Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
এএফসি কাপ

মোহনবাগান ৩ (কামিন্স-পেনাল্টি, মিলাদ-আত্মঘাতী, সাদিকু)

আবাহনী ১ (স্টিওয়ার্ট)

সুচরিতা সেন চৌধুরী: প্রথমার্ধের মোহনবাগান বদলে গেল পরের ৪৫ মিনিটে। ড্রেসিংরুমে হুয়ান ফেরান্দোর ভোকাল টনিক না কি নিজেদের মধ্যেই আগ্রাসনটা ফিরে আসা, তা নিয়ে এখন আর আলোচনার জায়গা নেই। বরং এএফসি কাপের প্রথম ধাপ সাফল্যের সঙ্গে পেরিয়ে মূল পর্বে‌ পৌঁছে গেল মোহনবাগান। তবে মূল পর্বে খেলতে নামার আগে দলের ফাঁক ফোকরগুলো নিয়ে ভাবতে হবে কোচ ফেরান্দোকে। মঙ্গলবার প্রথমার্ধটা কোচের জন্য আতঙ্কের হতে পারে। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল না এলে ভিলেন হয়ে যেতে পারতেন বিশাল কাইথ। শুরুটা ভাল করেও কেমন যেন আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেললেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত জয় এল এবং গ্রুপ পর্বে পৌঁছে গেল মোহনবাগান।

এদিন শুরুটা বেশ নড়বড়ে ছিল আইএসএল চ্যাম্পিয়নদের। কখনও আশিস রাই তো কখনও সাহাল আব্দুল সামাদ, কখনও হুগো বুমৌস তো কখনও সাদিকু— বার বার মনে হল এই বুঝি গোল হয়েই গেল মোহনবাগানের তরফে। কিন্তু ৩৬ মিনিট পর্যন্ত হতাশই করল মোহনবাগান। কিছুটা বোঝাপড়ার সমস্যায় ভুগলেন বাগা‌ন প্লেয়াররা। শেষ পর্যন্ত যখন গোল এল সেটা পেনাল্টি থেকে। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অন্যায়ভাবে লিস্টন কোলাসোকে ফেলে দিয়েছিলেন আবাহনী ঢাকার সুশান্ত ত্রিপুরা। পেনাল্টি দিতে ভুল করেননি রেফারি। আর সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতেও ভুল করেননি জেসন কামিন্স। যদিও সব ঠিক থাকলে মোহবাগানের গোলের ব্যবধান ততক্ষণে ৩-১ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। যা প্রথমার্ধে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই করে ফেলল মোহনবাগান।

প্রথমার্ধে বরং আবাহনী কম সুযোগেই বাজিমাত করেছিল। মোহনবাগানের ছন্নছাড়া ফুটবলের মধ্যেই ১৬ মিনিটে গোল করে আবাহনীকে এগিয়ে দিয়েছিলেন কর্নেলিয়াস এজেকিল। যদিও তিনি পরিচিত স্টিওয়ার্ট নামেই। এই গোলের পিছনে আবাহনী প্লেয়ারের থেকে অনেকবেশি ভূমিকা রেখে গেলেন মোহনবাগান গোলকিপার ভিশাল কাইথ। ওজোকুর শট হাতে ধরেও বল দখলে রাখতে পারেননি বিশাল। ফিরতি বলে বক্সের কোনা থেকে স্টিওয়ার্টের দুরন্ত শটের শেষ পর্যন্ত নাগাল পাননি বাগান গোলকিপার।

তার পর থেকেই বেশ খানিকটা নড়বড়ে দেখাল বিশালকে। প্রথমার্ধের শেষে প্রায় গোল করেই ফেলেছিল আবাহনী। বিশাল ঝাঁপালেও তা আটকাতে পারেননি। বরং এ যাত্রায় মোহনবাগানকে বাঁচিয়ে দিল পোস্ট। না হলে প্রথমার্ধ আবাহনী ২-১ গোলে এগিয়েই শেষ করত। দ্বিতীয়ার্ধের মোহনবাগান জ্বলে উঠল আবাহনীর আত্মঘাতী গোলের পর থেকেই। দু’মিনিটের মধ্যে দুই গোল। ৬০ মিনিটেই প্রথমার্ধের ১-১-কে ৩-১ করে ফেলল মোহনবাগান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আবাহনী বক্সে ঝড় তুলল সাদিকু, কামিন্স, বুমৌসরা। এদিন মাঝমাঠকে দারুণ পরিচালনা করলেন লিস্টন কোলাসো। ৫৮ মিনিটে লিস্টন, কামিন্স হয়ে বক্সের বাঁ দিকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন হুগো বুমৌস। জায়গা ছোট করতে এগিয়ে এসেছিলেন আবাহনী গোলকিপার। যে কারণে তাঁর মাথার উপর দিয়েই গোলে শট নেন বুমৌস। কিন্তু সেই বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের গোলেই পাঠিয়ে দেন আবাহনী প্লেয়ার। সেম সাইড গোলে ২-১ করে মোহনবাগান। আর তার ঠিক দু’মিনিটেই সাদিকুর অসাধারণ গোল। লিস্টন থেকে হুগোর পা হয়ে সাদিকুর গোলে শট বাঁচাতে পারেননি সাহিদুল আলম। ৬০ মিনিটে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। তার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি আবাহনী ঢাকা। ব্যবধান বাড়াতে পারত মোহনবাগান। ব্যবধান কমাতেও পারত আবাহনী কিন্তু কোনওটাই আর হল না।

মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট: বিশাল কাইথ, আনোয়ার আলি, অনিরুদ্ধ থাপা, হুগো বুমৌস, শুভাশিস বোস, লিস্টন কোলাসো (আশিক কুরনিয়ান), সাহাল আব্দুল সামাদ (গ্লেন মার্টিন্স), হেক্টর ইউস্তে, জেসন কামিংস (কিয়ান নাসিরি), আশিস রাই (লালরিনলিয়ানা নামতে), আর্মান্দো সাদিকু (মনবীর সিং)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *