ছবি— সূর্যকুমার যাদবের এক্স থেকে
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ঠিক যতটা ঝড়ের গতিতে ভারতের উইকেট পড়ছিল, ততটাই গতিতে শুরুতেই উইকেট হারাতে শুরু করল ইউএসএ। টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৭-এর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল শনিবার থেকে। ভারত তাদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগেই অবশ্য বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছিল। টাইমস্লটে ভারত তিন নম্বর ম্যাচ খেলতে নেমেছিল। তবে ভারতের উদ্বোধনী ম্যাচ ছিল বর্তমান টি২০-র তুলনায় অনেকটাই লো-স্কোরিং। ভারত ৪৬ রানে তিন উইকেট হারিয়েছিল, ইউএসএ ১৩ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে। দ্রুত প্যাভেলিয়নে ফেরার প্রতিযোগিতা চলল দুই অর্ধে। ভাগ্যিস ভারত অধিনায়ক তাঁর চেনা ছন্দে ইউএসএ-র পরিকল্পনাকে বানচাল করলেন দারুণভাবে। একাই লড়লেন ব্যাট হাতে ভারতের হয়ে। আর ভারতের ১৬১ রানের মধ্যে ৮৪ রানই করলেন সূর্যকুমার। জবাবে ব্যাট করতে নেমে জয় এল না ঠিকই কিন্তু নজর কেড়ে নিল ইউএসএ দল। ভারত ২৯ রানে জিতে টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু করে দিল।
এদিন টস জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন ইউএসএ অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে যেভাবে দাপট দেখিয়েছিল ভারতের ওপেনার জুটি অভিষেক শর্মা ও ঈশান কিষাণ, সেটা এখানে দেখা গেল না। অভিষেক তো এক বল খেলেই রানের খাতা না খুলে ফিরে গেলেন। ঈশান কিছুটা সময় চেষ্টা করলেন ঠিকই তিলক ভর্মাকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু তাঁরও সংযোজন মাত্র ২০ রান। তিলক ফিরলেন ২৫ রানে। শুধু কী তাই? এর পর শিভম দুবে ০, রিঙ্কু সিং ৬, হার্দিক পাণ্ড্যে ৫, অক্ষর প্যাটেল ১৪, অর্শদীপ সিং ৪ ও বরুণ চক্রবর্থী শেষ বলে ০ রানে রান আউট হলেন।
এই প্যাভেলিয়নে ফেরার প্রতিযোগিতার মধ্যে একাই চিনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন সূর্যকুমার যাদব। শুধু দাঁড়িয়ে থাকলেন না, চারদিকে ব্যাটও চালালেন। যার ফল ৪৯ বলে ১০টি বাউন্ডারি ও চারটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকলেন ভারত অধিনায়ক। যাঁর সৌজন্যে ভারতের ৯ উইকেটে ১৬১-তে পৌঁছালো। না হলে একটা সময় মনে হচ্ছিল ১০০ রানে গন্ডিও পার করতে পারবে না ভারত। ইউএসএ-র হয়ে চার উইকেট নিলেন শ্যাডলি ভ্যান শাকউইক। দুই উইকেট নেন হরমিত সিং। একটি করে উইকেট আলি খান ও মহম্মদ মোহসিনের।
১৬২ রানের লক্ষ্যে ইউএসএ-র শুরুটা আরও খারাপ হল। পাওয়ার প্লে-তেই তিন উইকেট হারিয়ে বসল তারা। দুই ওপেনার অ্যান্ড্রিস গাউস ৬ ও সাইতেজা মুকামাল্লা ২ রান করে আউট হয়ে যান। দু’জনকেই ফেরান মহম্মদ সিরাজ। হর্ষিত রানার পরিবর্ত হিসেবে একদিন আগেই দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তিনি। তবে সুযোগ কাজে লাগাতে ভোলেননি। এর পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা ইউএসএ অধিনায়ক মোনাঙ্ক প্যাটেল রানের খাতা না খুলেই ফিরে যান। তাঁকে ফেরান অর্শদীপ সিং। এর পর চার ও পাঁচ নম্বরে নেমে ইউএসএ ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেন মিলিন্দ কুমার ও সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি। ৩৪ রানে মিলিন্দ ও ৩৭ রানে সঞ্জয় আউট হওয়ার পর শুভম রঞ্জনে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান।
অক্ষর প্যাটেলের ওভারে পর পর বলে ফেরেন সঞ্জয় ও হরমিত সিং। হরমিত রানের খাতা খোলার সময় পাননি। মহম্মদ মহসিন ফেরেন ৮ রানে। শুভম রঞ্জন শেষ পর্যন্ত লড়াই করলেন, ফিরলেন শেষ বলে ৩৭ রান করে। ১৩২-৮-এ থামল ইউএসএ। ভারতের হয়ে তিন উইকেট মহম্মদ সিরাজের, দুটো করে উইকেট নেন অর্শদীপ সিং ও অক্ষর প্যাটেল। এক উইকেট বরুণ চক্রবর্থীর। শেষ ওভারে ইউএসএ-র দরকার ছিল ৪১ রান, যা কোনওভাবেই সম্ভব ছিল না। হয়ওনি। তবে তাদের লড়াই বিশ্বকাপের শুরুতেই প্রশংসনীয়।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
