Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
শ্রেয়াস আইয়ার

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারত বনাম পাকিস্তান এশিয়া কাপ সুপার-ফোরের লড়াইয়ের আগে সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আবহাওয়া। তার সঙ্গে ছিল কেএল রাহুল এবং ঈশান কিষানের মধ্যে তে খেলবেন? তবে দল নির্বাচনের পর জানা গেল আসলে দলে নেই শ্রেয়াস আইয়ার । কারণ তাঁর চোট রয়েছে। সদ্য চোট সারিয়ে ফিরেছিলেন ভারতীয় দলে আবাস চোট পাওয়ায় চিন্তার ভাজ টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে।

ম্যাচের দিন টসের সময় অধিনায়ক রোহিত শর্মা দু’টি পরিবর্তন ঘোষণা করেছিলেন। যার মধ্যে একটি ছিল ওয়ার্ম-আপের সময় শ্রেয়াস আইয়ারের পিঠে টীন লাগায় তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং অন্য পরিবর্তনটি ছিল পিতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে মহম্মদ শামির জায়গায় ফিরছেন যশপ্রীত বুমরাহ।

জানা যায় খেলা শুরুর কিছুক্ষণ আগে ওয়ার্ম-আপের সময় তাঁর হঠাৎ পিঠে ব্যথা শুরু হয়। ফলে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখার ঝুঁকি নেননি রাহুল দ্রাবিড়, রোহিত শর্মারা। সেই কারণেই শেষ মুহূর্তে দলে নেওয়া হয় চোট সারিয়ে ফেরা আর এক ক্রিকেটার লোকেশ রাহুলকে।

এর আগেও চোটের জন্য আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নেতৃত্ব দিতে পারেননি শ্রেয়াস। সেই সময় তাঁর পরিবর্তে কলকাতাকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নীতীশ রানা।  আইপিএল শুরুর আগেই পিঠের চোটের জন্য ভারতীয় দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন শ্রেয়াস।  গত এপ্রিলে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) তাঁকে লন্ডনে পাঠায় অস্ত্রোপচারের জন্য।  তার পর থেকে শ্রেয়াস ছিলেন বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। সেখানে তাঁর রিহ্যাব প্রক্রিয়া চলেছে। ধাপে ধাপে ম্যাচ ফিট করে তোলা হয়েছে শ্রেয়াসকে।  প্রায় ছ’মাস পর তিনি ভারতীয় দলে ফিরেছেন এশিয়া কাপে। এর মধ্যে দু’টি ম্যাচ খেলেই আবার পিঠে ব্যথা।

বিশ্বকাপের আগে আবার ভারতীয় শিবিরে উদ্বেগ তৈরী করলেন ২৮ বছরের ব্যাটার। এরপর প্রশ্ন উঠতে পারে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির দেওয়া ফিটনেস রিপোর্ট নিয়েও।  এত দিন রিহ্যাবে থাকার পরও মাত্র দু’টি ম্যাচ খেলেই কেন পিঠের ব্যথায় কাবু হয়ে পড়লেন শ্রেয়াস? তা হলে কি এখনও তাঁর চোট ঠিক মতো সারেনি। বিশ্বকাপের জন্য দ্রুত মাঠে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে?

গত মার্চে আহমেদাবাদে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন শ্রেয়াস। ভারতীয় দলের ব্যাটিং অর্ডারের চার নম্বরে শ্রেয়াসকে ভাবা হচ্ছিল। দলকে ভরসা দিতেও শুরু করেছিলেন তিনি ব্যাট হাতে। কিন্তু পিঠের বিদ্রোহে নিজেই মাঠে নামতে ভরসা পাচ্ছেন না তিনি। কয়েক দিন আগে রোহিত আফসোস করে বলেছিলেন, যুবরাজ সিংহ অবসর নেওয়ার পর ব্যাটিং অর্ডারের চার নম্বর জায়গা নিয়ে সব থেকে বেশি চিন্তিত থাকেন তাঁরা। কারণ বেশ কয়েক জনকে চেষ্টা করা হলেও কেউই ভরসা দিতে পারেননি। শ্রেয়াসকেও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর চোটের জন্য সমস্যা আরও বাড়ছে।

এশিয়া কাপের দু’টি ম্যাচ খেললেও মনে করা হচ্ছে সম্পূর্নভাবে পরীক্ষিত নন ব্যাটার শ্রেয়াস। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ১৪ রান। নেপালের বিরুদ্ধে ব্যাট করার সুযোগ পাননি। তা হলে কি ফর্মে নেই শ্রেয়াস? প্রতিযোগিতামূলক কোনও ম্যাচে তাঁকে না দেখেই দলে নেওয়া হয়েছে শুধু জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ফিটনেস রিপোর্ট এবং অতীত রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে। জাতীয় নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তিনি নিজের চোট নিয়ে কতটা যত্নবান তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

চোটপ্রবণ শ্রেয়াস ক্রমশ ভারতীয় দলের বোঝা হয়ে উঠছেন। হয় দলে থাকতে পারছেন না, থাকলে খেলতে পারছেন না। খেললে রান পাচ্ছেন না। আধুনিক পেশাদার ক্রিকেটে এমন সফরসঙ্গীকে রোহিতরা কত দিন বইবেন? ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ ভরসা হারাতে শুরু করেছেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *