Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ক্লাব জোটের কাছে আইএসএলে অংশগ্রহণের সম্মতি দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে চিঠি দিয়েছিল এআইএফএফ কমিটি। মনে হয়েছিল, ক্লাবজোট বাধ্য ছেলের মতো এআইএফএফের প্রস্তাব মেনে নিয়ে অংশগ্রহণের সম্মতি জানাবে। কিন্তু সেগুড়ে বালি। দিনের পর দিন বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর বৃহস্পতিবার নতুন বছরের প্রথম দিনে ক্লাব জোট নতুন করে আরও কিছু শর্ত আরোপ করল আইএসএলে অংশগ্রহণ নিয়ে। যার ফলে আইএসএল নিয়ে অচলাবস্থা তো কাটলই না, বরং জট আরও পাকালো।

এআইএফএফ কমিটির প্রস্তাব মেনে আইএসএলে অংশগ্রহণের সম্মতি আগেই দিয়েছিল জামশেদপুর এফসি। বাকি ক্লাবগুলো এআইএফএফের প্রস্তাব মেনে খেলতে রাজি হলে, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে শুক্রবার সেই রিপোর্ট পেশ করত ফেডারেশনের তিন সদস্যের কমিটি। তারপর তা সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ত চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য। সেই প্রসেসটাই থমকে গেল ক্লাবজোট বেঁকে বসায়। নতুন শর্ত আরোপ করায়। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এআইএফএফ কমিটির পক্ষে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে আইএসএল শুরুর খসড়া নিয়ে কোনও রিপোর্ট পেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। শুক্রবার আবার আলোচনায় বসবে এআইএফএফের কমিটি ক্লাবজোটের শর্ত মাথায় রেখে। তারপর আবার নতুন করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে তারা। তবে জামশেদপুর এফসি ছাড়া বাকি দলগুলো, এমনকি ইস্টবেঙ্গলও যারা ফেডারেশনের ওপর আইএসএল আয়োজনের ভার ছেড়ে রেখেছিল, তারাও লিখিতভাবে দেওয়া চিঠিতে সাক্ষর করে জানিয়েছে, ক্লাবজোটের শর্ত মানা হলে, তারা আইএসএলে অংশ নেবে, নইলে নয়। সুযোগ বুঝে ওড়িশা এফসিও এই চিঠিতে সাক্ষর করেছে।

ক্লাবজোটের ৫ দফা শর্ত দেওয়া চিঠির সারমর্ম হল, তারা ২০২৫-‌২৬ মরশুমে আইএসএলে খেলতে রাজি আছে ন্যাশানাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট ২০২৫য়ের(‌ জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসনিক নীতি)‌ নিয়ম মেনে ও এআইএফএফ কমিটির সঙ্গে যা আলোচনা হয়েছে, সেই আর্থিক নির্ভরতা, অংশীদারিত্বের সমান ভাগ, ও দীর্ঘমেয়াদী-‌স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটলে।

প্রথম শর্তেই বলা হয়েছে, আইএসএল আয়োজনের ও রাইটেসের দায়িত্ব যখন এআইএফএফের হাতে থাকবে, তখন আগে তারা ২০২৫-‌২৬য়ের লিগ পরিচালনার খরচটা পুরোপুরি বহন করতে বানিজ্যিক সহযোগী ও টিভি রাইটসের স্বত্ত্বের বিষয়টি চুড়ান্ত করুক। অবশ্যই ন্যাশানাল স্পোর্টস গভর্নেন্স অ্যাক্ট মেনে।

দু’‌নম্বর শর্ত হল, ২০২৫-‌২৬ মরশুমে ক্লাবগুলো কোনও অংশগ্রহণের জন্য ফি বা টাকা দেবে না। ছোট আকারে প্রস্তাবিত ফরম্যাটে ও সঠিক কমার্শিয়াল রেভিনিউ মডেল না থাকার কারণে ক্লাবগুলো ঘাড়ে যে আর্থিক বোঝা এসে পড়ছে, তা সমান ভাবে সকলের ওপর এসে পড়ছে না। এর অর্থ, কোনও কোনও ক্লাব অংশ নিতে চাইলেও নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে নারাজ। এর ফলে অন্যেদের তাদের খরচের দায়টা নিতে হচ্ছে অংশগ্রহণের নামে।

তিন নম্বর শর্ত হল, অন্তর্বর্তীকালীন অর্থাৎ ২০২৫-‌২৬ মরশুমের জন্য ক্লাব শুধু নিজেদের দল গঠন ও চালানোর খরচটাই বহন করবে। আর কিছু নয়।

চার নম্বর শর্ত হল, দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী রোড ম্যাপ দিতে হবে আইএসএল শুরুর আগেই। যাতে কমার্শিয়াল পার্টনার ও ব্রডকাস্টারের কথা পরিষ্কার বলা হবে। এছাড়া লিগ রেভিনিউ, প্রশাসনিক, রিস্ক শেয়ারিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি রাখতে হবে। যাতে শেষপর্যন্ত লিগ লাভের মুখ দেখে।

পাঁচ নম্বর শর্ত হল, ২০২৫-‌২৬য়ের লিগ আয়োজনের খরচ কমাতে কেন্দ্রীয় সরকারি সাহায্য জরুরি। এআইএফএফকে এটা দেখতে হবে।

এই শর্তগুলো মেনে নিয়ে এআইএফএফ কমিটি লিখিত সম্মতি জানালে ক্লাবজোট আইএসএলে খেলতে রাজি। এটা মনে করার কোনও কারণ নেই, এই শর্ত দেওয়া হয়েছে লিগ না খেলা, বা লিগ আয়োজনে অহেতুক দেরি করার জন্য। এটা করা হয়েছে, ক্লাবগুলোর স্বার্থ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য। তাই এআইএফএফ ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ৩ জানুয়ারি আবার আলোচনায় বসতে তৈরি। যাতে ৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে সঠিক রিপোর্ট পেশ করা যায় বর্তমান অবস্থার ছবিটা তুলে ধরে।

ক্লাব জোটের পক্ষে চিঠিতে সই করেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইস্টবেঙ্গল এফসি, কেরালা ব্লাস্টার্স, বেঙ্গালুরু এফসি, এফসি গোয়া, স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি, মুম্বই সিটি এফসি, চেন্নাইন এফসি। মহমেডান স্পোর্টিং, পাঞ্জাব এফসি, ইন্টার কাশী, নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড, ওড়িশা এফসি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *