Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্ধকার কাটিয়ে আতসবাজির রোশনাইয়ে ঢাকল নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম। না, এবারও বিশ্বকাপ জেতা হল না নিউজিল্যান্ডের। সঙ্গে আহমেদাবাদের এক লাখ ৩২ হাজারের গ্যালারিকেও চুপ করিয়ে দিতে পারলেন না কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ব্যাটে, বলে, ফিল্ডিংয়ে বাজিমাত করল ভারত এবং সহজেই রোহিত, বিরাটদের হতাশার নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামকে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিলেন সূর্যকুমার, বুমরাহ, সঞ্জুরা। এই পুরো বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি ক্যাচ ফেলেছে ভারত। এদিনও সহজ ক্যাচ, কঠিন ক্যাচ পড়ল কিন্তু মুষ্টিবদ্ধও হল একাধিক। শুরু হয়েছিল টসে হার দিয়ে। তবে ওখানেই শুরু, ওখানেই শেষ। প্রথমে ব্যাটিং থেকে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যের অনেকটা আগেই আটকে দেওয়া প্রমাণ করল এই টি২০ দলের অদম্য খিদে আর লড়াই কতটা। ৫ উইকেটের বিনিময়ে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ডের সামনে ২৫৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল ভারত। বর্তমান টি২০ ক্রিকেটে কোনও রানই যে যথেষ্ট নয় তা সেমিফাইনালেই প্রমাণ করে দিয়েছিল ইংল্যান্ড কিন্তু এদিন ফাইনালের প্রতিপক্ষকে সেই সুযোগ দিল না ভারতের বোলাররা। ভারতের ২৫৫ রানের জবাবে এক ওভার বাকি থাকতেই ১৫৯-এ থামল নিউজিল্যান্ড।

টস হেরে সূর্যকুমার যাদব একমুখ হাসি নিয়ে বলে দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রথমে ব্যাট করতে কোনও সমস্যা নেই, তাঁরা সব পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। আর সেটাই দেখা গেল ম্যাচের প্রথম বল থেকে। যখন সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে ওপেন করতে নামলেন সেই অভিষেক শর্মা। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের এতটাই আত্মবিশ্বাস ছিল যে দলে কোনও পরিবর্তন আনার কথা ভাবেইনি। যে অভিষেক আর বরুণ চক্রবর্থীকে নিয়ে প্রভূত আলোচনা হচ্ছিল তাঁদের দলে রেখেই টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামল ভারত, আর দলের বিশ্বাসের মান রাখলেন তাঁরাও। অভিষেকের ১৮ বলে সেঞ্চুরি-সহ ৫২ রান, সঞ্জু স্যামসনের আবার সেঞ্চুরির কাছ থেকে ফেরা ৮৯ রান করে আর ঈশান কিষাণের ৫৪ ভারতের জন্য জয়ের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিল। বাকি কাজ করে দিলেন টেইল এন্ডার শিভম দুবে তাঁর চেনা ছন্দেই ৮ বলে ২৬ রান করে। মাঝে শুধু সূর্যকুমারের ০ আর হার্দিকের ১৮ রানে ফেরাটা দলের উপর প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২৫৫-৫-এ থামে ভারত।

এমনিতে টি২০ ক্রিকেটে এই রান যথেষ্টই। তবুও সাম্প্রতিক সময়ের ইতিহাস বলছে, ঝুঁকি নেওয়ার কোনও জায়গা নেই। সেই আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম, যেখান থেকে বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে চোখের জলে মাঠ ছেড়েছিল ভারত। সেদিনের অধিনায়ক এদিন মাঠে ছিলেন। তিনিই টি২০ বিশ্বকাপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। সেই রোহিত শর্মা, এমএস ধোনিদের সামনেই এই স্টেডিয়াম থেকে সাফল্যের উৎসবে দেশকে মাতিয়ে দিয়ে ফিরল স্কাইয়ের ভারত। অর্শদীপ সিংয়ের প্রথম ওভারে বাউন্ডারিতে শিভম দুবের ক্যাচ ফেলা দিয়ে শুরু, কিন্তু এদিন ‘ক্যাচ মিস, ম্যাচ মিস’ আর খাটল না। কারণ পরের বাকি সময়টা ভারতীয় বোলার ও ফিল্ডারদের অনবদ্য বোঝাপড়ায় এগিয়ে গেল ম্যাচ। তার মধ্যেই হাফসেঞ্চুরি হাঁকালেন সেমিফাইনালের বিধ্বংসী ওপেনার টিম সাইফার্ট।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে এদিন ওপেন করতে নেমেছিলেন সাইফার্ট ও  ফিন অ্যালেন। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের নামের পাশে একটাই ডবল ফিগার, আর সেটা হল সাইফার্টের ২৬ বলে ৫২ রান। এছাড়া ফিন অ্যালেন ৯, রাচিন রবীন্দ্র ১, গ্লেন ফিলিপ্স ৫,  মার্ক চ্যাপম্যান ৩ রান করে আউট হলেন। জোড়া আউটের পিছনে অবদান রাখলেন উইকেটের পিছনে নিয়মিত ক্যাচ নেওয়া ঈশান কিষাণ ফিল্ড ক্যাচ নিয়ে। তাঁর দুরন্ত জোড়া ক্যাচই ফেরাল সাইফার্ট আর রবীন্দ্রকে। এর পর কিছুটা হাল ধরার চেষ্টা করলেন ড্যারেল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার। তার মধ্যেই নিশ্চিত ক্যাচ ফেললেন হার্দিক পাণ্ড্যে, পায়ের ফাঁক দিয়ে বলও গলালেন বাউন্ডারির উদ্দেশে। শেষ পর্যন্ত অক্ষরের বলে আবার সেই ত্রাতা ঈশান।

ড্যারেল মিচেলকে ১৭ রানে ফিরিয়ে নিজের নামের পাশে তৃতীয় উইকেট লিখে নিলেন অক্ষর প্যাটেল আর তৃতীয় ক্যাচ ঈশান কিষাণ। যে অক্ষরকে না খেলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার আটের ম্যাচে বিশ্রী হারের মুখ দেখতে হয়েছিল ভারতকে। তার পর থেকে ভারতীয় দলে আর তেমন পরিবর্তন আনার সাহস করেনি টিম ম্যানেজমেন্ট। যাঁরা ব্যর্থ ছিলেন তাঁরাও এদিন ফিরলেন স্বমহিমায়। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে নাম লেখাল পুরো ভারতীয় দল। যখন অধি‌নায়কের সঙ্গে কিউই ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন জেমস নিশাম তখনই জোড় ধাক্কা দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের ত্রাতা বোলার। নিশাম (৮) ও ম্যাট হেনরি(০)-কে পর পর বলে বোল্ড করে ফেরালেন যশপ্রীত বুমরাহ। হ্যাটট্রিক হল না ঠিকই কিন্তু শেষ বেলায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া অধিনায়ক স্যান্টনারকেও ৪৩ রানে ফেরালেন তিনিই। চার উইকেট লিখে নিলেন নিজের নামের পাশে।

ততক্ষণে জয়ের দরজায় পৌঁছে গিয়েছে ভারত, শুধু শেষ বলের অপেক্ষা। একটি করে উইকেট হার্দিক পাণ্ড্যে ও বরুণ চক্রবর্থীর। ১৯তম ওভারে বল করতে এসে নিজের নামের পাশে এক উইকেট লিখে নিলেন অভিষেক শর্মা যখন জ্যাকব ডাফি (৩)-র ব্যাট থেকে বেরিয়ে আসা বল জমা হল তিলক ভার্মার হাতে। এক ওভার বাকি থাকতেই ৯৬ রানে জিতে পর পর দু’বার টি২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ডের পাশাপাশি তিনটি টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডও লেখা হল ভারতের নামে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *