অলস্পোর্ট ডেস্ক: সুপার কাপে রেফারিং নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলের হেড কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত । তার পর তাঁকে ঘিরে সমালোচনা কম হয়নি। হয়তো তাঁকে সাবধানবানীও শুনতে হয়েছিল। সাময়িক তিনি আর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি তেমনভাবে। যদিও তাঁর বিরক্তি বার বার সামনে চলে আসছিল। ডার্বিতে পয়েন্ট নষ্টের জন্যও তিনি এবং হাবাস রেফারিকেই দায়ী করেছিলেন। কিন্তু ডার্বির পোস্ট ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এরিয়ে যান। তবে আইএসএল-এর পরবর্তী ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে আরও একবার রেফারিং নিয়ে বিস্ফোরক কুয়াদ্রাত।
নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে খেলতে শুক্রবারই উড়ে যাবে ইস্টবেঙ্গল এফসি। তার আগে কলকাতায় বৃহস্পতিবার নবাগত ফুটবলার ভিক্টর ভাজকুয়েজকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। সেখানেই আবারও উঠে এল রেফারিং প্রসঙ্গ। যেখানে তিনি স্পষ্টই তাঁর রেফারি নিয়ে আতঙ্কের কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি তাঁর দলের স্ট্রেনথ নিয়ে নিশ্চিত। তিনি জানেন দল আইএসএল-এ কী করতে পারে, কিন্তু তিনি রেফারিং নিয়ে নিশ্চিত নন।
তিনি বলেন, ‘‘ডার্বিতে আমরা তিন পয়েন্ট পেতে পারতাম। যেটা রেফারির জন্য পাইনি। নন্ধাকে বক্সের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু ফাউল দেওয়া হয়নি। এটা খুব পরিষ্কার আমরা বেশ কিছু ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রেফারির জন্য জয় হাতছাড়া করেছি। শেষ ম্যাচেও আমরা তিন পয়েন্ট পেতে পারতাম। সেখানে আমরা দুই পয়েন্ট হারিয়েছি।’’
এর সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে তিনি ২০১৬ থেকে যুক্ত রয়েছেন এবং সেই থেকেই এই সমস্যা বার বার প্রকট হয়ে উঠেছে। ‘‘আমি দীর্ঘদিন ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে রয়েছি সেই ২০১৬ থেকে। অনেক কিছু দেখেছি। সেখানে এও দেখেছি যে একটি দলকে পেনাল্টি দেওয়া হলে প্রতিপক্ষ দলকেও না থাকলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, একটি দলের প্লেয়ারকে লাল কার্ড দেখানো হলে প্রতিপক্ষ দলের প্লেয়ারকেও শেষবেলায় গিয়ে লাল কার্ড দেখানো হবে। এটাই এখানের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম। এটা এখানে চলে আসছে যা আমি অন্য দেশে দেখিনি। যেটা হারতে থাকা দলকে রক্ষা করে,’’ বলেন তিনি।
কুয়াদ্রাত ডার্বির প্রসঙ্গ বার বার টেনে এনেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যে দল পিছিয়ে থাকে তাদের টেনে খেলায় রেফারি। তিনি বলেন, ‘‘আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যদি সেদিন মোহনবাগান ২-১-এ ম্যাচে এগিয়ে থাকত তাহলে যখন সাহাল নন্ধাকে বক্সের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল তখন রেফারি বাঁশি বাজিয়ে (বাঁশি বাজানোর অঙ্গভঙ্গি করে) সেটিকে ফাউল দিতেন। আমি ১০০ শতাংশ নিশ্চিত যদি মোহনবাগান সেই সময় এগিয়ে থাকত যখন পেত্রাতোস সায়নকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় তাহলে তার কার্ড হত। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ম্যাচ চালিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’’
‘‘আমি চূড়ান্ত অখুশি। ড্র আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। আমরা ম্যাচ জিততে চাই, তিন পয়েন্ট পেতে চাই। তিন, চারটে ম্যাচ ছিল যেখানে আমরা নিশ্চিত তিন পয়েন্ট পাইনি শুধুমাত্র রেফারির বদান্যতায়,’’ আক্রমণাত্মক কার্লেস কুয়াদ্রাত টানা রেফারিং নিয়ে তাঁর ক্ষোভের কথা তুলে ধরলেন আইএসএল-এর অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার আগে। টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে ইস্টবেঙ্গল তবুও লিগ তালিকার উপরের দিকে উঠে আসার সুযোগ হয়েনি এখনও। যদিও এই পারফর্মেন্স মাঝখানে তাদের সুপার কাপ জিততে সাহায্য করেছে। কিন্তু সব কিছুর পরও রেফারির বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ যেন যাচ্ছেই না।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
