অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দলের চিফ কোচের পদের জন্য আবেদন করেছেন বার্সিলোনা লেডেন্ড জাভি হার্নান্ডেজ। অথচ জাভির আর্থিক শর্ত মেটাতে পারবে না বলেই নাকি এআইএফএফ জাভির আবেদন বিবেচনার মধ্যেই রাখেনি। এমন একটা খবরে রীতিমতো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফেডারেশন। এদিকে, জাভি নিজে দাবি করেন, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কাছে এমন কোনও আবেদন আদৌ তিনি করেননি।
তাহলে আসল সত্যিটা কী? এটা কি ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে অপদস্থ করতে কোনও ‘প্র্যাঙ্ক’ অর্থাৎ কেউ মজা করেছে জাভির নামে মেল করে? ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন তাহলে এখন মজার পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে নাকি সকলের? এনিয়ে একটা বিভ্রান্তি রয়েই গেছে, যতই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হোক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ভারতীয় ফুটবল ডিরেক্টার সুব্রত পাল ও টেকনিকাল কমিটির চেয়ারম্যান আইএম বিজয়ন জানিয়েছিলেন, জাভির আবেদনপত্র তাঁরা পেয়েছেন। কিন্তু সেই আবেদনপত্রে কোনও ফোন নাম্বার না থাকায়, সকলের মনেই একটা সন্দেহ জাগে। আবেদন পত্রটি কতটা সঠিক তা নিয়ে। তাই তাঁরা গোটা ব্যাপারটা খতিয়ে না দেখে ওই আবেদন নিয়ে আর ভাবতে চাননি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয় কোচের খালি পদ পূরণ করতে।
টেকনিকাল কমিটির চেয়ারম্যান আইএম বিজয়ন বলেই দেন, ‘ জাভি আবেদন করলে, আমরা সেটা বিবেচনা না করেই খারিজ করে দেব, এমন মূর্খতা ফেডারেশনের কেউ দেখাবে না। যতই ফেডারেশনের আর্থিক সমস্যা থাক না কেন, জাভি ভারতের কোচ হতে চাইলে , সেটা গর্বের ব্যাপার। আমরা জাভির সঙ্গে কথা বলতাম, তাঁর আর্থিক দাবি কতটা পূরণ করা সম্ভব, তা নিয়ে কথা বলতাম। এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবল দলের এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের গুরুত্বপূর্ণ বাকি ম্যাচের জন্য অস্থায়ী ভাবে কোচ নিয়োগের ব্যাপারে সকলে একমত। এই কারণে খাদিল জামিল, স্টিফেন কনস্টানটাইনের মতো ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে পরিচিত কোচদের শর্টলিস্ট করা হয়েছে। একইসঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ে স্থায়ী কোচ নিয়োগ কখন কীভাবে করা সম্ভব , সেটা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু জাভির আবেদন ঘিরেই একটা ধোঁয়াশা ছিল। সেটা জাভির পাঠানো কিনা আদৌ, তা নিয়ে সন্দেহ দানা বাধে নানা কারণে। তাই এনিয়ে আমরা আর এগোইনি।’
এরপরই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনো প্রচারমাধ্যমকে জানায়, জাভি ফার্নান্ডেজ ও পেপ গুয়ারদিওয়ালার ভারতীয় কোচ হওয়ার আবেদন তারা পেয়েছে। কিন্তু যে মেল থেকে এই আবেদন এসেছে, তার বৈধতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দেয়। আবেদনেও নানা ফাঁক ছিল। তাই এই আবেদনগুলি বিবেচনার প্রশ্নই ওঠেনি, খারিজ করা দূরে থাক। ভারতীয় ফুটবলের ভালর জন্য যেটা সঠিক মনে হবে, সেটাই করবে ফেডারেশন।
যাবতীয় বিভ্রান্তি সরিয়ে রেখে আপাতত এটুকু জোর দিয়ে বলা যায়, সুনীলদের কোচ হওয়ার জোরালো দাবিদার এখন খালিদ জামিল। আইএসএল শুরু না হওয়া পর্যন্ত খালিদই ভারতীয় দলের কোচের পদে থাকবেন, তারপর পরিস্থিতি বুঝে ফিরে আসবেন জামশেদপুর এফসির কোচের ভূমিকায়। অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফুটবল দল না জিতলে, এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যাবে সুনীলদের। সেক্ষেত্রে পরের দু’বছর ভারতীয় সিনিয়র দলের জন্য সামনে আর বড় কোনও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থাকবে না। নিজেরা ঘরে কোনও টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে না পারলে, বা বাইরে মারডেকা, কিংস কাপের মতো টুর্নামেন্ট খেলার আমন্ত্রণ না পেলে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
