অলস্পোর্ট ডেস্ক: চোয়াল শক্ত করা একটা লড়াই, সঙ্গে অনেককে জবাব দেওয়ারও। এক ওভার বাকি থাকতে ম্যাচ জিতে নেওয়ার পরও যে মানুষটার বডিল্যাঙ্গুয়েজে নেই কোনও উচ্ছ্বাস। এদিন শুধু কি অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার জিতলেন? এদিন জিতলেন ক্রিকেটার শ্রেয়াস আইয়ারও। কর্তা, ব্যক্তিরা যতই তাঁকে না দেখার ভান করুন না কেন, দেশ তাঁকে দেখেছে, পুরো দেশ আজ তাঁকে নিয়েই উচ্ছ্বাসে মেতে। আর তিনি তখন বলছেন, ‘‘ফাইনাল নিয়ে তো ভাবতেই হবে, তবে এখনই নয়, এখন ড্রেসিংরুমে ফিরে দলের সঙ্গে আনন্দ করব তার পর ভাবব।’’ এটাই হলেন শ্রেয়াস। ম্যাচ শেষে একে একে এসে সবাই জরিয়ে ধরছিলেন। প্রতিপক্ষের রোহিত শর্মাও পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেলেন, না কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। শেষ পর্যন্ত হাসি দেখা গেল যখন দলের অন্যতম মালিক প্রীতি জিন্টা এসে উচ্ছ্বাসে তাঁকে জরিয়ে ধরলেন। তার পর আবার সেই চেনা শ্রেয়াস।
ম্যাচ পরবর্তী সময়ের কথোপকথনেও উচ্ছ্বাসহীন শ্রেয়াস। ‘‘আমি এই ধরনের বড় মুহূর্তগুলো ভালোবাসি এবং আমি নিজেকে এবং আমার সহ-খেলোয়াড়দের সবসময় বলি যে যত বড় ইভেন্ট হবে, তত শান্ত থাকতে হবে এবং তুমি সেরা ফলাফল পাবে। আজ আমি বাইরে প্রচুর ঘাম ঝরানোর পরিবর্তে আমার শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর অনেক বেশি মনোযোগ দিচ্ছিলাম,’’ বলেন শ্রেয়াস।
তাদের রান তাড়া করার পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে শ্রেয়াস বলেন, ‘‘সমস্ত খেলোয়াড়কে দৃঢ় হতে হবে এবং প্রথম বল থেকেই উদ্দেশ্য প্রদর্শন করতে হবে। এটা ঠিক যে [টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা] তাদের শুরুটা কাজে লাগাতে পারেনি কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল অসাধারণ। এমনকি যখন আমি মাঠে নামলাম তখনও আমাকে কিছুটা সময় নিতে হয়েছিল, কিন্তু অন্য প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান বেশ ভালোভাবে স্ট্রাইক করছিল। আমি জানি আমি যত বেশি সময় মাঠে ব্যয় করি, ততই ভালো খেলি এবং আমার দৃষ্টিভঙ্গিও উন্নত হয়।’’
আরসিবির কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানো নিয়েও এদিন অকপট ছিলেন পঞ্জাব অধিনায়ক। ‘‘শুধু কল্পনা এবং হাহুতাশ ফেলে দিন এবং আমরা কোথায় ভুল করেছি তা নিয়েও খুব বেশি ভাবার দরকার নেই কারণ পুরো মরসুম জুড়ে আমরা কিছু অসাধারণ ম্যাচ খেলেছি এবং প্রথম খেলা থেকে উদ্দেশ্য এবং ইতিবাচকতা অপরিহার্য ছিল এবং একটি ম্যাচ আমাদের একটি দল হিসেবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না।’’
তাঁর দেখানো পথ ধরেই এই দলে সফল আনক্যাপড প্লেয়াররা। তাতে খুশি শ্রেয়াস বলেন, ‘‘আমি কেবল তাদেরকে তাদের মতো করে থাকতে দিয়েছি। আমি তাদের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু চাই না। তারা যে নির্ভীকতা নিয়ে আসে এবং যে ধারণাগুলি ভাগ করে নেয় তা আমি পছন্দ করি। যদিও তাদের এত অভিজ্ঞতা নাও থাকে, তবুও আমার মনে হয় তাদের সাহসী স্বভাব আছে এবং এত বড় মঞ্চে তাদের আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ।’’
তাঁর বর্তমান দলের কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টকেও প্রশংসায় ভরিয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। তিনি বলেন, ‘‘আমি এখানে ব্যবস্থাপনা এবং আমার চারপাশের সকলের সাথে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি এবং পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। আমি কেবল মুহূর্তের মধ্যে থাকি, পরিস্থিতির প্রতি যত্নবান হই, ড্রেসিংরুমে যাই এবং সতীর্থদের ফাইনালে ওঠার সাথে উদযাপন করি। আমার মনে হয় কাজ এখনও অর্ধেক হয়েছে তাই আমি ফাইনাল নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাই না। শুধু ক্লান্তি থেকে বেরিয়ে আসা, একটু ম্যাসাজ করা (বলে হেসে ফেলেন) এবং সঠিক মানসিক অবস্থায় থাকা।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
