সুচরিতা সেন চৌধুরী: রাত পোহালেই ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল। ইস্টবেঙ্গলের পতিপক্ষ ডায়মন্ড হারবার। একদিকে অস্কার ব্রুজোঁ তো অন্যদিকে কিবু ভিকুনা। দুই অভিজ্ঞ কোচের ট্যাকটিক্সের লড়াই বুধবার দেখা যাবে ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনালে। মঙ্গলবারের প্রি-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে দুই কোচের মুখেই তাই শোনা গেল আত্মবিশ্বাসের সুর। যখন ডাযমন্ড হারবার কোচ বলছেন, “ওরা ভালো দল হলে, আমরাও ভালো, না হলে এখানে থাকতাম না।” আর ইস্টবেঙ্গল কোচ কিন্তু বলছেন, “ওদের কোচ খুবই অভিজ্ঞ, এই ম্যাচ ট্রিকি হতে চলেছে।” মানে দুই কোচের মগজাস্ত্রের আস্ফালন দেখা যাবে বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।
অস্কার মুখে যদিও বলছেন এই ম্যাচ তাদের জন্য যতটা কঠিন, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ, এখনও স্বস্তির কোনও জায়গা নেই কিন্তু ডার্বি জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল। যে আত্মবিশ্বাস এই মরসুমের শুরু থেকেই দেখা গিয়েছে অস্কার ব্রুজোঁর দলের মধ্যে। আর মাত্র দুটো ম্যাচ, জিতে নিতে পারলেই কেল্লাফতে। তবে ডার্বি জয়ের হ্যাংওভার যে এখনও কাটেনি তাঁর দলের তা স্বীকার করে নিচ্ছেন কোচ। তবে দলের আত্মবিশ্বাসের পুরো প্রভাব দেখা গিয়েছে ডুরান্ড কাপের কলকাতা ডার্বিতে। যেখানে ৫৬ হাজারের গ্যালারির সামনে দাপুটে ফুটবল খেলে ২-১ গোলে ডার্বি জিতে নিয়েছে তাঁর দল। এবার সেমিফাইনাল।
কোচ বলেই দিচ্ছেন, “আমাদের কাছে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। একটা হাইভোল্টেজ ম্যাচ খেলার দুই দিনের মধ্যেই সেমিফাইনাল খেলতে নামতে হচ্ছে। সব প্রতিপক্ষ সম্পর্কেই আমি ম্যাচের আগে জানার চেষ্টা করি। কলকাতা লিগ, ডুরান্ডে ওদের খেলা দেখেছি। জেনেছি। আমাদের জন্য পরিস্থিতি সহজ হবে না।” তবে বিদেশির নিরিখে কিন্তু অনেকটাই এগিয়ে থাকবে ইস্টবেঙ্গল। কারণ ডায়মন্ড হারবার দুই বিদেশি নিয়ে খেলবে, আর অন্য ইস্টবেঙ্গলের ভরা সংসার হলেও, হামিদের চোট, রশিদের দেশে ফিরে যাওয়া দলের জন্য বড় ধাক্কা তো বেটেই। সেদিক থেকেই এই ম্যাচকে ট্রিকি বলে ব্যাখ্যা করছেন অস্কার ব্রুজোঁ।
ডার্বিতে হামিদকে দিয়ে শুরু করলেও চোটের জন্য তাঁকে ১৭ মিনিটেই তুলে নিয়ে দিয়ামান্তাকসকে নামাতে বাধ্য হন কোচ। যদিও দুই গোল করে কোচের মান রেখেছেন তিনি। আর ইস্টবেঙ্গলের প্রতিটি ফুটবলারের পারফর্মেন্স যে আলাদা আলাদা করে লক্ষ্য করেছেন কিবু ভিকুনা তা তাঁর কথাতেই স্পষ্ট। অস্কারের দলকে ভালো মতোই স্টাডি করেছেন তিনি। তাই সহজ হবে না। লড়াই দেবে প্রতিপক্ষ। তবে ধারে, ভাড়ে, ইতিহাসে, সব দিক থেকেই এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। আর এটাইকেই বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন অস্কার ব্রুজোঁ।
ডার্বির দলে যে কিছু পরিবর্তন আনবেন তিনি তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। রশিদের দেশ থেকে ফিরে সেমিফাইনালে খেলার খবরে ছেয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া, তা খুব ভালো করে জানেন অস্কার। তাই কিছুটা বিরক্ত হলেও মুখে ব্যাঙ্গাত্মক ঢঙেই বলে দিলেন, “আমার আগেই আমার দলের খবর সবাই জানে দেখছি।” তবে যেই থাকুক না কেন, জয়ের ধারার ধরে রাখাটাই তাঁর মূল লক্ষ্য। বলছিলেন, “আমরা আমাদের খেলাটা ধরে রাখতে চাই। দলে কী পরিবর্তন আসবে তা সর্বসমক্ষে জানাতে চাই না। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে কিছু পরিবর্তন করতে হলে হবে।”
এদিকে সেমিফাইনালে খেলতে নামার আগে দলের ছয় প্লেয়ারের কার্ড ভাবাচ্ছে অস্কারকে। সেই তালিকায় রয়েছে তিন বিদেশি সল ক্রেসপো, দিয়ামান্তাকস, মিগুয়েলও। ভারতীয়দের মধ্যে কার্ড রয়েছে সৌভিক চক্রবর্তী, মহম্মদ রাকিপ আর লালচুংনুঙ্গার। সকলেই দলের গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার। আর একটা কার্ড দেখলেই ফাইনাল থেকে ছিটকে যাবে এই ছয় প্লেয়ার। সেকারণে সাবধানী অস্কার ব্রুজোঁ। এখন একটাই লক্ষ্য, সেমিফাইনালে ডায়মন্ডহারবারকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পৌঁছনো।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
