সুচরিতা সেন চৌধুরী, মন্দারমণি: বাংলার ফুটবল দলগুলোতে বাঙালি ফুটবলের অভাব নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বরং ক্রমশ কমছে বাঙালি ফুটবলারের সংখ্যা। হারিয়ে যাচ্ছে ভীন রাজ্যের প্লেয়ারদের ভিড়ে। গত কয়েকবছর বাংলার দুই বড় ক্লাব ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের প্রথম একাদশে মাত্র একজন করে বাঙালি ফুটবলারকে খেলতে দেখা গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলে শৌভিক চক্রবর্তী ও মোহনবাগানে শুভাশিস বোস। বাঙালির ফুটবলারের এই হাহাকারের মধ্যেই মুখ খুললেন শৌভিক চক্রবর্তী।
তাঁর অধিনায়কত্বে দলের সাফল্য, ব্যর্থতা
এরকম নয় যে গত বছর আমি একা অধিনায়ক ছিলাম। অনেকেই ঘুরে ফিরে অধিনায়ক হয়েছে। এই বছর এখনও ঠিক হয়নি কে অধিনায়ক হবে। তব একজন সিনিয়র প্লেয়ার হিসেবে বলতে পারি অবশ্যই ট্রফি সব সময় প্রথম লক্ষ্য। আর নিজের পারফর্মেন্সের পাশাপাশি যদি দলের হয়ে ট্রফি জেতা যায় তাহলে সেটা তো ভাল লাগেই। কিন্তু ট্রফি না পাওয়াটা কষ্টের। চেষ্টা করব সামনের বছর যাতে আরও ভালো খেলতে পারি।
কোথায় সমস্যা হচ্ছে
আমাকে যদি ব্যক্তিগত ভাবে জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে বলব ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি। খুব ভাল দল তৈরি করা হয়েছি তাও সাফল্য এল না সেখানে তো সবারই লাক একটা ফ্যাক্টর হয়ই। আশা করি সামনের বছর সেটা কেটে যাবে।
কার্লস কুয়াদ্রাত না অস্কার ব্রুজোঁ
আমি ছোটবেলা থেকে অনেক কোচের কাছে খেলেছি। কারও ভুল, ঠিক বলাটা আমার স্বভাব নয় বা তুলনাও করতে চাই না। আমি ওরকম নই যে আমি তুলনা করব, আমি যোগ্য নই। কার্লোস ও অস্কার, দু’জন দুই রকম। আমি সবার কাছ থেকে শিখি। কার্লোস ভাল ছিলেন। অস্কারও খুব ভালো, খুব সাহসি। আশা করব ওনার সঙ্গে এবার রেজাল্ট দিতে পারব।
মাঝ মাঠে পছন্দের সঙ্গী কে
এরকম অনেকেই আছে। দেশি বিদেশি অনেকেই আছে। জর্জ হেক্টর, সাউল (ক্রেসপো), প্রণয় (হালদার), এর আগে ছিল শেহনাজ, লালদা (লালকমল ভৌমিক), (মহম্মদ) আসিফ বলে একজন প্লেয়ার ছিল, সাহিল, রেইনারদের মতো অনেকের সঙ্গে ভালো সময় কেটেছে মাঝমাঠে। দিল্লিতে একজন দারুণ প্লেয়ার ছিল মার্কোস তেবর। অনেক ভালো মিডফিল্ডারের সঙ্গে ভাল বোঝাপড়া ছিল মাঝমাঠে। তবে বাঙালি হওয়ায় আর প্রণয়ের সঙ্গে যেহেতু আমার খুব ভাল সম্পর্ক সেক্ষেত্রে ওর সঙ্গে বোঝাপড়াটা খুব ভাল ছিল। জোয়া ভিক্টরের সঙ্গে আইএসএল পেয়েছিলাম সেহেতু সেটাও আছে।
বাঙালি ফুটবলারের অভাব
আমি একজন বাঙালি হিসেবে চাইব বাঙালি ফুটবলারের সংখ্যা বাড়ুক। আমি জানি না অতীতে সবাই এভাবে চেয়েছিলেন কিনা। তবে আমার মনে হয় যদি চাইতো তাহলে এই ক্রাইসিস হতো না। আমার ব্যক্তিগতভাবে সেটা মনে হয়। আমাদের ব্যাচে যাঁরা ছিল দেবজিৎ, প্রণয়, প্রবীর, সেই সময় বাঙালির থেকেও বেশি একটা টিম বন্ডিং তৈরি হয়েছিল। যেটা এখন খুব কম। যদি এখন সরকার এবং প্রত্যেক ক্লাব গ্রাসরুট ম্যানেজমেন্ট তৈরি করার উদ্যোগ নেয় হয় তাহলে আগামী পাঁচ বছরে আবার এরকম একগুচ্ছ বাঙালি ফুটবলার উঠে আসতে পারে। সেটা না হলে এক, দু’জন করে হয়তো উঠবে কিন্তু অনেক উঠবে না। মেহেতাবদাদের ব্যাচ, সন্দীপদাদের ব্যাচে বা আমাদের সময়ে এক সঙ্গে যেভাবে প্লেয়ার উঠেছে তেমনটা হবে না।
আইএসএল-এর গুরুত্ব ভারতীয় ফুটবলে
অনেক লাভ হয়েছে আইএসএল আসায়। একজন প্লেয়ার হিসেবে আমরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। প্রথম যখন আইএসএল আসে আর এখন অনেক বদলে গিয়েছে। আমরা এত ভালো প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডই পেতাম না অনুশীলনের জন্য। আমরা কী খাব সেটাও ঠিক ছিল না। তর্কের খাতিরে বলতে পারি এটা ঠিক আমরা সিনিয়র ইন্ডিয়ায় তেমন কিছু করতে পারিনি, তার কারণ আইএসএল নয়, তার কারণ গ্রাসরুট পরিকল্পনা। আজকের ৭-৮ বছর থেকে শুরু করলে তবে গিয়ে একটা সাফল্যের কথা ভাবা যাবে বিশ্ব স্তরে। এটা একটা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। যারা দায়িত্বে রয়েছেন , সরকার, ক্লাব, সবাইকে এই নিয়ে ভাবতে হবে।
ড্রেসিংরুমে সিনিয়রদের দায়িত্ব
একজন সিনিয়র হিসেবে একটা দায়িত্ব তো থাকেই। কোচ বা অফিসিয়াল সব সময় চায় যাতে ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা ভালো থাকে। আর সেটাই আমাদের মতো সিনিয়রদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আগামী মরসুমের লক্ষ্য
লক্ষ্য একটাই, নিজে ভালো খেলা আর দলকে সাফল্য এনে দেওয়া।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
