মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর বিপরীত মেরুতে অবস্থান মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কোচ সের্জিও লোবেরার। অস্কার যেখানে এখন থেকে লিগ শিল্ড জেতার কথা ভাবতেই নারাজ ফুটবলারদের ওপর বাড়তি চাপ এড়াতে, সেখানে লোবেরার মুখে খেতাব জয়ের পরিকল্পনা প্রথম ম্যাচ থেকেই। বলতে গেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অঙ্ক কষা শুরু করেছেন সবুজ মেরুন কোচ।
সোমবার চেন্নাইন এফসির বিরুদ্ধে আইএসএলের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার আগে রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে বেশ স্পষ্টভাবেই নিজের বক্তব্যে বুঝিয়ে দিলেন, প্রতিটা ম্যাচ শুধু জেতা নয়, লক্ষ্য বড় ব্যবধানে জয় সংক্ষিপ্ত লিগে গোল পার্থক্যের কথা মাথায় রেখে। সম্ভবত প্রথম ২ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের ৭ গোল করা দেখেই লোবেরা নিজেদের গোল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছেন। বলেই দিলেন, ‘ অন্যবারের লিগের থেকে এবারের লিগ অনেকটাই আলাদা। ৭ বছর আগে যখন ভারতে ক্লাব কোচিং করতে এসেছিলেন, তখন দলের সংখ্যা কম ছিল। তাই কম্পিটিশন ছিল কঠিন। এবারও সংক্ষিপ্ত লিগে ম্যাচের সংখ্যা কম। তাই পয়েন্ট খোয়ানো মানে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়া। ডাবল লেগের খেলা না থাকায় হোম আর অ্যাওয়ে ম্যাচের সংখ্যাও কমেছে। আর শুধু জিতলেই হবে না, গোল সংখ্যা বাড়ানোর কথাও ভাবতে হবে গোল পার্থক্য যাতে লিগের শেষে সমস্যায় না ফেলে। আগে ৬ জন বিদেশি খেলানো যেত। এখন খেলানো যায় ৪। এতে সব দলের মধ্যেই শক্তির ফারাকটা কমে এসেছে। তাই কোনও দলকেই খাটো করে দেখা চলবে না।’
এই কারণে কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ২ গোলে জিতলেও, প্রতিপক্ষ চেন্নাইনকে সমীহ করছেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের হেড স্যার লোবেরা। বলেন,‘ মনে হচ্ছিল দেরিতে লিগ শুরু হওয়ায় অনেক দলই তৈরি নয়। ভাল ফুটবলার নিতে পারেনি দল গড়তে এমন একটা কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবে চেন্নাইন দলটা ভালই গুছিয়েছে উন্নত মানের দেশি ও বিদেশি ফুটবলার নিয়ে। ওরা মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ১ গোলে হারলেও লড়াকু মনোভাবের ছাপ রেখেছিল নিজেদের খেলায়। ওরা মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পয়েন্ট কাড়তে ঝাঁপাবে। তাই সতর্ক থাকতে হবে ওদের বিরুদ্ধে।’
কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে জয়ে খুশি হলেও, দলের খেলায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন বাগান কোচ লোবেরা। বলেন, ‘ আমি যে দল হাতে পেয়েছি, তা অসাধারন। কাকে ছেড়ে কাকে খেলাব, তা ঠিক করাটা বেশ দুরুহ কাজ আমার কাছে। তবে এর একটা ভাল দিকও আছে। ২২ জন ফুটবলারই প্রথম একাদশে খেলার যোগ্য বলে, এদের ম্যাচের গতিপ্রকৃতি, পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠে নামিয়ে দিতে সমস্যা হবে না। যে কোনও টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ কঠিন হয় সব দলের কাছেই। যতই আমরা দু’মাসের ওপর প্র্যাকটিস করে থাকি না কেন, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলাটা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। সম্ভবত এই কারণে প্রথম গোল করার পর আমাদের খেলার বাঁধুনিটা আলগা হয়ে গিয়েছিল। এতে প্রতিপক্ষ কেরল গোলের সুযোগ পেয়েছিল। এক গোলে এগিয়ে থাকাটা কখনওই নিরাপদ নয় জয়ের ক্ষেত্রে। তাই দ্বিতীয় বা তার বেশি গোল পাওয়াটা জরুরি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। কেরল ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটা এসেছে ম্যাচের শেষগিকে। চেন্নাইন ম্যাচে যাতে এই চাপটা না তৈরি হয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।’
কেরল ম্যাচে রবসনের পেশিতে টান ধরেছিল। তবে চেন্নাইন ম্যাচে তাঁর খেলতে দেখা যাবে, এমনটাই আভাস মিলেছে প্র্যাকটিসে। দলের সকলেই ফিট, কোচ লোবেরার জন্য এটাই সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।
আগে মোহনবাগানের হয় কলকাতায় খেলে গিয়েছিলেন অময় রানাওয়াডে। এবার আবার তিনি সবুজ মেরুন জার্সিতে আইএসএলে খেলছেন। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতার ফুটবল পরিবেশ, সমর্থকদের উন্মাদনা, প্রত্যাশা তাঁর জানা। এছাড়া তাঁর মস্ত একটা সুবিধা, তিনি লোবেরার কোচিংয়ে একটা সময় দীর্ঘসময় খেলেছেন। আর তাই সবুজ মেরুন লোবেরার কোচিংয়ে সেরা দিতে মুখিয়ে আছেন। বললেন, কোচ লোবেরা ও মোহনবাগান টিম ম্যানেজেন্টকে ধন্যবাদ, দেশের অন্যতম সেরা দলে নিজের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার জন্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
