অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইএসএলের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তায় অংশগ্রহণকারী ক্লাব সহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডাররা। আইএসএল পরিচালন সমিতি এফএসডিএল গত সপ্তাহে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্লাব ও এআইএফএফকে চিঠি লিখে জানিয়েছে টুর্নামেন্ট করা আপাতত সম্ভব নয়, যতক্ষণ না ফেডারেশনের সঙ্গে তাদের মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্টের বিষয়টি পরিষ্কার হচ্ছে।
এখানেই বেধেছে জট। বেশ কয়েকবার এফএসডিএলের সঙ্গে বৈঠক সারার পরও পারস্পরিক সমঝোতা সূত্র বের করতে পারেনি ফেডারেশন। এই আলোচনা কোনও ফলপ্রসূ রূপ পায়নি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সুপ্রিম কোর্টের সাফ নির্দেশ রয়েছে, ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির কোনও অধিকার থাকছে না গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার। দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গড়ে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটতে হবে ফেডারেশনকে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের হাতেই রয়েছে সংশোধনের পর ফেডারেশনের নয়া সংবিধান পরিবেশনের।
ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই ‘ভিশন ২০৪৭’য়ের বিশদ পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের চুড়ান্ত রায়ের দিকে না তাকিয়েই। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, ২০২৬ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত আগামী ১০ বছরের আইএসএল আয়োজনের পরিকল্পনা। লিগের কাঠামো থেকে সূচীতে স্বচ্ছতার পাশাপাশি প্রোমোশন ও অবনমনের কথা ১০ বছরের এই ভিশনে বলা হয়েছে। আইলিগ ও আইএসএলের পরিচালনায় এএফসি রোডম্যাপ মেনে। গত দু’মরশুম ধরে আইলিগে প্রোমোশনের মাধ্যমে পাঞ্জাব এফসি ও মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব আইএসএলে খেলার সুযোগ পেলেও, অবনমনের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এবার নতুন মরশুমে প্রোমোশনের পাশাপাশি অবনমনের কথা আগাম বলা হলেও, সেটা কতটা মানা হবে বলা মুশকিল। কারণ এফএসডিএল সেই শর্তে এখনও রাজি নয়। তাই আইএসএল যখনই হোক, অবনমনের বিষয়টি মানা হবে বলে মনে হয় না, অন্তত এবার।
এখন আইএসএল লিগ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন দল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-তে খেলার সুযোগ পায়। যেমন এবার সেটা পাচ্ছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আর সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টুর প্লেঅফে খেলবে এফসি গোয়া। দেশের একনম্বর লিগ কোনটা হবে, সেটা নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর। আইএসএল চালায় এফএসডিএল। ফেডারেশনের সেখানে হস্তক্ষেপের কোনও ভূমিকা নেই। শুধু তাই নয়, ফেডারেশন যে টুর্নামেন্ট চালায়, সেই আইলিগের জন্য এএফসি টুর্নামেন্টের জন্য কোনও স্লট নেই। সুপ্রিম কোর্ট এটা ভালভাবে নেয়নি বলেই শোনা গেছে। তারা আইলিগের গুরুত্ব আইএসএলের সমান রাখার পক্ষপাতী। সেটা বুঝেই এআইএফএফ আইএসএল চ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি আইলিগ চ্যাম্পিয়নদের এএফসি স্লট দেওয়ার প্রস্তাব রাখছে নতুন ভিশন প্রোজেক্টে। যে স্লটটা এখন সুপার কাপ চ্যাম্পিয়নরা পেয়ে থাকে।
ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন দেশের ফুটবলের উন্নতিতে আইএসএলের বাইরে সব ধরনের স্বত্ত্ব নিজেদের হাতে রাখতে চায়। ‘ভিশন ২০৪৭’য়ে সে কথা মাথায় রেখেই ২০২৬ মরশুম থেকে ৫ স্তরীয় পিরামিড চালু করতে চায়, যার একবারে মাথায় থাকবে আইএসএল ও আইলিগ।
আইএসএল আয়োজনের ভাবনা সাময়িক স্থগিত রেখেছে এফএসডিএল। বুঝতে অসুবিধা নেই সুপ্রিম কোর্টের সুস্পষ্ট রায় না আসা পর্যন্ত। এতে ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবে সহ কমিটির বর্তমান কর্তাদের (যাঁরা অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ক্ষমতাহীন) ওপর চাপ বেড়েছে। জাতীয় পুরুষ সিনিয়র দলের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্রি ফলের কারণে এমনিতেই সভাপতি কল্যানের নানা ভূমিকা নিয়ে ফেডারেশনের ভেতরেই নানা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তারওপর সম্প্রতি কার্যকরী কমিটির সদস্য বাইচুং ভুটিয়া কল্যানের বিরুদ্ধে তুঘলকি সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছেন প্রচারমাধ্যমের সামনে। যা বেশ আলোড়ন ফেলেছে ফুটবল মহলে। তাতেই নির্বাচন হলে, কল্যানের সভাপতি পদ ধরে রাখা কঠিন শুধু নয়, সম্ভব বলে মনে করছেন না ফেডারেশনের সংস্থার সদস্যরা। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও বিশেষ সুবিধা হবে না বলেই মনে করেছেন তাঁরা। নতুন সভাপতি পদে বিকল্প নাম ইতিমধ্যেই ঘোরাফেরা করছে।
সেই যাই হোক, নির্বাচনের মাধ্যমে ফেডারেশনের নতুন সভাপতি পদে যেই আসুন, কমিটিতে যাঁরাই আসুন, গোটা ভারতের ফুটবলের সঙ্গে জড়িত ক্লাব, ফুটবল, কোচ, কোচিং স্টাফ, কর্মী, সর্বোপরি ফুটবলপ্রেমী জনগন, ক্লাব সমর্থকরা চান, তড়িঘড়ি জট কাটিয়ে আইএসএল শুরু হোক। সুপ্রিম কোর্টের আঙিনা ছেড়ে ফুটবল মাঠে বল গড়াক।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
