সুচরিতা সেন চৌধুরী : শনিবার ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) ২০২৩-২৪-এর প্রথম কলকাতা ডার্বিতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট বনাম ইস্টবেঙ্গল এফসি ২-৩ ড্র করেছে। অজয় ছেত্রী এবং ক্লিটন সিলভার গোলে দু’বার লিড নেওয়া সত্ত্বেও, রেড এবং গোল্ড ব্রিগেড আইএসএল-এ তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম জয় তুলে নিতে ব্যর্থ। তবে এই ড্রয়ের পরে, কার্লেস কুয়াদ্রাতের ছেলেরা সব প্রতিযোগিতা মিলে তাদের শেষ ১১ ম্যাচে অপরাজিত রয়ে গেল।
ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন ডার্বিতে প্রথম গোল করে নজর কেড়ে নিয়েছেন অজয় ছেত্রী। যিনি এই মরসুমে ইস্টবেঙ্গল এফসি-র হয়ে প্রথমবার প্রথম একাদশে খেলার সুযোগ পেলেন। পুরোদমে সেই সুযোগকে কাজেও লাগালেন তিনি। শৌভিক চক্রবর্তী এবং সল ক্রেসপোর অনুপস্থিতিতে মিডফিল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর গতি, তৎপরতা, স্মার্ট দৃষ্টি এবং পজিশনিং সেন্স দিয়ে, ছেত্রী দলের পারফরমেন্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, হাই ইনটেনসিটির ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল এফসি-এর হয়ে তাঁর প্রথম গোলটি করে ফেলেন যা তাঁর দলকে প্রথমেই এগিয়ে দিয়েছিল। কলকাতা ডার্বিতে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে গোল করার পর নিজের আনন্দ লুকিয়ে রাখতে পারেননি তিনি।
ম্যআচি শেষে মাঠ ছাড়ার সময় ছেত্রী বলেন, “প্রত্যেক ফুটবলারেরই ছোটবেলার স্বপ্ন থাকে কলকাতা ডার্বিতে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে গোল করার। আমার জন্য ৬০ হাজার (প্রায়) সমর্থকের সামনে প্রথম কলকাতা ডার্বিতে গোল করা আমার জন্য একটি স্বপ্ন পূরণ। আমরা তিন পয়েন্ট পেলে আমি আরও খুশি হতে পারতাম, কিন্তু এখন এক পয়েন্ট নিয়ে সন্তুষ্ট।”
২৪ বছর বয়সী রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার নিজের পাশাপাশি দলের খেলায়ও খুশি। “আমরা সবাই আজ খুব ভাল খেলেছি কিন্তু তিন পয়েন্ট পেতে পারিনি। আমরা প্লে-অফের জন্য যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্য রাখি,” তিনি বলেন।
শৌভিক চক্রবর্তী কার্ডের কারণে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি। তাঁর পরিবর্ত কে হবেন তার নিয়ে জল্পনা ছিলই যদিও নতুনদের তুলে আনার পক্ষে কুয়াদ্রাত তাই বার বার তাঁকে দেখা গিয়েছে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভারতীয়দের সুযোগ দিতে। তাঁর এই আস্থার সম্পূর্ণ মর্যাদা রেখেছেন অজয় ছেত্রী তার কঠোর পরিশ্রম এবং মাঠে সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে। তাঁর কোচের বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়েছেন।
“ম্যাচে যেই খেলার সুযোগ পায় সে সবসময় তার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে, সে আমি বা শৌভিক চক্রবর্তীই হোক না কেন। এটা আমাদের দলের স্পিরিট। আমাদের একটি দুর্দান্ত দল রয়েছে এবং প্লে অফে পৌঁছানোর জন্য আমরা ১০০% দেব,” তিনি বলেন ।
কোচকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “কোচ কুয়াদ্রাত একটি অবিশ্বাস্য কাজ করছেন। তিনি আমাদেরকে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করেন। আমরা পরের ম্যাচে তিন পয়েন্টের জন্য যাব। আশা করি, আমরা প্লে অফে থাকব এবং ক্লাবের জন্য আর একটি ট্রফি জেতার চেষ্টা করব।”
অজয় ছেত্রীর প্রশংসা শোনা গেল কোচের মুখেও। বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর উপর আস্থা ছিল বলেই ডার্বির মতো কঠিন ম্যাচে তাঁকে নামিয়ে দিয়েছিলেন। বলছিলেন, “অজয়কে আমি বেঙ্গালুরু এফসি থেকে চিনি ওর প্রতিভা সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল। সেকারণেই ইস্টবেঙ্গলে নিয়ে এসেছিলাম। ওদের সুযোগ দিলে তবেই ভারতীয় ফুটবলারদের পরবর্তী প্রজন্ম তৈরি হবে। অজয়ের খেলায় আমি খুশি।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
