Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ বয়স যে শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র। সেটা আবারও প্রমাণ করলেন ৪০ বছর বয়সী কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা। ২০২৬ বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে ফেবারিট স্পেনকে তাঁর ভরসা দুই হাত দিয়ে আটকে দিয়ে বোঝালেন কেন গত ১৩ বছর ধরে কেপ ভার্দে দলের তিনি এক নম্বর গোলকিপার। স্পেন ম্যাচে তাঁর ৭টি অনবদ্য সেভের কারণে কেপ গোলশূণ্য ড্র করে মূল্যবান এক পয়েন্টই শুধু পায়নি, ইতিহাস গড়েছে। অথচ ম্যাচ শেষে এই ভোজিনহা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এর মাঝে শুধু স্পেনের পয়েন্ট কাড়ার আনন্দ নয়, প্রকাশ পেয়েছে এক গভীর বেদনার। আসলে ভোজিনহা চেয়েছিলেন বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম ম্যাচ খেলার মুহূর্তটা মাঠে বসে দেখুন তাঁর মা। কিন্তু বিপুল পরিমান ভিসা ফি দিতে না পারার কারণে ভোজিনহার মার আমেরিকা আসা সম্ভব হয়নি। এটাই খুব কষ্ট দিচ্ছে ভোজিনহাকে।

জানুয়ারিতে আমেরিকা সরকার একটি তালিকা প্রকাশ করে, তাতে কেপ ভার্দের নাম যুক্ত হয় শর্তসাপেক্ষে। তাতে বলা হয়, আমেরিকায় আসতে হলে কেপ ভার্দের নাগরিকদের ১৫ হাজার মার্কিন ডলার দিতে হবে ভিসা ফি বাবদ। এত টাকা ভোজিনহা বা তাঁর মার কাছে ছিল না। তাই ভিসার আবেদন করেও তা পূরণ করতে পারেননি ওই টাকা জোগাড় করতে না পেরে। মা এমন একটা ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারলেন না বলে স্পেন ম্যাচের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি মেলার পরও ভোজিনহাকে যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছে।

ভোজিনহা বলেন, ‘‌ সারাজীবন ধরে আমি এমন একটা দিনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছি। আর এখন সেই মুহূর্তটা মাঠে মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারলাম না বলে বড় কষ্ট পাচ্ছি। আমি প্রাণখুলে কাঁদলাম, আমার দাদু ঠাকুমা ও মার জন্য। ওরাই তো আমার সব। ওদের কাছেই আমি বড় হয়েছি। দাদু ঠাকুমা বেঁচে থাকলে তাঁরা প্রচন্ড খুশি হতেন। মা হচ্ছেন, তবে ঘরে বসে। ভিসার ফি সময়মতো জোগাড় করতে না পারায়, মার আমেরিকা আসা সম্ভব হয়নি। মা মাঠে হাজির থাকলে আরও ভাল লাগত।’‌

ভোজিনহা জানান, ‘‌ এই মুহূর্তের জন্য সারাজীবন মাঠে ঘাম ঝরিয়েছি। আমার বয়স ৪০। অথচ আমার পেশাদার ফুটবল জীবন শুরু হয় ২০১২ সালে, তখন আমার বয়স ছিল ২৫। একটা সময় মনে হয়েছিল, খেলা ছেড়ে দি। বেশি বয়সে আর কতদূর যাওয়া সম্ভব?‌ কিন্তু শেষপর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাই, বড় স্বপ্নপূরণের লক্ষ্য মনে সযত্নে লালন পালন করে। স্পেন ম্যাচের সেরা পুরস্কারটা শুধু আমার একার নয়, গোটা দলের। সতীর্থদের অদম্য জেদ ও লড়াই ছাড়া এটা সম্ভব ছিল না। কেপ ভার্দের মানুষের জন্য আমি গোলের নীচে এভাবেই শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়ে যাব চলতি বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে। আমাদের সেরা অস্ত্র হল দলগত সংহতি। যেভাবে একটা পরিবারের মতো আমরা চলি, সেটা শক্তি জোগাচ্ছে ভাল ফুটব উপহার দেওয়ার। অনেকেই ভেবেছিলেন, আমরা বুঝি শুধু বিশ্বকাপে খেলাটা উপভোগ করতে এসেছি। কিন্তু আমাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস ছিল ও আছে। জানি আমরা অন্যদের থেকে সমীহ আদায় করে নিতে সক্ষম সম্মিলিত লড়াইয়ের মাধ্যমে। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও সবরকম ভাবে তৈরি হয়েই এসেছি। কোচের স্ট্র‌্যাটেজি ও আস্থা মাথায় রেখে। আশা করি পরের ম্যাচে আরও ভাল খেলতে পারব। গ্রুপে ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে।’‌

কেপ ভার্দে কোচ বুবিসতা ম্যাচ শেষে বলেন, ‘‌ভোজিনহা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। ও বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছতে ও সেরা দিতে নিজেকে নিংড়ে দিয়েছিল। স্পেন ম্যাচ নিজের দক্ষতার ঝুলি উজাড় করে দেয়। আর তাতেই ওর চোখ বেয়ে নেমেছে আনন্দাশ্রু। আমি আলাদাভাবে কারও কথা বলি না। কিন্তু ভোজিনহার প্রশংসা আলাদা ভাবে না করে থাকতে পারছি না। ওর গোলের নীচে ঠান্ডা মাথায় লড়াইটা গোটা দলকে উজ্জীবিত করেছে। সতীর্থদের শান্ত থেকে সেরা দিতে সাহায্য করেছে। প্রকৃত নেতার মতো। স্পেন ম্যাচে ড্রটা কেপ ভার্দের মানুষের জন্য একটা বিরাট প্রাপ্তি। আমি সবসময় চেয়েছি, গোটা বিশ্বের মানুষ জানুক, আমরা কত ভাল ফুটবল খেলতে পারি। প্রতিপক্ষ কে তা মাথায় না রেখে ফুটবলাররা মাঠে যে সাহসী লড়াইটা ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।’‌

কেপ ভার্দের পরের ম্যাচ উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ২২ জুন। স্পেন ম্যাচের লড়াইটা জারি রাখতে পারলে, কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাস আরও একটা সাফল্যের অধ্যায় জুড়বে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *