মুনাল চট্টোপাধ্যায়: কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের তরফে আইএসএল ক্লাবের কাছে লিগ চালুর স্বার্থে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাব লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক ও এআইএফএফের কাছে রেখেছিল আইএসএল ক্লাবগুলো। আইলিগের ক্লাবের তরফেও একটি আলাদা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাব মানলে এআইএফএফের অস্তিত্ব সংকট তৈরি হত। আর সেকারণেই শনিবার দিল্লিতে ফুটবল হাউসে অনুষ্ঠিত ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারন সভায় আইএসএল ও আইলিগ ক্লাবগুলোর দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিলেন সদস্যরা। এতে ভারতীয় ফুটবলের অচলাবস্থা কাটানোর আশু সমাধান কিছু মিলল না। বরং এআইএফএফ একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে, যাদের মাধ্যমে নতুন পরিকল্পনা পেয়ে লিগ চালানো সম্ভব হয়।
আইএসএল ক্লাবগুলির প্রস্তাব ছিল, ক্লাব জোট মিলিতভাবে লিগ আয়োজন করবে সবকিছুর স্বত্ত্ব তাদের হাতে থাকবে এই শর্তে। সেই স্বত্ত্বের মধ্যে বানিজ্যিক লাভ থেকে লিগ পরিচালনা ও সম্প্রচারের সবটি ক্লাবের হাতে থাকবে এমনটা বলা হয়েছিল। এআইএফএফের সেখানে ভূমিকা রাখা হয়েছিল যতসামান্য। লিগ কোম্পানি বোর্ডে একজন প্রতিনিধির উপস্থিতি বাদে এআইএফএফের কোনও জোর খাটানোর জায়গা থাকত না এই প্রস্তাব মানলে। তাছাড়া ২০২৫-২৬ মরশুমে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশকে কোনও টাকা দিতেই রাজি ছিল না ক্লাব জোট। তারা বলেছিল, ২০২৬-২৭ মরশুম থেকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হবে ফেডারেশনকে, এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছিল প্রস্তাবে।
এর পাশাপাশি আইলিগের ক্লাবজোট আলাদা করে একটি আলাদা প্রস্তাব পেশ করেছিল এআইএফএফের কাছে। তাদের প্রস্তাবে বলা হয়, ফেডারেশন ১৮ দলের লিগ আয়োজনের অনুমতি দিক তাদের। পরিবর্তে তারা ফেডারেশনকে আগামী ১৫ বছরের জন্য ৫০ কোটি টাকা দেবে।
আইএসএল ও আইলিগের ক্লাবজোটের এই দুটি প্রস্তাবই ফেডারেশনের পক্ষে অসম্মানজনক ও অস্তিত্বরক্ষার সংকট বলে মনে হওয়ায় শনিবারের সভায় তা বাতিল করে দেন এআইএফএফের মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনর সদস্যরা। আগেরদিনই ওড়িশা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা অভিজিত পাল সহ বেশ কয়েকজন সদস্য ক্লাব জোটের দেওয়া প্রস্তাবের সরাসরি বিরোধিতা করেছিলেন। শনিবারের সভায় তাঁরা ছাড়াও বিশেষভাবে সরব ছিলেন আইএফএ সচিব অনির্বান দত্ত। তিনি বলেন, সবকিছু ক্লাবের হাতে চলে যাবে, এআইএফএফের হাতে কিছুই থাকবে না, এটা মানা যায় না। তাহলে এআইএফএফের অস্তিত্বই তো থাকবে না। তাছাড়া যে টাকার কথা ক্লাব জোট বলেছে, তা দিয়ে ফেডারেশনের কাজকর্ম কীভাবে চলবে, আর ফেডারেশন তাদের নিজস্ব জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্ট, শিবির কীভাবে আয়োজন করবে? তাই এই প্রস্তাব অযৌক্তিক।
ফেডারেশনের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হওয়ায় বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন ক্লাব জোটের পক্ষে বড় ভূমিকা নেওয়া মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ক্লাবের প্রতিনিধি সহ কয়েকজন। তাঁরা বোঝাতে চেষ্টা করেছিলেন, লিগ চালুর স্বার্থে তাঁদের এই প্রস্তাব, তাঁরা কিছু নিতে আসেননি , বরং দিতে এসেছেন। এতে সভা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কিছুসময়ের জন্য। ইস্টবেঙ্গল যেহেতু আগেই বলেছিল, তারা নিজেরা লিগ আয়োজনে পক্ষপাতী নয়, তারা চায় এআইএফএফই এর দায়িত্বে থাকুক, তাই তারা ছিল সম্পূর্ণ নীবর এব্যাপারে।
শেষপর্যন্ত ফেডারেশনের তরফে ঠিক হয়, তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হবে ভারতীয় ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। এই কমিটি থাকবে আইএফএ, কেরল ও গোয়া ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্তারা। আইএফএ থেকে সচিব অনির্বান দত্ত কমিটিতে থাকবেন। এই কমিটি ভারতীয় ফুটবল লিগ ও কাঠামো নতুন করে ঢেলে সাজানোর কাজ করবে। এব্যাপারে ক্লাবের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা চলবে। যাতে ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান অচলাবস্থা কাটে, ক্লাব ও ফুটবলারদের স্বার্থ যাতে রক্ষিত হয়, তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পথে হাঁটবে ফেডারেশন। এই কমিটি সেব্যাপারেই আলোকপাত করবে। আইলিগের জন্যও একটি আলাদা কমিটি হয়েছে।
আইএফএ সচিব অনির্বান দত্তের দাবি, খুব দ্রুত একটা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে, যাতে আইএসএল , আইলিগ সহ দেশের সবকটি লিগ আয়োজন করা সম্ভব হয়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
