ছবি-নিজস্ব চিত্র
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতীয় স্কোয়াশকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি এনে দেওয়ার পিছনে সৌরভ ঘোষালের নাম আসবে সকলের আগে। কলকাতার ছেলে সৌরভের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে উঠে আসছে নতুন নতুন প্রতিভা বাংলা থেকে। তাদের অন্যতম আয়ান ধানুকা। সিকে ধানুকার নাতি, মৃগাঙ্ক ধানুকার পুত্র আয়ান সম্প্রতি কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ৩২তম এশিয়ান জুনিয়র ইন্ডিভিজুয়াল স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের জার্সিতে অনূর্ধ্ব ১৩ জুনিয়র বালক ক্যাটেগরিতে রুপো জিতে সাড়া জাগিয়েছে। তাকে শুক্রবার দ্য ক্যালকটা র্যাকেট ক্লাব সংবর্ধনা জানাল। র্যাকেট ক্লাবে এক ছিমছাম অনুষ্ঠান আয়ানের হাতে স্মারক তুলে দেন সভাপতি ধ্রুব আগরওয়াল। ক্লাবের অন্যান্য প্রদাধিকারীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া।
আয়ানের স্কোয়াশ খেলার প্রতি ভালবাসা বা আকর্ষণ হঠাৎই। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন খেলায় মেতে থাকলেও, চার বছর আগে একদিন ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছে গিয়েছিল র্যাকেট ক্লাবে। সেখানে অন্যদের খেলতে দেখে তাদের র্যাকেট হাতে নিয়ে কয়েকটা শট মেরে স্কোয়াশ খেলার ইচ্ছা জাগে। কোচ গৌতম দাসের সঙ্গে সাক্ষাত ঘটে। আয়ানের আগ্রহ দেখে তিনি কোচিং দিতে রাজি হয়ে যান। সেই শুরু। তারপর শুধু এগিয়েই চলেছে আর পি গোয়েঙ্কা ইন্টারন্যাশানাল স্কুলের ছাত্র আয়ান।
এর আগে মালয়েশিয়ান জুনিয়র, স্কটিশ জুনিয়রে পদক জিতলেও ভারতের জার্সি গায়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে আয়ানের এটাই প্রথম বড় সাফল্য। তবে ফাইনালে পাকিস্তনের মহম্মদ সোহেল আদনানের কাছে হারে সোনা না জেতার আক্ষেপ থাকলেও আয়ান হতাশায় ভুগছে না। বরং পাকিস্তানের স্কোয়াশ তারকা জানশের খানের ভক্ত আয়ান সাফ জানাল, ‘ এটা সবে শুরু। আমি এখন খেলাটা উপভোগ করছি। এখনও অনেকদূর যেতে হবে বড় সাফল্য পেতে। ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্যপূরণের জন্য নিজের খেলায় উন্নতি ঘটাব। সোনা হাতছাড়া হওয়ার মূল কারণ ফিটনেস ও স্ট্যামিনায় ঘাটতি। কোচ গৌতম স্যারের পরামর্শ নিয়ে আরও প্র্যাকটিস করব, সেই ঘাটতি মেটাতে।’
ভারতীয় দলের জার্সিতে সতীর্থদের সঙ্গে বিদেশের মাটি খেলতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে আয়ানের প্রতিক্রিয়া, ‘ সকলেই খুব হেল্পফুল ছিল। খেলার বাইরেও খুব ভাল সময় কাটিয়েছি সকলের সঙ্গে।’ একদিকে, আর পি গোয়েঙ্কা ইন্টারন্যাশানাল স্কুলে পড়ার চাপ, অন্যদিকে, স্কোয়াশ খেলা। কীভাবে চালানো সম্ভব? পেশাদারি স্কোয়াশ প্লেয়ার হওয়ার মনোবাসনা আছে কি? আয়ানের উত্তর, ‘ আমাকে খেলা ও পড়াশোনা দুটোই সমানভাবে চালাতে হচ্ছে। যখন বাইরে খেলা থাকে, তখন স্কুল আমাকে বাড়তি সুযোগটুকু দেয় ছুটি নিয়ে খেলতে যাওয়ার। তবে আমাকে স্কুলের বই সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে হয়, পড়াশোনাটা সমান তালে চালিয়ে যেতে।’
ভারতীয় স্কোয়াশ তারকা সৌরভ ঘোষালের নাম শুনলেও, এখনও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে ওঠেনি আয়ানের। হয়ত একদিন স্কোয়াশ ক্লাবেই মুখোমুখি হবে। তখন আরও ভাল খেলার জন্য টিপস চেয়ে নেবে, এবার অনূর্ধ্ব ১৫ ভারতীয় দলে পা রাখতে চলা আয়ান।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
