অলস্পোর্ট ডেস্ক: বক্সিং ডে টেস্টেও মুখ থুবড়ে পড়ল ইংল্যান্ড। তাদের খারাপ সময় কিছুতেই আর কাটছে না এই অ্যাশেজে। শুক্রবার মেলবোর্নে চতুর্থ অ্যাশেজ টেস্টের প্রথম দিনেও দেখা গেল সেই হতাশার ছবি, যেখানে একদিনেই ২০টি উইকেটের পতন ঘটল এবং অস্ট্রেলিয়ায় ইংল্যান্ডের দুঃস্বপ্নের সফর আরও খারাপের দিকে মোড় নিল। এমনিতেই প্রথম তিন টেস্টে হেরে অ্যাশেজ হাতছাড়া করে ফেলেছে ইংল্যান্ড। এখন শুধু মান বাঁচানোর লড়াই। সেখানেও শুরুটা ভয়ঙ্করভাবে হল। যদিও এদিন ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে দুই দলই দ্রুত আউট হয়ে চমকে দিয়েছে।
প্রথম দিনই অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে পড়েন, কারণ ফাস্ট বোলারদের দাপটে উভয় দলই অলআউট হয়ে যায় প্রথম ইনিংসে।
অস্ট্রেলিয়াকে ১৫২ রানে অলআউট করেও ইংল্যান্ড টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে। চাপের মুখে তাদের ব্যাটিং আবারও ভেঙে পড়ে এবং দিনের শেষে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১১০ রানে সফরকারীদের অলআউট করে ৪৬ রানের লিড নিয়ে হাসিমুখে মাঠ ছাড়ে। এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে।
১৮৯৪-৯৫ সিরিজের পর এই প্রথম কোনও অ্যাশেজ টেস্টে একদিনে ২০টি উইকেট পড়ল এবং টেস্ট ক্রিকেটের পিচ ঢাকার নিয়ম চালু হওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম এমন ঘটনা। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের প্রাণবন্ত পিচে দ্রুত গতিতে খেলা এই উন্মত্ত দিনটি যেন এক হারানো যুগের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল। সবাই এদিনের খেলা দেখে ইতিহাস ঘাটতে ব্যস্ত ছিলেন। একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল, ‘এমনটা শেষ কবে ঘটেছে?’
জশ টংয়ের বল হাতে অসাধারণ স্পেলটি এমসিজি-তে উপস্থিত ইংল্যান্ড সমর্থকদের জন্য যেন এক আগাম বড়দিনের উপহারের মতো ছিল। তবে দিনের খেলা শেষে তাদের মুখে সেই পরিচিত হতাশার ছাপ ফিরে আসে। তবুও, মেলবোর্ন যখন ইতিহাস তৈরি করছিল, তখন ভক্তদের জন্য এটি ছিল পয়সা উসুল বিনোদন। ৯৩,৪২২ দর্শকপূর্ণ মাঠে একদিনে ২০ উইকেটের পাশাপাশি নতুন দর্শকসংখ্যার রেকর্ডও তৈরি হয়, যা ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখা ৯৩,০১৩ দর্শক সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।
তবে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং এক হতাশাজনক পরিচিত গল্পই শোনালো। মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রানে পৌঁছাতে পেরেছিলেন — হ্যারি ব্রুক পাল্টা আক্রমণে ৪১, বেন স্টোকস ১৬ এবং গাস অ্যাটকিনসন লড়াকু ২৮ রান করেন — অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে বোলাররা সবুজ আভা থাকা পিচে দাপট দেখান।
জো রুটের দুঃস্বপ্নের ধারা অব্যহত ছিল, প্রাক্তন অধিনায়ক ১৫ বলে শূন্য রানে আউট হন এবং ইংল্যান্ডের ইনিংস যখন ভেঙে পড়ছিল, তখন তিনি সামান্যতম প্রতিরোধও গড়তে পারেননি। ব্যাট হাতে সফরকারী দলকে পরিকল্পনাহীন মনে হচ্ছিল, তাদের মধ্যে কোনও সুস্পষ্ট কৌশলের অভাব ছিল এবং বোলারদের করা চমৎকার কাজের ওপর ভিত্তি করে ইনিংসকে এগিয়ে নিতে তারা ব্যর্থ হয়।
আরও একবার, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগাতে ইংল্যান্ডের ব্যর্থতা তাদের ম্যাচটিতে পিছিয়ে দেয়, যা এই অনুভূতিকে আরও জোরালো করে যে সফরটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
