অলস্পোর্ট ডেস্ক: ১৫৭টি প্রথম-শ্রেণীর ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসনে বসতে চলেছেন এক ক্রিকেটার। যার নাম শনিবার সন্ধে থেকে হঠাৎ ঘুরতে শুরু করে ভারতীয় ক্রিকেটের আকাশে, যাঁর নাম অনেকটাই চমকের মতো। তিনি মিঠুন মানহাস। অনেককেই অনেকটা পিছন ফিরে যেতে হয়েছে তাঁকে মনে করতে। এই প্রজন্ম তো তাঁর নাম শোনেইনি। তিনিই নাকি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতির পদ আলোকিত করতে চলেছেন ৩৭তম বিসিসিআই সভাপতি হিসেবে। এই পদের জন্য একমাত্র মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তিনিই। তা থেকে এটা স্পষ্ট তিনিই আগামী বোর্ড প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের কোনও প্রয়োজনই নেই। কিন্তু কে এই মিঠুন মানহাস?
তাঁর ৯৭১৪ প্রথম-শ্রেণীর রান, যার মধ্যে ২৭টি সেঞ্চুরি রয়েছে এবং লিস্ট এ ম্যাচে রয়েছে ৪১২৬ রান। কিন্তু কখনওই ভারতীয় ক্রিকেটের মূলস্রোতে তারকা হয়ে ওঠা হয়নি। তবে কি তিনি একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেট প্রশাসক হয়ে উঠতে পারেন? এতদিন একাধিক নাম ঘুরে ফিরে সামনে এসেছে, কখনও সচি তো কখনও কিরণ মোরে, হরভজন সিং। এমনকি মাঝে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও শোনা গিয়েছিল, তবে সব নামকে পিছনে ফেলে উঠে এসেছেন দিল্লির মিঠুন মানহাস।
দিল্লি ক্রিকেট সার্কিটে যদিও মিঠুন মানহাস রীতিমতো জনপ্রিয় নাম। বেশিরভাগ ক্রিকেটারই সেটা মেনে নিয়েছেন। মাত্র ৪৫ বছর বয়সী মানহাস সম্পর্কে প্রায় সবারই একটাই বক্তব্য তিনি একজন উজ্জ্বল, বুদ্ধিমান ব্যক্তি। “তিনি সর্বদা সাধারণের মানুষ ছিলেন। ভুলে যাবেন না যে তিনি দিল্লির এমন একটি দলের অধিনায়ক ছিলেন যেখানে অনেক বড় তারকা, ভারতীয় খেলোয়াড় ছিল। তারা তার অধীনে খেলেছিল এবং তিনি সেগুলি বেশ ভালোভাবেই সামনে ছিলেন,’’ বলেন আকাশ চোপড়া।
“তিনি জম্মু থেকে এসেছিল অনূর্ধ্ব-১৬ খেলে এবং আমরা এক সাথে দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ এবং তারপর ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ এবং দিল্লির সিনিয়র দলে খেলেছি,” বলেন তিনি।
চোপড়া তাদের জুনিয়র খেলার দিনগুলির একটি ঘটনা শেয়ার করেছেন। “মিঠুন এবং আমি ভিড়ে ঠাসা ট্রেনে করে সুরাট থেকে মুম্বই যাচ্ছিলাম বোর্ডের বয়স-ভিত্তিক ম্যাচের জন্য। আমি ঘুমিয়ে পড়ছিলাম এবং মিঠুনকে আমার নতুন জুতোর খেয়াল রাখার অনুরোধ করেছিলাম, যা সিটের নীচে একটি বাক্সে রাখা ছিল। মিঠুন নিজেও একটি নতুন জুতো কিনেছিল। চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য সে আমার জুতোর বাক্সের উপর তাঁর পা রেখে বসেছিল। আমরা যখন মুম্বইতে নামি, আমার ভাগ্য ভালো ছিল কিন্তু মিঠুনের নতুন জুতো চুরি হয়ে যায়। ও জানত কীভাবে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে হয়,” চোপড়া বলেন।
“আমি ওকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মেসেজ পাঠিয়েছিলাম। ও একজন মেধাবী মানুষ এবং খুব ভালো ক্রিকেটার ছিল। স্পষ্টতই ও এমন এক যুগে মিডল অর্ডারে খেলেছে যখন ভারতের ৩ নম্বর (রাহুল দ্রাবিড়), ৪ নম্বর (সচিন তেন্ডুলকর), ৫ নম্বর (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যা) এবং ৬ নম্বর (ভিভিএস লক্ষ্মণ) জায়গাল তারকাদের দখলে। তার জন্য দুর্ভাগ্যজনক ছিল,” চোপড়া বলেন।
দিল্লি ক্রিকেটে তাঁর অবস্থান যতটা দৃঢ় হচ্ছিল, ততই তিনি জানতেন যে প্রয়াত অরুণ জেটলি ডিডিসিএ-র সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং খুব বেশি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটার দক্ষিণ দিল্লির বিলাসবহুল এলাকায় তাঁর কাছাকাছি থাকার কথা ভাববেন না।
মিঠুনের অধিনায়কত্বে বিরাট কোহলি রঞ্জি ট্রফি খেলেছেন দিল্লির হয়ে। সেই সময় খেলার মাঝ পথেই খবর আসে বিরাটের বাবা প্রয়াত হয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে মিঠুন বিরাটকে খেলা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যেতে বলেছিলেন। যদিও বিরাট খেলা চালিয়ে গিয়েছিলেন, সেটাও প্লেয়ারের আবেগকে সম্মান জানিয়ে তিনি মেনে নিয়েছিলেন।
তাঁর বেশিরভাগ বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন বীরেন্দ্র সেহবাগ এবং যুবরাজ সিং-এর মতো শক্তিশালী আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়। টি-টোয়েন্টিতে তারঁ বিরাট কোনও পারফর্মেন্স না থাকলেও, তিনি দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (যখন সেহবাগ অধিনায়ক ছিলেন), পুনে ওয়ারিয়র্স এবং কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের (যুবরাজের অধিনায়কত্বে) হয়ে ৫৫টি আইপিএল ম্যাচ খেলেছেন।
২০১৬-১৭ সালে গৌতম গম্ভীর দিল্লির অধিনায়ক হিসেবে ফিরে আসার পর, ৩৫ বছর বয়সী মানহাস দেওয়াল লিখনটা পড়ে ফেলেছিলেন। তখনই তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে ফিরে যান যেখানে তিনি এক বছর খেলেন এবং তার পরই রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে রক্ষা করতে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। প্রমান করেন প্রশাসক হিসেবে তিনি কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম। যা তাঁকে হয়তো এগিয়ে রাখল বিসিসিআই সভাপতি পদের দিকে।
মানহাসের পাশাপাশি, প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার রঘুরাম ভাট কোষাধ্যক্ষ পদের জন্য আবেদন করেছেন। মনোনয়ন জমা দেওয়া অন্যান্য সদস্যরা হলেন প্রভতেজ ভাটিয়া (যুগ্ম সম্পাদক), অরুণ সিং ধুমাল (আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান) এবং জয়দেব শাহ (এপেক্স কাউন্সিল সদস্য)। “প্রার্থীদের প্যানেল তৈরি, মিঠুন মানহাস সভাপতি হিসেবে থাকবেন। আমি সহ-সভাপতি, দেবজিৎ সাইকিয়া সচিব, প্রভতেজ সিং ভাটিয়া যুগ্ম-সচিব এবং রঘুরাম ভাট কোষাধ্যক্ষ হবেন। অ্যাপেক্স বডি গভর্নিং কাউন্সিলের জন্য নির্ধারিত নামগুলির জন্যও মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছে। তাই, পরবর্তী মেয়াদের জন্য একটি নতুন বডি গঠন করা হচ্ছে। সকলকে শুভেচ্ছা,” রবিবার বিসিসিআই সদর দফতরের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন শুক্লা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
