ্তাহ থেকে অনুশীলনে ফিরেছে।”
পাশাপাশি তিনি এদিন নতুন বিদেশি নিয়েও জানিয়ে দিলেন তাঁর মতামত। শুক্রবার ভোররাতেই শহরে পা রেখেছেন মেসি বাউলি। এদিনই নেমে পড়েছেন অনুশীলনে। কোচ জানিয়ে দিলেন, তাঁকে পুরো ম্যাচ খেলানোরর কোনও প্রশ্ন নেই, তবে যতটুকু তিনি পারবেন সেটুকু তাঁকে খেলানো যেতেই পারে। তবে ক্লেটন সিলভাকে একদমই পাচ্ছে না দল। তাঁর প্রসঙ্গে কোচ বলেন, ”ক্লেটনের চোট যতটা হালকা ভেবেছিলাম ততটা নয়। ওকে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে।” নতুন বিদেশি ফরোয়ার্ড এলেও হিজাজি মেহেরের পরিবর্ত হয়তো এখনই আসবে না ইস্টবেঙ্গলে। বরং এএফসির কথা ভেবে পরবর্তীতে একজন বিদেশি ডিফেন্ডার আসতে পারে। যদিও কোচ বলছেন, হেক্টর, আনোয়াররা রয়েছে দলে।
এদিকে ইস্টবেঙ্গলের জন্য এখন সব ম্যাচই যে ফাইনাল সেটাও মনে করিয়ে দিলেন। প্রতিপক্ষ চেন্নাইকে সমীহ করেই তিনি জানিয়ে দিলেন, “ওদের একজন অভিজ্ঞ কোচ রয়েছে। ওরা ভাল দল।তবে আমরা ঘরের মাঠে খেলব, তাই আমাদের সুযোগ থাকবে। আমাদের কাছে এখন সব ম্যাচই ফাইনাল ম্যাচ। কালকের ম্যাচ কঠিন। আমরাচেষ্টা করব শুরুতেই গোল কে এগিয়ে যেতে।” এই মুহূর্তে দলের লক্ষ্য রক্ষণের পাশাপাশি দলের স্কোরিং ক্ষমতাকেও বৃদ্ধি করা। মেনে নিচ্ছেন কোচ, গোলের কাছে পৌঁছে গোল করতে না পারার রোগ রয়েছে দলের। সেকারণেই মেসি, সেলিসদের আগমন। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে সেই রোগ কাটিয়েই জয়ে ফিরে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতে চান ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ।

কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে সেলফি তুললেন ইস্টবেঙ্গলের নবাগত বিদেশি মেসি বাউলি
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.comক
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
